ঐতিহ্যবাহী দেশীয় পণ্যের বিকাশ ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে রাজধানী ঢাকায় আজ থেকে শুরু হয়েছে পাঁচ দিনব্যাপী ‘বিসিক বর্ষা মেলা-২০২৬’। একই দিনে জাতীয় অর্থনীতিতে বিসিক শিল্পনগরীসমূহের অবদান জোরদার ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একটি দিনব্যাপী বিশেষ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার (৫ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর ৩৯৮, তেজগাঁও শিল্প এলাকায় অবস্থিত বিসিক ভবনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই জোড়া কর্মসূচির উদ্বোধন করেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
বাংলার বর্ষার স্নিগ্ধতা, ঐতিহ্য এবং দেশীয় ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের বৈচিত্র্যকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন (বিসিক) এই মেলার আয়োজন করেছে। আজ দুপুর ২:০০ ঘটিকায় ফিতা কেটে মেলার শুভ উদ্বোধন করেন শিল্পমন্ত্রী। উদ্বোধন শেষে তিনি মেলার বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন এবং উদ্যোক্তাদের সাথে কথা বলেন।
পাঁচ দিনব্যাপী এই মেলায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তের উদ্যোক্তাদের জন্য মোট ৫৬টি স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। স্টলগুলোতে জামদানি, মণিপুরী শাড়ি, শতরঞ্জি, নকশিকাঁথা, হস্তশিল্প, চামড়াজাত ও পাটজাত পণ্য, বাঁশ ও বেতের তৈরি সামগ্রী এবং খাঁটি মধু ও নানা পদের খাদ্যপণ্য প্রদর্শিত ও বিক্রয় হচ্ছে।
মেলাটি ৫ জুলাই থেকে ৯ জুলাই প্রতিদিন সকাল ১০:০০ টা থেকে রাত ০৮:০০ টা পর্যন্ত সকলের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। এর আগে সকাল ৯:৩০ টায় বিসিক ভবনের সম্মেলন কক্ষে ‘জাতীয় অর্থনীতিতে বিসিক শিল্পনগরীসমূহের অবদান ও বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ উত্তরণে করণীয়’ শীর্ষক একটি দিনব্যাপী কর্মশালা ও সম্মেলন-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়। সারা দেশ থেকে আসা বিসিকের শিল্পনগরী কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে পবিত্র ধর্মগ্রন্থ পাঠের মাধ্যমে এই আয়োজনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।
কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, “দেশের অর্থনীতিতে ক্ষুদ্র, কুটির, মাইক্রো, ছোট ও মাঝারি শিল্প (সিএমএসএমই) খাতের অবদান অন্তত ৬০ শতাংশে উন্নীত করতে সরকার কাজ করছে।” শিল্প খাতের দ্রুত সম্প্রসারণের জন্য চলমান ও নতুন প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের তাগিদ দিয়ে মন্ত্রী বিসিক কর্মকর্তাদের আগামী ৭ দিনের মধ্যে সুনির্দিষ্ট কর্ম-প্রস্তাবনা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন।
অনুষ্ঠানের সভাপতি এবং বিসিকের চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলাম স্বাগত বক্তব্যে দীর্ঘ ৬৯ বছরে বিসিকের অর্জন, সমস্যা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “বিসিক শুধু একটি প্রতিষ্ঠান নয়, এটি বাংলাদেশের শিল্পায়নের বাস্তব রূপ। ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের উন্নয়নের মাধ্যমেই সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়া সম্ভব।”
বিসিকের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে চেয়ারম্যান জানান, আগামী দিনে পরিবেশবান্ধব নতুন শিল্প পার্ক স্থাপন, বন্ধ ও রুগ্ন শিল্প কারখানা পুনরায় চালু করা, অনাবাদী প্লটের শতভাগ বরাদ্দ নিশ্চিত করা এবং ‘একটি গ্রাম একটি পণ্য’ ধারণার বিকাশসহ আধুনিক প্রযুক্তির প্রসারে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।
উক্ত কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের মাননীয় সচিব আব্দুন নাসের খান। দেশীয় ঐতিহ্য ও সৃজনশীলতাকে উৎসাহিত করতে মেলা ও কর্মশালা দুটি বিসিকের সার্বিক কার্যক্রমে নতুন গতি সঞ্চার করবে বলে আশা প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্টরা।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









