টানা কয়েকদিনের বৃষ্টিতেও রাজধানীর কাঁচাবাজারে সবজির সরবরাহে কোনো ঘাটতি দেখা যায়নি। অধিকাংশ সবজি ৫০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে বিক্রি হওয়ায় বাজারে স্বস্তি ফিরেছে ক্রেতাদের মনে। তবে সবজির বাজারে স্বস্তি থাকলেও এখনো চড়া ডিম ও মুরগির বাজার, যা মেটাতে গিয়ে বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে সাধারণ ক্রেতাদের।
রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে শুক্রবার (১০ জুলাই) এমন চিত্র দেখা গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বৃষ্টির কারণে বাজারে ক্রেতার উপস্থিতি কিছুটা কম হলেও সবজির সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। পাইকারি বাজার থেকে নিয়মিত পণ্য আসায় দামও বড় ধরনের ওঠানামা করেনি।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, গত সপ্তাহের তুলনায় ডিমের দাম বেড়েছে। ফার্মের ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকায়। যা গত সপ্তাহে ১১০ থেকে ১২০ টাকা ডজন ছিল। প্রতি কেজি গরুর মাংসের কেজি ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। খাসির মাংস কিনতে গেলে কেজিতে খরচ করতে হবে এক হাজার ১০০ থেকে এক হাজার ২০০ টাকা।
কয়েকটি মাছের দাম বেশ চড়া দেখা গেছে। মানভেদে চিংড়ির কেজি ৬০০ থেকে ৮০০, পাবদা ৩০০ থেকে ৪০০, বড় আকারের রুই ৪০০ থেকে ৪৫০ ও ট্যাংরা ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, তেলাপিয়া প্রতি কেজি ২২০ থেকে ২৩০ টাকা, পাঙাশ ২০০ থেকে ২২০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, বাইম ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, কৈ ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা এবং শোল ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ইলিশের গায়ে যেন হাত দেওয়া যায় না। ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের কেজি ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা। আর এক কেজি ওজনের ইলিশ ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকা দরে বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। তবে কিছুটা স্বাভাবিক রয়েছে চাষের কৈ, তেলাপিয়া, পাঙাশ ও মাঝারি আকারের রুই মাছের দাম। আকারভেদে চাষের শিং মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা দরে। মাঝারি আকারের রুই কেনা যাচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা দরে। এছাড়া রূপচাঁদা, শোল ও নদীর বোয়াল মাছ কিনতে গেলে হাজারের বেশি টাকা গুনতে হবে।
সবজির বাজারে স্বস্তি থাকলেও প্রাণিজ আমিষের বাজারে চাপ রয়েছে। প্রতি ডজন লেয়ার ডিম ৩৬০ টাকা এবং ফার্মের (বয়লার) মুরগি প্রতি কেজি ১৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া দেশি মুরগির দাম আরও বেশি।
রায়ের বাজারের মাছের ব্যবসায়ী মনতাজ উদ্দিন বলেন, মাছের বাজার কয়েক মাস ধরে প্রায় একই রয়েছে। তার দাবি, চিংড়ি, রূপচাঁদা, শোল, বড় আকারের রুই– এসব মাছের দাম সব সময়ই কিছুটা বেশি থাকে। কারণ, মোটামুটি সামর্থ্যবান মানুষ এসব মাছ কেনেন। তবে ইলিশের দাম এত বেশি হওয়া উচিত নয় বলে মনে করেন তিনি।
যাত্রাবাড়ী কাঁচাবাজারে কেনাকাটা করতে আসা সোমা আক্তার বলেন, ‘সবজির দাম এখন মোটামুটি সহনীয় পর্যায়ে আছে। ৫০-৬০ টাকার মধ্যে বেশির ভাগ সবজি পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু ডিম আর মুরগির দাম বেশি হওয়ায় সংসারের খরচ কমছে না।’
গৃহিণী আকলিমা আক্তার বলেন, ‘বৃষ্টির সময় সাধারণত সবজির দাম বেড়ে যায়। এবার বাজারে সবজি পর্যাপ্ত আছে। তবে ডিমের দাম আরেকটু কমলে সাধারণ মানুষের জন্য ভালো হতো।’
ব্যবসায়ীরা বলছেন, বৃষ্টির মধ্যেও বিভিন্ন জেলা থেকে নিয়মিত সবজি আসছে। ফলে সরবরাহে কোনো সংকট তৈরি হয়নি। তবে খামার পর্যায়ে উৎপাদন ব্যয় বাড়ায় ডিম ও মুরগির দাম তুলনামূলক বেশি রয়েছে।
সবজি বিক্রেতা আব্দুল করিম বলেন, ‘সবজির আমদানি ভালো আছে। তাই দামও স্থিতিশীল। কিন্তু ডিম ও মুরগির বাজার আমাদের নিয়ন্ত্রণে নয়। খামার থেকে যেভাবে আসে, সেভাবেই বিক্রি করতে হয়।’
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে আগামী দিনগুলোতেও সবজির দাম বর্তমান পর্যায়েই থাকতে পারে। তবে ডিম ও মুরগির বাজারে স্বস্তি ফেরাতে উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যয় কমানোর ওপর জোর দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









