ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলে দেখা গেল, কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি- বিজেপির তথা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘গেরুয়া ঝড়ে’ তছনছ হয়ে গেছে রাজ্যে ক্ষমতাসীন মমতা ব্যানার্জির তৃণমূল কংগ্রেস।
‘সূর্যাস্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করুন...জয় হবে আমাদেরই’-- দলীয় প্রার্থী, কাউন্টিং এজেন্টদের ধৈর্য ধরতে মমতার বার্তা দিলেও পূবের সূর্যটা পশ্চিমে অস্ত গেছে। আর ততক্ষণে বেসরকারি তথ্য বলছে, এবার অপেক্ষার পালা ফুরাল, ১৫ বছর পর অস্ত যেতে চলেছে দিদিরও। এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বিজেপি এগিয়ে ছিল ২০৪টি আসনে। যেখানে এর আগের নির্বাচনে (২০২১ সালে) তারা পেয়েছিল ৭৭টি আসন। সেবার ২১৪ আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করা তৃণমূল এবার এগিয়ে ছিল মাত্র ৮৭টি আসনে। অর্থাৎ তারা গতবারের চেয়ে পেছনে রয়েছে ১২৭টি আসনে। যেখানে বিজিপি গতবারের চেয়ে এগিয়ে ১২৩টি আসনে। তবে ইলেকশন কমিশন অব ইন্ডিয়ার (ইসিআই) তথ্য বলছে, এখন পর্যন্ত বিজেপি এগিয়ে ১৮৫, আর তৃণমূল ৯১ আসনে এগিয়ে। দুটি তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূলের এবার অস্ত প্রায় নিশ্চিত। তার ‘সূর্যাস্ত পর্যন্ত অপেক্ষা’র যে বার্তা সেটি আর কাজে এলো না। নতুন বার্তা এলা মোদির। পশ্চিমবঙ্গের প্রত্যেক নাগরিকের প্রতি প্রণাম জানিয়ে মোদি বললেন, পশ্চিমবঙ্গে পদ্ম ফুটেছে।
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ৯ ঘণ্টার ফল গণনায় দুই তৃতীয়াংশ আসনে এগিয়ে ছিল কেন্দ্র সরকারের ক্ষমতায় থাকা বিজেপি। ভারতীয় নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিজেপি ৩৪টি আসনে জয়ী হয়েছে এবং ১৭০টি আসনে এগিয়ে আছে। আর গত তিন মেয়াদে রাজ্যের ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল কংগ্রেস ১৩টি আসনে জয় পেয়েছে এবং ৭০টি আসনে এগিয়ে আছে। এ রাজ্যের ২৯৪ আসনের মধ্যে একটি আসনের ভোট স্থগিত হওয়ায় গতকাল ২৯৩ আসনের ফল ঘোষণার কথা। সরকার গঠন করতে হলে একটি দলকে কমপক্ষে ১৪৭টি আসন পেতে হবে। রাজ্যের বিরোধী দলীয় নেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, ‘বাংলার সমস্ত হিন্দু আজ একজোট হয়েছেন। তারা নরেন্দ্র মোদির উন্নয়নের পাশে দাঁড়িয়েছেন। বিজেপি নিশ্চিতভাবেই বাংলায় বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গড়তে চলেছে।’ ধারণা করা হচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেস এ নির্বাচনে বড় ধরনের পরাজয়ের মুখে পড়তে যাচ্ছে। অর্থাৎ ১৫ বছরের মমতা যুগের তথা তৃণমূল শাসনের অবসান হতে চলেছে। গণনা করা ভোটের যে প্রবণতা, তা শেষ পর্যন্ত বজায় থাকলে পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবারের মতো সরকার গঠন করবে বিজেপি।
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধীদলীয় নেতা শুভেন্দু অধিকারীসহ রাজ্য বিজেপির শীর্ষস্থানীয় নেতারা এরই মধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন, বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘খেলা শেষ‘। তাদের দাবি, রাজ্যটিতে বিজেপিই সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। রাজ্য বিজেপির নেতা-কর্মীরা বিজয় উদযাপনও শুরু করেছেন। এ ছাড়া জয়ের পথে থাকা বিজেপি সরকার গঠন করলে কে হতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী- সে আলোচনাও শুরু হয়ে গেছে। এই নির্বাচনের আগে বিজেপির কেন্দ্রীয় সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বারবার জোর দিয়ে বলেন, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী একজন বাঙালিই হবেন। বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী কে হতে পারেন- এ প্রশ্নের উত্তরে সম্ভাব্য কয়েকজনের নাম উল্লেখ করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস। তারা হলেন- বর্তমান বিরোধীদলীয় নেতা শুভেন্দু অধিকারী, রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, রাজ্য বিজেপির সাবেক সভাপতি দিলীপ ঘোষ, সুকান্ত মজুমদার, সাবেক সাংবাদিক ও রাজ্যসভার সাবেক সাংসদ স্বপন দাশগুপ্ত প্রমুখ।
# ‘পশ্চিমবঙ্গে পদ্ম ফুটেছে’
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির বিপুল বিজয়ের সম্ভাবনায় সোশাল মিডিয়ায় বার্তা দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এক এক্স পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে পদ্ম ফুটেছে! ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। জনগণের শক্তিএবং বিজেপির সুশাসনের রাজনীতির জয় হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের প্রত্যেক নাগরিকের প্রতি আমার প্রণাম রইল। জনগণ বিজেপিকে এক অভূতপূর্ব রায় দিয়েছে এবং আমি তাদের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, পশ্চিমবঙ্গের মানুষের স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য সম্ভাব্য সবকিছু আমাদের দল করবে। আমরা এমন একটি সরকার দেব, যা সমাজের সর্বস্তরের মানুষের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করবে।’
# দুই আসনের চূড়ান্ত ফল ঘোষণা
পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের ২৯৩ আসনের মধ্যে দুটি আসনের আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। আনন্দবাজার জানিয়েছে, মন্তেশ্বর আসনে ১৪ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন বিজেপি প্রার্থী সৈকত পাঁজা। আর ভগবানগোলায় ৫৬ হাজারের বেশি ভোট পেয়ে জিতেছেন তৃণমূল প্রার্থী রেয়াত হোসেন সরকার।
# ‘খেলা শেষ’ লিখে বার্তা পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার নির্বাচনের ২৯৪টি আসনের ২৯৩টি আসনের ভোট গণনা হচ্ছিল। এ রিপোর্ট লেখার সময় প্রায় ১৯২টি আসনে এগিয়ে ছিল বিজেপি। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস ৯৪টি আসনে এগিয়ে ছিল। দুই দলের মধ্যে আসনের ব্যবধান ছিল প্রায় ১০০। এমন অবস্থায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘খেলা শেষ’ লেখা বার্তা দিয়েছে বিজেপি। ২০২১ সালের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার নির্বাচনের আগে তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডল ‘খেলা হবে’ স্লোগান দেন। যা পরবর্তীতে ব্যাপক ভাইরাল হয়। এরপর পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিও এ স্লোগান একাধিকবার ব্যবহার করেছেন। তাদের সেই স্লোগানের জবাবে বিজেপি ‘খেলা শেষ’ বার্তা দিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
# মমতার গাড়ি লক্ষ্য করে ‘চোর’ স্লোগান, বিজেপি-তৃণমূল সংঘর্ষ
পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন-পরবর্তী গণনার দিন রণক্ষেত্রে রূপ নিয়েছিল কলকাতা। সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলে গণনাকেন্দ্রে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পৌঁছানো মাত্রই চরম উত্তেজনা তৈরি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় বিপুলসংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়। সকাল থেকে সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলের বাইরে তৃণমূল ও বিজেপি সমর্থকদের ভিড় ছিল।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর গাড়ি নিয়ে গণনাকেন্দ্রে প্রবেশ করার সময় বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা তাকে লক্ষ্য করে ‘চোর চোর’ স্লোগান দেয়। ঘটনার আকস্মিকতায় পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা এর প্রতিবাদ করলে দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক ধস্তাধস্তি শুরু হয়। গণনাকেন্দ্রের ২০০ মিটারের মধ্যে তৃণমূল কর্মীদের জমায়েত নিয়ে আগেই অভিযোগ তুলেছিল বিজেপি। পুলিশ তৃণমূল কর্মীদের এলাকা ছাড়তে বললে তার কিছু পরেই এজেসি বোস রোড ধরে বিশাল মিছিল নিয়ে হাজির হন বিজেপি সমর্থকরা। এরপরই পুলিশের উপস্থিতিতেই দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। চেয়ার ভাঙচুর এবং একে-অপরকে লক্ষ্য করে ইট-বৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে। বিক্ষুব্ধ এক বিজেপি সমর্থক বলেন, ‘২০২১ ও ২০২৪-এ আমাদের ওপর অনেক শোষণ করা হয়েছে। গণনাকেন্দ্রের এত কাছে ওরা অবৈধ জমায়েত করেছিল। বাংলার মানুষের উন্নয়ন না করে শুধু লুটেছে তৃণমূল। আর লুট করতে দেব না।’
অন্যদিকে, জগদীশচন্দ্র বোস কলেজের সামনেও ব্যাপক উত্তেজনা দেখা দেয়। কলেজের ভেতরে তৃণমূল সমর্থকরা অবস্থান করলেও বাইরে লাঠি হাতে বিজেপি কর্মীদের মহড়া দিতে দেখা যায়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে অনেক তৃণমূল সমর্থককে লুকিয়ে-পালিয়ে যেতে দেখা যায়। তৃণমূল নেত্রী কাজরী বন্দ্যোপাধ্যায় ওই কলেজে উপস্থিত ছিলেন। বিজেপির একদল নারী কর্মী মিছিল করে নবান্নের সামনে পৌঁছে স্লোগান দিতে শুরু করলে প্রশাসন সতর্ক অবস্থান নেয়। পুলিশ দ্রুত তাঁদের সরিয়ে দিলেও সম্ভাব্য গোলযোগ এড়াতে নবান্নের নিরাপত্তা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত গোটা এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছিল।
স্থানীয় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, বাঁকুড়ার কোতুলপুরে তৃণমূল কার্যালয়ের চালে উঠে বিজেপির পতাকা লাগানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া বরানগরের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে তৃণমূলের কার্যালয় দখলের অভিযোগ উঠেছে। জামালপুরে শাসক শিবিরের কার্যালয়ে আগুন লাগানোর অভিযোগ উঠেছে গেরুয়া শিবিরের বিরুদ্ধে। জামুড়িয়া বিধানসভার চুরুলিয়া গ্রামে তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর করার খবর পাওয়া গেছে। দেয়া হয়েছে আগুনও। তৃণমূলের অভিযোগ বিজেপির দিকে। বীজপুর এবং নোয়াপাড়াতেও তৃণমূলের প্রার্থীরা আক্রান্ত হয়েছেন বলে অভিযোগ। এরপরই জেলাশাসক, সিপিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
# ‘সূর্যাস্তের পর তৃণমূল ঠিকই জিতবে’
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস যদি শেষমেশ পরাজিত হয়, তবে শক্তিশালী তৃণমূলের জন্য এটি হবে একটি বিরাট ধাক্কা। ৭১ বছর বয়সি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একজন বাগ্মী রাজনীতিবিদ। তাকে দিদি বলে ডাকা হয়, অগ্নিকন্যাও বলা হয়। ২০১১ সালে তার নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেস পশ্চিমবঙ্গের ৩৪ বছরের বামফ্রন্ট সরকারকে পরাজিত করতে সক্ষম হয়। সেটি ছিল বিশ্বে সবচেয়ে বেশি সময় গণতান্ত্রিক উপায়ে ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট সরকার। মমতা পশ্চিমবঙ্গে কৃষকদের জমি অধিগ্রহণ করে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের বিরোধিতা করে আন্দোলন করেছিলেন।
এবারের বিধানসভা নির্বাচনে মমতা এমন এক লড়াইয়ের মুখোমুখি, যেটিকে অনেকে তার জীবনের সবচেয়ে কঠিন লড়াই বলে অভিহিত করছেন। তার লড়াকু মনোভাব এবং তৃণমূলের সব ইউনিটের নেতার সঙ্গে শক্তিশালী যোগাযোগ রয়েছে। কয়েক দশকের বামফ্রন্ট সরকারের অবসান ঘটিয়ে ২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসে তৃণমূল কংগ্রেস। মোট ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২২৭টিতে (এককভাবে ১৮৪টি আসনে) জয়লাভ করে সরকার গঠন করে তৃণমূল। এরপর থেকে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে আধিপত্য বিস্তার করে আসছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু এবার মমতা বিজেপির পক্ষ থেকে অনেক বেশি আক্রমণাত্মক ও সুসংগঠিত প্রচারণার মুখোমুখি হন, যার ফলে বিজেপি ও তৃণমূলের ব্যবধান বাড়তে থাকে। বেশ কয়েকটি এক্সিট পোল হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিয়েছিল।
এদিকে বিজেপির তুলনায় তৃণমূল কংগ্রেস পিছিয়ে থাকলেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি জানিয়ে দিলেন, তিনি বা তার দল পরাজয় মেনে নিতে এখনো প্রস্তুত নন। ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, কাউন্টিং এজেন্টরা কেউ গণনাকেন্দ্র থেকে সরে আসবেন না। তৃণমূল কংগ্রেস এখনো ৭০ থেকে ১০০ আসনে এগিয়ে আছে, যেগুলো দেখাচ্ছে না। নির্বাচনী ফলাফলের নামে ‘গোটাটাই মিথ্যে জিনিস খাওয়াচ্ছে’ বলেও তিনি দাবি করেন। নির্বাচন কমিশন কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে ‘ইচ্ছেমতো খেলছে’ বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী আরো বলেন, ‘আমি প্রথম থেকেই বলছি। ওদেরগুলো (বিজেপি) আগে দেখাবে, পরে আমাদের (তৃণমূলের) জেতা আসনগুলো দেখাবে।’ ‘সূর্যাস্তের পর’ তৃণমূল ঠিকই জিতবে বলেও তিনি মন্তব্য করেছেন। দলের নেতাকর্মী ও গণনাকেন্দ্রে যে এজেন্টরা আছেন তাদের ‘বাঘের বাচ্চার মতো লড়ে যেতে’ ও আহ্বান জানিয়েছিলেন তিনি।
# ‘হিন্দু ইভিএম বিজেপির, মুসলিম তৃণমূলের’
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ভবানীপুর আসনে নবম রাউন্ডের ভোট গণনা শেষ হয়েছে। এ পর্যন্ত বিজেপির প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর প্রাপ্ত ভোট ২৪ হাজার ৪৮৬টি। আর তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় পেয়েছেন ৩৮ হাজার ৩২৮টি। সপ্তম রাউন্ডের ভোটগণনার আগে শুভেন্দু বলেছিলেন, ‘অল্প ইভিএম গোনা হয়েছে। এটাকে বড় কিছু করে দেখানো ঠিক না। প্রাথমিকভাবে আমার যে পর্যবেক্ষণ, হিন্দু ইভিএম বিজেপির, মুসলিম ইভিএম তৃণমূলের। তবে তাও আগের মতো নয়। ২০২১ এবং ২০২৪-এর মতো ভোট একত্রিত করতে পারেননি।’ রাজ্য বিজেপির এই নেতা আরো বলেন, ‘মালদহে, মুর্শিদাবাদের বহু আসনে, উত্তর দিনাজপুরেও করণদিঘি বা অন্য জায়গায় প্রাথমিকভাবে মুসলিম বেল্টে কংগ্রেস কোনো কোনো ইভিএমে ভালো ভোট পেয়েছে।’
ভবানীপুরের পাশাপাশি নন্দীগ্রাম আসনেও লড়ছেন শুভেন্দু। সেখানকার ভোট গণনা নিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রথম রাউন্ড আমি পেয়ে গিয়েছি। ৩ হাজার লিড পেয়েছি। সরকার বিজেপি গড়ছে, এটা ধরে নিয়ে চলুন। আমার আশা ছিল ১ হাজার ১০০ পাব। তিনগুণ বেশি পেয়েছি। ভবানীপুরে টক্কর হবে।’ শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘প্রথম রাউন্ডে ১৪টি বুথ মুসলিমপ্রবণ। আটটি হিন্দু বুথে আমার লিড আছে। ভবানীপুরে ৯-১০ রাউন্ড থেকে দেখবেন, আমি অনেক এগিয়ে যাব। ১০ রাউন্ডের পর আমাকে হারানো মুশকিল হয়ে যাবে। প্রাথমিক আভাসে আমরা দেখে নিয়েছি স্থিতাবস্থা বিরোধিতা আছে এবং হিন্দুরা পদ্মের পক্ষে আছে। এটা আমাদের জন্য খুব ভালো ইঙ্গিত।’


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









