বাংলাদেশের ঢাকা মেট্রোরেল লাইন-১ প্রকল্পের ২টি গুরুত্বপূর্ণ সিস্টেম প্যাকেজের নকশা প্রণয়ন ও নির্মাণ কাজের চুক্তি পেয়েছে ভারতের অবকাঠামো নির্মাণ প্রতিষ্ঠান লার্সেন অ্যান্ড টুব্রো (এলঅ্যান্ডটি)। গতকাল মঙ্গলবার প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তাদের পরিবহন ব্যবসা বিভাগ ঢাকা দ্রুতগামী গণ-পরিবহন উন্নয়ণ (এমআরটিডি) প্রকল্পের আওতায় এসব কাজের চুক্তি পেয়েছে।
এর আগে বাংলাদেশের প্রথম মেট্রোরেল করিডর ঢাকা মেট্রোরেল লাইন-৬-এর সমন্বিত রেলওয়ে সিস্টেম প্যাকেজের কাজ পেয়েছিল এলঅ্যান্ডটি। প্রতিষ্ঠানটি ওই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করেছে। বর্তমানে লাইন-৬ বাণিজ্যিকভাবে চালু রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির শ্রেণি বিন্যাস অনুযায়ী, ৫ হাজার কোটি রুপির বেশি মূল্যের চুক্তিকে বড় চুক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সেই হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশী মুদ্রায় সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকার বেশি মূল্যের কাজ পেয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, চুক্তির আওতায় রেলপথ নির্মাণ, বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা, সিগন্যালিং, টেলিযোগাযোগ এবং প্ল্যাটফর্ম স্ক্রিন ডোর (পিএসডি) স্থাপনের কাজ রয়েছে। এসব প্যাকেজ বাংলাদেশের প্রথম ভূগর্ভস্থ মেট্রোরেল প্রকল্প ঢাকা মেট্রোরেল লাইন-১-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। এলঅ্যান্ডটির প্রধান কার্যালয় ভারতের মুম্বাইয়ে অবস্থিত।
এলঅ্যান্ডটি জানিয়েছে, চুক্তির আওতাভুক্ত ২টি প্যাকেজ ঢাকা মেট্রোরেল লাইন-১-এর মূল পরিচালনাগত ব্যবস্থার অংশ। এসব কাজ বাস্তবায়িত হলে ঢাকার জন্য একটি নির্ভরযোগ্য নগর গণ-পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।
এলঅ্যান্ডটির পরিবহন অবকাঠামো বিভাগের জ্যেষ্ঠ নির্বাহী উপ-প্রধান ও প্রধান রামকুমার এস বলেন, ঢাকা মেট্রোরেল লাইন-৬-এর ইলেকট্রিক্যাল ও মেকানিক্যাল (ইঅ্যান্ডএম) ব্যবস্থার কাজ সর্বোচ্চ মান বজায় রেখে নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটির শক্তিশালী সাফল্যের রেকর্ড রয়েছে। সম্প্রতি ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা মেট্রোর কাজও পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি, যা বর্তমানে বাস্তবায়নাধীন। তিনি বলেন, বিভিন্ন মূল সরঞ্জাম প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান (ওইএম) এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের মাধ্যমে একাধিক ব্যবস্থার নির্বিঘ্ন সমন্বয় ও বাস্তবায়নে অর্জিত অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে এলঅ্যান্ডটি ভালো অবস্থানে রয়েছে।
জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) অর্থায়নে বাস্তবায়িত ঢাকা মেট্রোরেল লাইন-১ প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৩১ কিলোমিটার দীর্ঘ আধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। প্রকল্পটিতে দুটি রুট রয়েছে। এর মধ্যে কমলাপুর থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত বিস্তৃত এয়ারপোর্ট রুট এবং নতুনবাজার থেকে পূর্বাচল টার্মিনাল পর্যন্ত বিস্তৃত পূর্বাচল রুট অন্তর্ভুক্ত। পুরো প্রকল্পে ১৯টি স্টেশন এবং পিতলগঞ্জে ১টি ডিপো নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
চুক্তি অনুযায়ী জাপানি অংশীদার সুমিতোমো করপোরেশনের সঙ্গে যৌথভাবে এলঅ্যান্ডটি পুরো করিডর জুড়ে রেলপথ নির্মাণ, বিদ্যুৎ সরবরাহ ও বিতরণ ব্যবস্থা, ট্র্যাকশন সাবস্টেশন, ওভারহেড ক্যাটেনারি সিস্টেম এবং সংশ্লিষ্ট বৈদ্যুতিক স্থাপনাগুলোর নকশা প্রণয়ন, সরঞ্জাম সংগ্রহ, স্থাপন, পরীক্ষা ও চালু করার কাজ সম্পন্ন করবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









