বাংলাদেশের পোশাক খাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, অটোমেশন ও পরিবেশবান্ধব উৎপাদনের দিকে অগ্রসর হওয়ার প্রক্রিয়া অবশ্যই শ্রমিকবান্ধব হতে হবে। এই রূপান্তরের সময় শ্রমিকের অধিকার, কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা, নতুন দক্ষতা অর্জন, সামাজিক সুরক্ষা এবং নীতিগত জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর জোরালো তাগিদ দিয়েছেন খাতসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
মঙ্গলবার গাজীপুরের নাইন্টিস লাউঞ্জে ‘বাংলাদেশের পোশাক খাতে শ্রমিকের দৃষ্টিকোণ থেকে ন্যায্য জ্বালানি রূপান্তরবিষয়ক নীতিগত ব্যবস্থা উন্নয়ন’ শীর্ষক এক বহুপক্ষীয় সংলাপে বক্তারা এসব কথা বলেন।
ন্যাশনাল অ্যালায়েন্স ফর জাস্ট ট্রানজিশন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ লেবার ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ এবং মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন (এমজেএফ) যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে অক্সফাম ইন বাংলাদেশ সহায়তা প্রদান করে। মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের ‘ফ্যাশন ফরওয়ার্ড’ প্রকল্পের অংশ হিসেবে এই আয়োজন করা হয়, যা পোশাক খাতের রূপান্তরকে শ্রমিকের অধিকার ও জীবিকার প্রতি সংবেদনশীল রাখার ওপর গুরুত্ব দেয়।
সংলাপে বিজিএমইএ’র জাস্ট ট্রানজিশনবিষয়ক স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান আমির সেলিম বলেন, পোশাক খাত দেশের প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে এবং জিডিপিতে ১০.৪ শতাংশ অবদান রাখছে। বৈশ্বিক শ্রমবাজারের পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে এ খাতকে এখনই প্রস্তুত হতে হবে। এ সময় তিনি ভবিষ্যৎ উপযোগী কাজের জন্য শ্রমিকদের দক্ষতা উন্নয়ন, ডিজিটাল শিক্ষার প্রসার এবং স্মার্ট কারখানা ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দেন।
ন্যাশনাল অ্যালায়েন্স ফর জাস্ট ট্রানজিশন বাংলাদেশ–এর প্রধান সমন্বয়কারী মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, আধুনিক প্রশিক্ষণ ও পরিবেশবান্ধব মানদণ্ড বাস্তবায়নের মাধ্যমে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি শ্রমিকের মর্যাদা ও কল্যাণ নিশ্চিত করা সম্ভব।
কারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (স্বাস্থ্য) আসাদুজ্জামান কারখানাগুলোর ছাদে সোলার প্যানেল স্থাপন এবং জ্বালানি সাশ্রয়ের সংস্কৃতি গড়ে তোলার আহ্বান জানান। গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক তানিয়া তাবাসসুম বলেন, অটোমেশনের কারণে শ্রমিকদের অপ্রয়োজনীয় হিসেবে দেখা যাবে না; বরং নতুন প্রযুক্তি চালুর সময় তাদের জন্য কাঠামোগত প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে।
শ্রমিক নেতা নাইমুল আহসান জুয়েল পোশাক খাতের জন্য একটি পৃথক ‘আরএমজি জাস্ট ট্রানজিশন ফান্ড’ গঠনের দাবি জানান। তিনি বলেন, অটোমেশনে কাজ হারানো শ্রমিকদের অন্তত তিন মাসের ভাতা এবং লক্ষ্যভিত্তিক পুনঃদক্ষতা প্রশিক্ষণ দেওয়া প্রয়োজন।
মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার পাবলো নেরুদা বলেন, অটোমেশন যেন শ্রমিকের মৌলিক অধিকার ও জীবিকা কেড়ে না নেয়। ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের নতুন দক্ষতায় প্রশিক্ষণ দেওয়ার দায়িত্ব কারখানার মালিকদের নিতে হবে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন গাজীপুরের মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক (অতিরিক্ত) শিরিনা আক্তার, ব্লাস্টের সিনিয়র রিসার্চ অফিসার ফাহাদ বিন সিদ্দিকসহ বিভিন্ন অংশীজন ও ট্রেড ইউনিয়ন নেতারা।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









