- শিক্ষা ও আবাসন ব্যয় দাম বাড়ায় দেশে দেশে ফুঁসে উঠেছে জেন–জিরা
- ফ্রান্স-ইতালিতে গণবিক্ষোভ ঘিরে সংঘর্ষ, হাজারো শিক্ষার্থী গ্রেফতার
ফ্রান্স থেকে ইতালি, স্পেন থেকে সার্বিয়া, পর্তুগাল থেকে গ্রিস এবং আলবেনিয়া- বিক্ষোভের আগুনে পুড়ছে ইউরোপের বড় একটি অংশ। উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজপথ। বিক্ষোভের কেন্দ্রে মূলত তরুণেরা। জেনারেশন জেড বা জেন–জিদের এই ক্ষোভে ইউরোপের অনেক দেশ এখন অগ্নিগর্ভ। ইউরোপীয় জেন–জিদের ক্ষোভের বড় দুটি কারণ—শিক্ষা ও আবাসন খাতের সংকট। এর বাইরেও কয়েকটি কারণ আছে। এর মধ্যে রয়েছে ক্রমেই অনিশ্চিত হয়ে পড়া চাকরির বাজার। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) কারণে, বিশেষ করে কর্মজীবনের শুরুর দিকের চাকরিগুলো বেশি ঝুঁকিতে পড়ছে। পাশাপাশি রয়েছে জলবায়ুর সংকট।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) যেসব দেশে বিক্ষোভের উত্তাপ বেশি, সেগুলোর মধ্যে আছে গ্রিস, ইতালি, ফ্রান্স, বেলজিয়াম, স্পেন ও পর্তুগাল। এর মধ্যে ফ্রান্সজুড়ে গণবিক্ষোভের পর শনিবার দিনের শেষভাগে প্যারিসসহ কয়েকটি শহরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনায় প্রায় এক হাজার জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে গত সপ্তাহান্তের মতো ব্যাপক দাঙ্গা ও লুটপাটের পরিস্থিতি এবার এখন পর্যন্ত এড়ানো গেছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। আলবেনিয়ার রাজধানী তিরানায় সরকারবিরোধী হাজারো বিক্ষোভকারীকে ছত্রভঙ্গ করতে দাঙ্গা পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসেও সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। উত্তর ইতালির মিলানে পুলিশ ও শত শত সেনাসদস্যের সমন্বয়ে বড় ধরনের নিরাপত্তা অভিযান চালানো হয়। গত সপ্তাহের সহিংসতার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে বিক্ষোভকারীদের শহরে জড়ো হওয়া থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করে কর্তৃপক্ষ। গত সপ্তাহে সেখানে কয়েকজন বিক্ষোভকারী আগুন ধরিয়ে দিয়েছিলেন, জানালার কাচ ভেঙেছিলেন এবং দোকানপাটে লুটপাট চালিয়েছিলেন। আলবেনিয়ায়ও কয়েক মাস ধরে দফায় দফায় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ চলছে। দেশটিতে বিলাসবহুল স্থাপনা নির্মাণের একটি পরিকল্পনা থেকে এ বিক্ষোভের শুরু। ওই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা ও উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনারও জড়িত। এদিকে ফ্রান্স ও স্পেনের প্রধান শ্রমিক সংগঠনগুলো যথাক্রমে ৫ ও ১১ নভেম্বর ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। ‘জেন–জেড রেগেল্ট’ সংগঠন ৩১ অক্টোবর জার্মানিজুড়ে বিক্ষোভ করবে। শিক্ষার ব্যয় বেড়ে যাওয়ার প্রতিবাদে ২০ নভেম্বর এক দিনের কর্মসূচি পালনের পরিকল্পনা করছে ইতালি ও যুক্তরাজ্যের শিক্ষার্থী সংগঠনগুলো।
দেশে দেশে জেন–জিরা ফুঁসে উঠেছে
জেনারেশন জেড বা জেন–জিদের বিক্ষোভে ইউরোপের অনেক দেশ এখন অগ্নিগর্ভ। কোথাও অতিরিক্ত খরচে নিম্নমানের শিক্ষা নিয়ে ক্ষুব্ধ তরুণেরা। কোথাও–বা আবাসনসংকট ও বাড়তি আবাসন ব্যয় নিয়ে ক্ষোভ এই জেন–জিদের রাজপথে নামিয়ে এনেছে। কেউ কেউ শিক্ষা খাতে বাড়তি সরকারি বরাদ্দের দাবিতে সোচ্চার। কেউবা জীবনযাত্রার বাড়তি খরচ নিয়ে হতাশ ও বিক্ষুব্ধ। জেন–জিদের এসব হতাশা, ক্ষোভ ও প্রতিবাদ চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের সরকারকে। সেই সঙ্গে এটাও স্পষ্ট হয়েছে, বিভিন্ন প্রজন্মের মধ্যে যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে, তার বড় অংশই এখন জেন–জিরা।
কারণ ভিন্ন হলেও প্রতিটি বিক্ষোভের মূলে একটি জিনিস—অসন্তোষ থেকে সৃষ্ট ক্ষোভ। নানা বিষয় নিয়ে শুরুতে ক্ষোভ জমছে। এরপর সেটা রূপ নিচ্ছে একটি প্রজন্মের সম্মিলিত প্রতিবাদে। ইউরোপীয় তরুণদের মনে আশঙ্কা, তাঁদের মা–বাবার প্রজন্ম যেসব সুযোগ–সুবিধা পেয়েছে, তাঁরা আর সেসব পাবেন না। এক দেশের জেন–জি বিক্ষোভ অন্য দেশের তরুণদের রাজপথে নামতে অনুপ্রাণিত করেছে। ইতালি ও গ্রিসের তরুণ বিক্ষোভকারীরা রাজপথের স্লোগানে ফরাসি বিক্ষোভকারীদের কথা বলেছেন এবং সংহতি জানিয়েছেন। স্পেনে আবাসন নিয়ে শুরু হওয়া বিক্ষোভের ঢেউ পর্তুগালেও ছড়িয়েছে।
বিক্ষোভের উত্তাল এ সময়ে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থী সংগঠনগুলো নিজেদের অভিজ্ঞতা আর পরামর্শ পরস্পর ভাগ করে নিচ্ছে বলে সিএনএনকে জানান ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের প্রধান সংগঠন ইউএনইএফের ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যালিস দ্য ব্রিতো। অ্যালিস বলেন, ‘আমি তফাতের চেয়ে বরং মিল বেশি দেখছি। আমরা সবাই শিক্ষা খাতে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় এবং সামগ্রিকভাবে তরুণদের জন্য বিনিয়োগ বাড়ানোর কথা বলছি। একই সঙ্গে জীবনযাত্রার বাড়তি ব্যয় ও আবাসনের খরচ নিয়ে আমরা কথা বলছি।’ অনেকটা একই সুরে কথা বলেন ইতালির ছাত্রনেতা সাবরিনা ব্রিজোলা। গত সপ্তাহান্তে এক সমাবেশে তিনি বলেন, ‘আমরা এমন বিদ্যালয় চাই, যেগুলোর ছাদ ধসে আমাদের মাথায় পড়বে না। আমরা নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ কাজ চাই। চাই, সরকারি স্বাস্থ্যসেবা আর সামাজিক ন্যায়বিচার। আসুন, আমরা আমাদের দাবির পক্ষে সোচ্চার হই।’
জুলিয়াস ফিন্টেলমান ইউরোপীয় সংবাদমাধ্যম ‘ইউরোপিয়ান করেসপনডেন্ট’–এর দৈনিক নিউজ লেটারের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান সম্পাদক। তিনি বলেন, ‘বিক্ষোভের মধ্য দিয়ে এত দিনের জমে থাকা হতাশা প্রকাশ পাচ্ছে। ইউরোপের রাজনীতি পরবর্তী প্রজন্মের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারছে না—এমন অনুভূতি বিক্ষোভগুলোয় প্রতিফলিত হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ইউরোপীয় জেন–জিদের ক্ষোভের বড় দুটি কারণ—শিক্ষা ও আবাসন খাতের সংকট। এর বাইরেও কয়েকটি কারণ আছে। এর মধ্যে রয়েছে ক্রমেই অনিশ্চিত হয়ে পড়া চাকরির বাজার। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) কারণে, বিশেষ করে কর্মজীবনের শুরুর দিকের চাকরিগুলো বেশি ঝুঁকিতে পড়ছে। পাশাপাশি রয়েছে জলবায়ুর সংকট।
জুলিয়াস ফিন্টেলমান সিএনএনকে বলেন, ‘মৌলিকভাবে আমরা দেখছি, উদার গণতন্ত্রের প্রতিশ্রুতি ভেঙে পড়ছে। সেই প্রতিশ্রুতি ছিল—পরবর্তী প্রজন্ম বর্তমান প্রজন্মের চেয়ে ভালো জীবন পাবে। কিন্তু সেটা এখন আর সত্য বলে মনে হচ্ছে না।’ তার ভাষ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) যেসব দেশে বিক্ষোভের উত্তাপ বেশি, সেগুলোর মধ্যে আছে গ্রিস, ইতালি, ফ্রান্স, বেলজিয়াম, স্পেন ও পর্তুগাল। এসব দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি খুব একটা ভালো নয়। দেশগুলোর জাতীয় ঋণের পরিমাণও বেশি। ফলে সরকারি বরাদ্দ বাড়ানো কঠিন হয়ে পড়েছে। উদাহরণ হিসেবে ফ্রান্সের কথা বলা যায়। গত বুধবার দেশটিতে সরকারি বন্ডের মুনাফার হার ২০০২ সালের পর সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছে। এতে সরকারের বাজেটের ওপর চাপ আরও বেড়েছে।
সীমানা ছাড়িয়ে বিক্ষোভ
শিক্ষা নিয়ে জেন–জিদের অসন্তোষ ইউরোপের বিভিন্ন দেশের সীমানা ছাড়িয়ে ছড়িয়ে পড়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনের তথ্য, এথেন্সসহ গ্রিসের বিভিন্ন জায়গায় হাজারো শিক্ষার্থী ও শিক্ষক বিক্ষোভ করেছেন। বিক্ষোভকারীরা এথেন্সে পার্লামেন্ট ভবনের সামনে জড়ো হন। এ সময় তাঁরা স্লোগান দেন, ‘গ্রিস থেকে ফ্রান্স—আমরা বিনা মূল্যের সরকারি শিক্ষা চাই।’
ইতালির রাজধানী রোমে ৭ অক্টোবর একটি হাইস্কুলে বিক্ষোভ শুরু হয়। আন্দোলনে নামা শিক্ষার্থীরা নিজেদের অবস্থানের কথা জানিয়ে একটি বিবৃতি দেয়। বিবৃতির শুরুতেই লেখা ছিল, ‘ফ্রান্সের মতো’।
ইতালি সরকার বারবার বলার চেষ্টা করছে, ফ্রান্সে চলমান বিক্ষোভের সঙ্গে ইতালিতে সংঘটিত বিক্ষোভের মিল নেই। চলতি মাসের শুরুর দিকে ইতালির শিক্ষামন্ত্রী জুসেপ্পে ভালদিতারা বলেন, ‘ইতালির পরিস্থিতি ফ্রান্সের চেয়ে অনেক আলাদা।’ ফ্রান্সের বিক্ষোভের পেছনে দ্বিতীয় প্রজন্মের অভিবাসীদের শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর জটিলতার ভূমিকা রয়েছে বলে দাবি করেছেন ফরাসি কট্টর ডানপন্থীরা। অন্যদিকে ইতালির শিক্ষামন্ত্রী বলেন, তাঁদের দেশে এমন কোনো সমস্যা নেই।
তবে আবাসনসংকট এমন একটি সমস্যা, যা নির্দিষ্ট একটি দেশের সীমানা ছাড়িয়ে ইউরোপজুড়ে জেন–জিদের আন্দোলনে প্রভাব ফেলছে। ইতালির বিক্ষোভকারীরা জানিয়েছেন, তাঁরা স্পেনের আবাসন আন্দোলনের দিকে নিবিড়ভাবে নজর রাখছেন। গত সেপ্টেম্বর থেকে স্পেনে এ আন্দোলন জোরালো হয়ে ওঠে। পরে চাপে পড়ে শেষ পর্যন্ত আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দিতে বাধ্য হয়েছে দেশটির সরকার। রোমে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা সিএনএনকে বলেন, সাশ্রয়ী আবাসনের সঙ্গে মানসম্মত শিক্ষার গভীর সম্পর্ক রয়েছে।
এলিসা পাস্তোরে থাকেন রোমে। তিনি ও তাঁর ভাই একই কক্ষে থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছেন। এলিসা বলেন, ওই কক্ষের ভাড়া দিতে তাঁদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। এই শিক্ষার্থী জানান, বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের শুরুর দিকে তাঁর ভাই যখন রোমে আসেনি, ওই সময় খরচ বাঁচাতে তিনি রাজধানীর বাইরের একটি এলাকায় বসবাস করতেন। সেখান থেকে নিয়মিত ক্যাম্পাসে যাতায়াত করতেন। জায়গাটি রোম থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার বা ৭৫ মাইল দূরে ছিল।
পর্তুগালের রাজধানী লিসবনের ব্যস্ততম রোসিও চত্বরে চলতি সপ্তাহের প্রতিদিন সন্ধ্যায় জড়ো হয়েছেন হাজারো মানুষ। তাঁদের কেউ কেউ সেখানে তাঁবু টানিয়েছেন। গত মঙ্গলবার ভোরে সেখান থেকে ৫৫ জনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনার পর নতুন করে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে।
সেখানে বিক্ষোভকারীদের হাতে বিভিন্ন স্লোগান লেখা পতাকা দেখা গেছে। একটি পতাকায় লেখা ছিল, ‘কাসাস পারা মোরার’। অর্থ ‘বসবাসের জন্য বাড়ি চাই’। বাড়িভাড়া বৃদ্ধির ওপর সীমা নির্ধারণ ও ভাড়াটেকে উচ্ছেদ আরও সহজ করে পাস হওয়া নতুন আইন বাতিলের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
ইরানে যুদ্ধ চলছে। বিশ্বজুড়ে এর প্রভাব পড়েছে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরবরাহ কমে আসায় দেশে দেশে জ্বালানিপণ্যের দাম হু হু করে বেড়েছে। ইউরোপে চলমান বিক্ষোভে এর প্রভাব রয়েছে।
শুধু তরুণ ও শিক্ষার্থীরা নন, ইতালির ট্রাকচালকেরাও বিক্ষোভে নেমেছেন। জ্বালানি সরবরাহ কমায় তাঁদের কাজ ও আয় কমেছে। সেই সঙ্গে বাড়তি দামে জ্বালানি কিনতে গিয়ে প্রায় সব পণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়ে উঠেছে। ক্ষুব্ধ ট্রাকচালকদের অবরোধে ইতালিতে মহিষের দুধের তৈরি মোজারেলা পনির এবং বেশ কিছু ধরনের পাস্তা উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে।
শিক্ষাসংকট যেমন দেশে দেশে বিক্ষোভরত তরুণ ও শিক্ষার্থীদের এক কাতারে এনেছে, তেমনি আবাসনসংকটের মতো সমস্যাগুলো বিক্ষুব্ধ বিভিন্ন প্রজন্মের ব্যবধান উতরে গেছে। এসব ইস্যুতে তরুণদের পাশাপাশি বয়স্করাও বিক্ষোভে সামিল হচ্ছেন।
আলবেনিয়া ও সার্বিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে জেন–জিদের বিক্ষোভ চলছে। বিক্ষোভকারীদের অন্যতম দাবি—দুর্নীতি দমন। তবে এসব বিক্ষোভ এখন সরকার পতনের দাবির দিকে অনেকটাই এগিয়ে গেছে।
গত সপ্তাহে আলবেনিয়ার বিক্ষোভ সহিংস হয়ে ওঠে। বিক্ষোভকারীরা প্রধানমন্ত্রী এদি রামের পদত্যাগের দাবি তুলেছেন। প্রধানমন্ত্রী সেটা প্রত্যাখ্যান করেছেন। পাল্টা অভিযোগ তুলেছেন, বিক্ষোভকারীরা দেশকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্য করার পরিকল্পনা বাধাগ্রস্ত করতে চাইছেন। একই সঙ্গে অস্থিরতার জন্য রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দায়ী করেছেন তিনি।
আলবেনিয়ায় এক বিক্ষোভকারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে রয়টার্সকে বলেছেন, ‘আমরা পরিবর্তন চাই। এ জন্য আমরা এখানে (রাজপথে) এসেছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বিপ্লব চাই। নতুন সরকার চাই। সমঝোতার জন্য আমরা আসিনি। যত দ্রুত সম্ভব, আমাদের নতুন সরকার প্রয়োজন।’ সার্বিয়ার রাজনীতিতে দুই বছর ধরে ব্যাপক প্রভাব ফেলছে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ। আজ রোববার দেশটিতে পার্লামেন্ট নির্বাচন হচ্ছে। দীর্ঘদিনের শাসক আলেকসান্দার ভুসিচের জন্য এবারের বিক্ষোভ সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।
শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ছড়িয়েছে সবার মাঝে
ফ্রান্সে বিক্ষোভের শুরুটা শিক্ষার্থীদের হাত ধরে। শিক্ষক সংকট, বিদ্যালয়ের চরম দুরবস্থা, জীবনযাত্রার বাড়তি ব্যয় ও সরকারি ব্যয় সংকোচনের প্রতিবাদে জেন–জিরা রাজপথে নামেন। সমর্থন জানান শিক্ষকদের আন্দোলনে। শিক্ষার্থী সংগঠন ইউএনইএফ শনিবারের মিছিলটির আয়োজন করে। প্যারিসের মিছিলে যোগ দেন দেশের অন্যতম বড় শ্রমিক সংগঠন সিজিটি, কৃষক, জলবায়ুকর্মী ও ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলনের সদস্যরা। এই বিক্ষোভ থেকে সহিংসতা, লুটপাট ও গণগ্রেফতারে পুরো ফ্রান্স উত্তাল হয়ে উঠেছে।
ফ্রান্সে এটা নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর সময়। গত নয় বছর ধরে প্রতিবার সেপ্টেম্বর–অক্টোবরে দেশটিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ হয়ে আসছে। তরুণ শিক্ষার্থী যখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় গিয়ে দেখেন, পর্যাপ্ত শিক্ষক ও ভালো সরঞ্জাম নেই, তখন ক্ষুব্ধ হয়ে বিক্ষোভে নামেন বলে জানান শিক্ষার্থীদের প্রধান সংগঠন ইউএনইএফের ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যালিস দ্য ব্রিতো। তবে এবার বিক্ষোভের ব্যাপকতা বেড়েছে। শ্রেণিকক্ষের সংকট কাটানো, শিক্ষকদের জন্য বরাদ্দ বাড়ানো ও জলবায়ুর সংকট মোকাবিলায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়নের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে তরুণদের ওপর পুলিশের সহিংসতা বন্ধেরও দাবি তোলা হয়েছে। অ্যালিস দ্য ব্রিতো বলেন, জবাবের জন্য অপেক্ষা করতে করতে সবাই এখন ক্লান্ত। তবে, ফ্রান্সে ২০১৮ সালে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদেও ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলন শুরু হয়েছিল।
ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে, শনিবার দেশজুড়ে বিক্ষোভে প্রায় ৪ লাখ ১০ হাজার মানুষ অংশ নেন। তবে শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর দাবি, বিক্ষোভকারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৮ লাখ। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং স্কুলগুলোর বেহাল দশার প্রতিবাদে এসব বিক্ষোভ হয়। বিক্ষোভ ঘিরে সহিংসতা ও ভাঙচুর ঠেকাতে দেশজুড়ে প্রায় ৭০ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়। বিভিন্ন শহরে নানা বিধিনিষেধও আরোপ করা হয়। প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে নির্দেশ দিয়েছিলেন, কেবল স্বীকৃত ট্রেড ইউনিয়নগুলোর আয়োজিত বিক্ষোভের অনুমতি দেওয়া হবে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের দায়ে দ্রুত বিচার প্রক্রিয়ায় শত শত মানুষকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ফ্রান্সজুড়ে গত সপ্তাহের বিক্ষোভে ব্যাপক লুটপাট, সহিংসতা ও ধরপাকড় হয়। সেটার পুনরাবৃত্তি এড়াতে সপ্তাহজুড়ে তৎপর ছিল দেশটির কর্তৃপক্ষ। শনিবার প্যারিসে ‘পোর্ত দ’ইতালি’ থেকে ‘পোর্ত দ্য ভিনসেন’ পর্যন্ত পদযাত্রাটি শুরুতে শান্তিপূর্ণ ছিল। পদযাত্রার শেষভাগে বিক্ষোভকারী ও দাঙ্গা পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে। পুলিশের অভিযানে সাধারণত সংগঠিত অপরাধ দমন ও সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রমে নিয়োজিত একটি বিশেষ ইউনিটও অংশ নেয়।
কিছু বিক্ষোভকারীকে অস্থায়ী ব্যারিকেড তৈরি করে পুলিশের দিকে বিভিন্ন বস্তু ছুড়তে দেখা যায়। এ সময় মুখোশধারী তরুণদের একটি দল একটি গাড়ির শোরুমের জানালা ভাঙচুর করলে পুলিশ তাদের ওপর লাঠিচার্জ করে।
এএফপির প্রতিবেদন অনুসারে, ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা লরাঁ নুনেজ বলেন, পদযাত্রার শেষ অংশে কয়েক হাজার উগ্রবাদী কর্মী জড়ো হয়েছিল, যার মধ্যে প্রায় ৫০০ জনকে দাঙ্গাবাজ হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী মার্সেইতে আবর্জনার পাত্রে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় এবং রাস্তা অবরোধে ধাতব পাত ব্যবহার করা হয়। শহরটিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি গাড়িকে জ্বলন্ত ব্যারিকেডের মধ্য দিয়ে যেতে দেখা যায়। বোর্দোতে কালো পোশাক ও মুখোশ পরা কয়েকজন বিক্ষোভকারী একটি ভবন থেকে তক্তা খুলে রাস্তা অবরোধে ব্যবহার করেন। লিওঁ শহরে স্থানীয় প্রশাসনের নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি এলাকায় জড়ো হওয়া জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে। ফ্রান্সের তৃতীয় বৃহত্তম শহরটির এক বিক্ষোভকারী বলেন, আমাদের দলে প্রায় ১৫০ জন ছিলাম, যাদের অধিকাংশই মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। হঠাৎ করেই কাঁদানে গ্যাস ছোড়া শুরু হয়। রাস্তায় তখন কিছুই দেখা যাচ্ছিল না।
দিনের শেষভাগে নুনেজ জানান, প্রায় এক হাজার জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। তিনি আরও জানান, দুজন ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের একজন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তুলুজ শহরে এবং অন্যজন মধ্যাঞ্চলীয় ক্লেরমঁ-ফেরাঁ শহরে আহত হন।
প্যারিসে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে অংশ নেওয়া জেলি নামের এক নারী বিবিসিকে বলেন, মানুষ সত্যিই হতাশ হয়ে রাস্তায় নেমেছে। ম্যাখোঁ ক্ষমতায় আসার পর থেকেই তারা অনেক কষ্টের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ২৬ বছর বয়সী জেলি বলেন, তারা আমাদের চুপ করিয়ে রাখে। তারা আমাদের টাকা নিয়ে নেয়, আমাদের ওপর প্রচুর কর চাপায়, অথচ আমরা কিছুই বলতে পারি না। আজ আমরা রাস্তায় নেমেছি, কারণ অনেক সময় পেরিয়ে গেছে, আর সহ্য করা যাচ্ছে না।
মুখোশধারী দুই কিশোর বিক্ষোভকারী, যারা নিজেদের নাম প্রকাশ করতে চায়নি, জানায়, তাদের প্রজন্ম চরম হতাশায় ভুগছে এবং সরকারের কাছ থেকে পুরোপুরি অবহেলিত বোধ করছে।
শনিবারের বিশৃঙ্খলার বিষয়ে এক বিক্ষোভকারী বলেন, আমার মনে হয় লুটপাট করাটা মোটেও ঠিক নয়। তবে দারিদ্র্য আর পুলিশের সহিংসতার কারণেই এমনটা ঘটছে। আমাদের দাবিগুলোর জবাব না পাওয়া পর্যন্ত এই বিক্ষোভ চলবে। আমরা সত্যিই ফ্রান্সে পরিবর্তন চাই।
এদিকে, উত্তর-মধ্যাঞ্চলীয় অর্লেয়ঁ শহরে কট্টর ডানপন্থি দল ন্যাশনাল র্যালির বিরুদ্ধে আয়োজিত একটি সমাবেশে প্রায় ১৩ হাজার মানুষ অংশ নেন। সমাবেশটি শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়।
ফ্রান্সের মতো একই ধরনের ইস্যুতে শনিবার ইউরোপের আরও কয়েকটি শহরে বিক্ষোভ হয়েছে। স্পেনের বার্সেলোনায় শিক্ষার্থীদের একটি বিক্ষোভ সহিংসতায় রূপ নেয়। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ঘটনাটিকে ‘অকারণে ঘটানো সহিংসতা’ বলে অভিহিত করেছে। এ ঘটনায় ১০০ জনের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গত সপ্তাহান্তে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ার প্রতিবাদে ফ্রান্সে প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পর এসব বিক্ষোভে জনঅসন্তোষ আরও প্রকাশ পায়। এর পরের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে আড়াই হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেফতার করা হয়। তবে, এসব বিক্ষোভের পেছনে দ্বিতীয় প্রজন্মের অভিবাসীদের শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর জটিলতার ভূমিকা রয়েছে বলে দাবি করেছেন ফরাসি কট্টর ডানপন্থীরা।
প্রথম দিকে বিক্ষোভ মিছিলগুলো মূলত শান্তিপূর্ণ থাকলেও পরে সেগুলোর একাংশ সহিংসতা, লুটপাট ও ভাঙচুরে রূপ নেয়। ফ্রান্সজুড়ে দুই হাজারের বেশি দোকানপাট ও অন্যান্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। ফ্রান্সের চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (সিসিআই) জানিয়েছে, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কয়েক শ মিলিয়ন ইউরো হতে পারে।
এএফপির তথ্য অনুযায়ী, পুলিশের ভিড় নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত গ্রেনেডের আঘাতে এক বিক্ষোভকারীর হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এ ছাড়া প্রায় এক হাজার পুলিশ সদস্য আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ফরাসি কর্তৃপক্ষ প্যারিসসহ বিভিন্ন শহরে রাতের বেলা কারফিউ জারি করতে বাধ্য হয়েছে।
ফ্রান্সে ছয় মাস পর প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এমন সময়ে ধারাবাহিক বিক্ষোভ দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রধান প্রার্থীরা চলমান পরিস্থিতির জন্য প্রেসিডেন্ট ম্যাখোঁ ও তার মন্ত্রীদের দায়ী করেছেন।
ফ্রান্সে যে কারণে তুমুল বিক্ষোভ হচ্ছে; স্পেন, গ্রিস, সার্বিয়া কিংবা পর্তুগালে বিক্ষোভের কারণটা আলাদা। স্পেনে বিক্ষোভের শুরু ছোট্ট একটি ঘটনা নিয়ে। ৮৭ বছরের মারিকারমেন অ্যাবাসকালকে তাঁর বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করা হয়। এ ঘটনায় দেশটিতে বাড়িভাড়া বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে সৃষ্ট আবাসনসংকট নিয়ে ক্ষোভ উসকে দেয়।
আবাসন ও জ্বালানির দাম বাড়ায় অগ্নিগর্ভ
সরকারের কঠোর ব্যবস্থার মধ্যেই শনিবার ইতালির বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভে নেমেছেন হাজারো মানুষ। সারা দেশে ব্যাপক নিরাপত্তা মোতায়েন করা হয়েছিল। কয়েকটি জায়গায় সংঘর্ষও হয়েছে। এ বিক্ষোভ মূলত ছাত্র, ট্রাকচালক ও কৃষকদের নেতৃত্বে চলা দেশজুড়ে চলা আন্দোলনের অংশ। আবাসন ও জ্বালানির দামসহ জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধিই এ আন্দোলনের মূল কারণ। এ সপ্তাহে সরকার মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের পর জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসাগুলোর জন্য আর্থিক সহায়তা অনুমোদন করেছে। এক সপ্তাহ ধরে দক্ষিণ ইতালি অচল করে রাখা ট্রাক অবরোধ ওই সময় জ্বালানি ও খাদ্যের তীব্র সংকট তৈরি করেছিল। সেটি এখন তুলে নেওয়া হয়েছে। তবে, প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির ডানপন্থী সরকার আন্দোলন দমাতে এ সপ্তাহেই কঠোর নিরাপত্তা-ব্যবস্থা অনুমোদন করেছে। গত সপ্তাহান্তের সংঘর্ষের পর সরকার মিলানে ৫০০ সেনাও মোতায়েন করেছে। একই সঙ্গে একটি ডিক্রি অনুমোদন করা হয়েছে, যেন অপ্রাপ্তবয়স্কদের আটক সংক্রান্ত নিয়ম সহজ করা হয়েছে। বিক্ষোভে সন্তানদের ঘটানো ক্ষয়ক্ষতির জন্য অভিভাবকদের জরিমানার বিধানও রাখা হয়েছে।
বিক্ষোভের আগেই পুলিশ দেশজুড়ে কয়েক ডজন তল্লাশি ও গ্রেফতার অভিযান চালিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, শনিবারের বিক্ষোভ ঘিরে নয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া ৩৭১ জনকে সাময়িকভাবে আটক করে আটটি শহরের থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। আটককৃতদের মধ্যে ১১০ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক। মিলানে কয়েক হাজার মানুষ মিছিল করেছেন। এতে শহরের কেন্দ্রস্থলে যান চলাচল কার্যত অচল হয়ে পড়ে। রোমেও প্রায় একই সংখ্যক মানুষ জড়ো হন। সেখানে কয়েকজন বিক্ষোভকারী অল্প সময়ের জন্য কলোসিয়ামে ঢুকে পড়েন।
মিলানের বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ২৪ বছর বয়সী বেটিং দোকানের কর্মী আলেসসিও শিমোনে এএফপিকে বলেন, মিছিল করা তাঁদের অধিকার এবং নিজেদের কথা শোনানো জরুরি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাত্তেও পিয়ান্তেদোসি ইতালীয় বার্তা সংস্থা আনসাকে বলেছেন, পুলিশ ভারসাম্য ও পেশাদারত্বের সঙ্গে সহিংস অংশটিকে আলাদা করে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছে। তাঁর ভাষ্য, ইতালিতে এমন কারও জায়গা নেই, যারা মনে করে তারা দায়মুক্তি পাবে।
গত সপ্তাহান্তে মিলানে লুটপাটের ঘটনার পর এদিন শহরের কিছু দোকান আগেভাগে বন্ধ করে দেওয়া হয়, কিছু দোকানের জানালা কাঠ দিয়ে ঢাকা হয়। তবে মেয়র জুসেপ্পে সালার ‘আতঙ্কিত না হওয়ার’ আহ্বানে সাড়া দিয়ে অনেক দোকান খোলাও রেখেছিল। ফিলিপ প্লাইনের পুরুষদের পোশাকের দোকানের কর্মী ৩০ বছর বয়সী আলেসসান্দ্রো বুনে বলেন, তাঁরা দেখাতে চান যে তাঁরা ভীত নন এবং ক্রেতারা নিরাপদে দোকানে ঢুকতে পারেন। দাতব্য সংস্থা এমএসএফের স্বেচ্ছাসেবক ৫৫ বছর বয়সী স্তেফানিয়া সেগালিনা বলেন, এবার সংঘর্ষ না হওয়ায় তিনি স্বস্তি পেয়েছেন। পুলিশের উপস্থিতি বেশি থাকায় নিরাপদ বোধ করেছেন বলেও জানান তিনি।
শনিবার পুলিশ ৩০ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে। তাঁকে "১৭ অক্টোবর আন্দোলন" নামের গোষ্ঠীর নেপথ্য ব্যক্তি বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। এ গোষ্ঠীই বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল। ছাত্র সংগঠনগুলো সরকারের জনশৃঙ্খলা-ব্যবস্থার তীব্র সমালোচনা করেছে। তারা সামরিক ব্যয় কমিয়ে শিক্ষায় বরাদ্দ বাড়ানোসহ আন্দোলনকারীদের দাবি মেটানোর আহ্বান জানিয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









