বৃষ্টির অজুহাতে রাজধানীর নিত্যপণ্যের বাজারে আবারও উত্তাপ ছড়াতে শুরু করেছে। সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম বেড়ে সর্বোচ্চ ১৪০ টাকায় ঠেকেছে। একই সঙ্গে উচ্চমূল্যে অপরিবর্তিত রয়েছে ডিম ও ব্রয়লার মুরগির বাজার। এতে সবজি ও আমিষ—দুই খাতেই বাজার খরচ মেলাতে হিমশিম খাচ্ছেন সাধারণ ক্রেতারা।
এক মাসের বেশি সময় ধরে বেশি দামেই ডিম ও মুরগি বিক্রি হচ্ছে। এর আগে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগির দাম ছিল ১৭০-১৮০ টাকা। আর ফার্মের মুরগির ডিমের ডজন ছিল ১৩০-১৪০ টাকা। আগস্টের শুরুতে পণ্য দুটির দাম বাড়ে; এরপর আর কমেনি।
গতকাল শুক্রবার রাজধানীর মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, টাউন হল বাজার ও কাঁঠালবাগান বাজার ঘুরে এবং ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
বিক্রেতারা বলছেন, গত পাঁচ-ছয় মাসের মধ্যে বন্যা, অতিবৃষ্টি ও গরমে অনেক খামারে ডিম পাড়া মুরগিসহ ব্রয়লার মুরগি মারা যায়। পরে অনেক খামারি নতুন করে আর মুরগি পালন শুরু করেননি। এ ছাড়া সাম্প্রতিক লোডশেডিং পরিস্থিতির কারণেও খামারে মুরগি পালন কমেছে। এসব কারণে বাজারে ডিম-মুরগির দাম কিছুটা বেশি।
গত সপ্তাহের তুলনায় বাজারে সোনালি মুরগির দাম কেজিতে ৩০ টাকার মতো বেড়েছে। গতকাল প্রতি কেজি সোনালি মুরগি বিক্রি হয়েছে ৩৪০-৩৬০ টাকা। অবশ্য হাইব্রিড সোনালি বা কালারবার্ড মুরগির দাম কিছুটা কম, কেজি ৩০০-৩৩০ টাকা। এছাড়াও দীর্ঘ সময় ধরে ডিম ও মুরগির দাম না কমায় উদ্বেগ জানান রাজধানীর তাজমহল রোডের বাসিন্দা তাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আমার আয় কম। মাংসের মধ্যে মুরগিই মূলত কেনা হয়। সেটির দামই কমছে না।’
অন্যদিকে আজকের বাজারে প্রতি কেজি পটল বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা, বরবটি প্রতি কেজি ১২০ টাকা, ঝিঙা, ধন্দুল, চিচিঙ্গা প্রতি কেজি ৮০ টাকা, পেঁপে প্রতি কেজি ৩০ টাকা, গোল বেগুন প্রতি কেজি ১৪০ টাকা ও লম্বা বেগুন প্রতি কেজি ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া, প্রতি কেজি করলা বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়, শসা প্রতি কেজি ৮০ টাকা, টমেটো প্রতি কেজি ১০০ টাকা, গাজর প্রতি কেজি ১৪০ টাকা, কচু প্রতি কেজি ৬০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া প্রতি কেজি ৬০ টাকা, কাঁচা মরিচ প্রতি কেজি ১৬০ টাকা, ঢ্যাঁড়স প্রতি কেজি ৬০ টাকা, লাউ প্রতি পিস ৬০ থেকে ৭০ টাকা এবং কাঁচা কলা প্রতি হালি ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
সাপ্তাহিক ছুটির দিনে রাজধানীর মালিবাগ বাজারে বাজার করতে এসেছেন বেসরকারি চাকরিজীবী জাহিদুর রহমান। তিনি বলেন, আজ বাজার করতে এসে দেখছি সবজিগুলোর দাম বাড়তি যাচ্ছে। বলতে গেলে সব সবজির দাম বেড়েছে। গত সপ্তাহে তুলনামূলক কম ছিল, আজ দেখছি বাড়তি দাম।
সবজির দাম বিষয়ে রামপুরা বাজারে সবজি বিক্রেতা তোফাজ্জল হোসেন বলেন, কয়েকদিন বৃষ্টির কারণে বাজারে সবজির সরবরাহ কিছুটা কমেছে। আজ পাইকারি সবজি কিনতে গিয়ে দেখি, পাল্লা প্রতি সব সবজির দাম বেড়েছে। আজকের বাজারে সবচেয়ে বেশি দাম যাচ্ছে বেগুনের, যার প্রতি কেজি ১৪০ টাকা। এ ছাড়া, পেঁপের দাম সবচেয়ে কম, যার প্রতি কেজি ৩০ টাকা। বৃষ্টি থেমে গেলে আবার সবজির দাম কমে আসবে।
তেল-চিনির কী অবস্থা
২ সেপ্টেম্বর বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটারে ৫ টাকা বাড়িয়েছে কোম্পানিগুলো। এতে বোতলজাত প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের দাম ১৯৯ থেকে বেড়ে ২০৪ টাকা হয়েছে।
মাসখানেক আগে খোলা চিনির কেজি ছিল ১০৫-১১০ টাকা। গতকাল তিনটি বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, খুচরা দোকানে প্রতি কেজি খোলা চিনি ১১৫ টাকা বিক্রি হচ্ছে। আর মোড়কজাত চিনির কেজি ১২০ টাকা।
বাজারে পোলাও চাল বা সুগন্ধি চালের দাম এখনো ২০০ টাকার আশপাশে। সম্প্রতি পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতারা জানিয়েছিলেন, সুগন্ধি চাল রপ্তানির উন্মুক্ত সুযোগ থাকায় দেশের অভ্যন্তরে সরবরাহ সংকট থেকে দাম বাড়তি। এ জন্য তাঁরা রপ্তানি কমানোর দাবি জানান। এরপর গত মঙ্গলবার সুগন্ধি চাল রপ্তানিতে অনুমোদিত কোটা ৫০ শতাংশ কমানোর প্রজ্ঞাপন জারি করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
সবজির দাম অনেকটা সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। বেশির ভাগ সবজির কেজি এখন ৬০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে। ১০০ টাকার ওপরে দাম রয়েছে বরবটি, বেগুন ও কাঁচা মরিচের।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









