দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে আগামী তিনদিন হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাতের পর বন্যা পরিস্থিতির উন্নতির আভাস দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর ও বৈশ্বিক আবহাওয়া সংস্থাগুলোর বরাতে কেন্দ্রটি বলছে, তবে, হাওরবেষ্টিত উত্তর-পূর্বাঞ্চলের তিন জেলার সাতটি নদীর পানি আটটি পয়েন্টে এখনো প্রাক-মৌসুমি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মনজুর রহমান বলেন, ‘এই এলাকাগুলোতে বর্তমানে বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল আছে। পানি ধীরে নামছে। তিনদিন পর বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।’
কেন্দ্রের গতকাল শুক্রবারের নিয়মিত বুলেটিনে জানানো হয়, সকাল নয়টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি সমতল কমেছে আর ধনু-বাউলাই নদীর পানি সমতল স্থিতিশীল আছে এবং ভুগাই-কংস (জারিয়াজঞ্জাইল) নদীর পানি সমতল বেড়েছে। এ ছাড়া উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর অববাহিকার সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি সমতল আগামী তিনদিন কমতে পারে।
ফলে সুনামগঞ্জ জেলার কুশিয়ারা অববাহিকার হাওর সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। সেই সঙ্গে নেত্রকোনা জেলার ভুগাই-কংস ও সোমেশ্বরী নদীর পানি সমতল আগামী তিনদিন স্থিতিশীল থাকতে পারে এবং ভুগাই-কংস অববাহিকার হাওর সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।
নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জ জেলার ধনু-বাউলাই নদীর পানি সমতল আগামী তিনদিন স্থিতিশীল থাকতে এবং ধনু-বাউলাই অববাহিকার হাওর সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। অন্যদিকে মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার মনু নদীর পানি সমতল আগামী একদিন বাড়তে ও পরের দুদিন কমতে পারে। এ দুই জেলার খোয়াই, জুড়ি ও সুতাং নদীর পানি সমতল আগামী তিনদিন কমতে পারে। ফলে হবিগঞ্জ জেলার সুতাং অববাহিকার হাওর সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।
গতকাল সকাল নয়টায় সুনামগঞ্জের নলজুর নদীর পানি জগন্নাথপুর পয়েন্টে এক সেন্টিমিটার বেড়ে প্রাক-মৌসুমী বিপৎসীমার ৫২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এ জেলার হাওর অঞ্চলে নদীর পানি সমতল ঘণ্টায় শূন্য থেকে এক সেন্টিমিটার করে ধীরগতিতে কমছে।
অন্যদিকে নেত্রকোনার ধনু-বাউলাই নদীর পানি খালিয়াজুড়ি পয়েন্টে তিন সেন্টিমিটার কমে সাত সেন্টিমিটার ওপরে, ভূগাই-কংস নদী জারিয়াজঞ্জাইল পয়েন্টে ৩০ সেন্টিমিটার বেড়ে ৬২ সেন্টিমিটার ওপরে, সোমেশ্বরী নদী কলমাকান্দা পয়েন্টে ছয় সেন্টিমিটার বেড়ে ৩৬ সেন্টিমিটার ওপরে, মগরা নদী নেত্রকোনা পয়েন্টে ছয় সেন্টিমিটার কমে ৭৯ সেন্টিমিটার ওপরে এবং আটপাড়া পয়েন্টে তিন সেন্টিমিটার কমে বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।
একই সময়ে হবিগঞ্জ জেলার কালনি-কুশিয়ারা নদী আজমিরিগঞ্জ পয়েন্টে ১৬ সেন্টিমিটার কমে বিপৎসীমার ১৩ সেন্টিমিটার ওপরে এবং সুতাং নদী সুতাং-রেলওয়ে ব্রিজ পয়েন্টে ২০ সেন্টিমিটার ৩৫ সেন্টিমিটার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছিল। বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের বুলেটিনে বলা হয়েছে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের উজানে এবং অভ্যন্তরে হাওর অববাহিকায় তেমন বৃষ্টিপাত দেখা যায়নি।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









