কয়েকদিনের ভারি বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে দেশের উত্তর পূর্বাঞ্চলের সাতটি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। ফলে নেত্রকোনা ও হবিগঞ্জ জেলার হাওর সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি বিরাজমান রয়েছে। এ ছাড়া সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার হাওর সংলগ্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী মঞ্জুর রহমান। এমন পূর্বাভাসের ভিত্তিতে পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার কথাও বলেন তিনি।
২৪ ঘণ্টায় ১২ থেকে ২২ মিলিমিটার বৃষ্টি হলে তাকে মাঝারি, ২৩ থেকে ৪৩ মিলিমিটার হলে মাঝারি-ভারি, আর ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হলে তাকে ভারি বৃষ্টি বলে আবহাওয়া অধিদপ্তর। প্রকৌশলী মঞ্জুর বলেন, ‘উত্তর পূর্বাঞ্চলের সাতটি নদীর পানি আট পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে নেত্রকোনা ও হবিগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতি অব্যাহত আছে। আগামী তিন দিন মাঝারি থেকে মাঝারি ভারি এবং মাঝারি ভারি থেকে ভারি বর্ষণের পূর্বাভাস রয়েছে। ফলে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার হাওর সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে নতুন করে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।’
বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের নিয়মিত বুলেটিনে বলা হয়েছে, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাতটি নদীর পানি গতকাল সোমবার সকাল নয়টায় বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। নদীগুলোর মধ্যে সুনামগঞ্জ জেলার নালজুর নদী জগন্নাথপুর পয়েন্টে, নেত্রকোনা জেলার বাউলাই নদী খালিয়াজুড়ি পয়েন্টে, ভুগাই-কংস নদী জারিয়াজাঞ্জইল পয়েন্টে, সোমেশ্বরী নদী কলমাকান্দা পয়েন্টে, মগরা নদী নেত্রকোনা ও আটপাড়া পয়েন্টে এবং হবিগঞ্জ জেলার কালনি-কুশিয়ারা নদী আজমেরিগঞ্জ পয়েন্টে ও সুতাং নদী সুতাং-রেলওয়ে ব্রীজ পরেন্টে প্রাক-মৌসুমি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। কেন্দ্রটি জানিয়েছে, দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর অববাহিকার প্রধান নদীগুলোর মধ্যে সুরমা-কুশিয়ারা ও ধনু-বাউলাই নদীর পানির সমতল বেড়েছে। তবে ভুগাই-কংস নদীর পানি সমতল কমেছে।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর ও বৈশ্বিক আবহাওয়া সংস্থাগুলোর বরাত দিয়ে বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র বলছে, সর্বশেষ ২৪ ঘন্টায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলের উজানে (আগরতলা-ত্রিপুরা) এবং অভ্যন্তরে হাওর অববাহিকায় মাঝারি-ভারি থেকে ভারি বৃষ্টিপাত হয়েছে। এই অঞ্চলে আজ মঙ্গলবার পর্যন্ত মাঝারি থেকে মাঝারি-ভারি এবং বুধবার ও বৃহস্পতিবার মাঝারি-ভারি থেকে ভারি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র বলছে, বৃষ্টিপাতের ফলে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর অববাহিকার সিলেট, সুনামগঞ্জ জেলার সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি সমতল আগামী তিন দিন বাড়তে পারে। আগামীকাল বুধবার কুশিয়ারা নদীর কোথাও কোথাও পানি সমতল প্রাক-মৌসুমি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে, ফলে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার হাওর সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। নেত্রকোনা জেলার ভূগাই-কংস ও সোমেশ্বরী নদীর পানি সমতল আগামী তিন দিন স্থিতিশীল থাকতে পারে। ফলে ভুগাই-কংস অববাহিকার হাওর সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে।
নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জ জেলার ধনু-বাউলাই নদীর পানি সমতল আগামী তিন দিন স্থিতিশীল থাকতে পারে। এই অববাহিকার হাওর সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে। মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার মনু, খোয়াই ও জুড়ি নদীর পানি সমতল আগামী দুই দিন স্থিতিশীল থাকতে পারে এবং বৃহস্পতিবার বাড়তে পারে। জুড়ি নদীর পানি সমতল আগামী ৭২ ঘন্টায় দ্রুত বেড়ে সর্তকসীমায় প্রবাহিত হতে পারে। সুতাং নদীর পানি সমতল আজ বাড়তে পারে এবং পরবর্তী দুই দিন হ্রাস পেতে পারে, এবং প্রাক-মৌসুমি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় হবিগঞ্জ জেলার বন্যা পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









