মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

The Daily Adin Logo
The Daily Adin Logo

বেরোবিতে রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা: সিদ্ধান্ত আছে, বাস্তবায়ন নেই

প্রকাশিত: ১৯ মে ২০২৬, ১২:৫২ পিএম

আপডেট: ১৯ মে ২০২৬, ১২:৫২ পিএম

বেরোবিতে রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা: সিদ্ধান্ত আছে, বাস্তবায়ন নেই

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর-এ দীর্ঘদিন ধরেই শিক্ষার্থীদের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল লেজুড়বৃত্তিক ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করা। বিশেষ করে জুলাই আন্দোলনের পর এ দাবি আরও জোরালো হয়ে ওঠে। শিক্ষার্থীরা সহিংসতামুক্ত, শিক্ষাবান্ধব ও শান্তিপূর্ণ ক্যাম্পাসের দাবিতে প্রশাসনের কাছে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন।

এরই প্রেক্ষাপটে ২০২৪ সালের ২৮ অক্টোবর অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৮তম সিন্ডিকেট সভায় ছাত্র, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সব ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় উপস্থিত ১৫ সদস্যের মধ্যে ৮ জন সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্যাম্পাসে দলীয় রাজনীতির ইতি টানার ঘোষণা দেওয়া হলেও বাস্তবে সেই সিদ্ধান্তের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন শিক্ষার্থীদের একাংশ।

সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কেউ ব্যানার-ফেস্টুন ব্যবহার করে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করলে কিংবা চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, সিট বাণিজ্য, সহিংসতা ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে আজীবন বহিষ্কার ও ছাত্রত্ব বাতিলের বিধান রাখা হয়। পাশাপাশি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশও করা হবে বলে সিদ্ধান্তে উল্লেখ করা হয়।

এছাড়া অভিযোগ দ্রুত তদন্তে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠনের কথাও বলা হয়, যাদের অভিযোগ পাওয়ার তিন কার্যদিবসের মধ্যে সুপারিশ জমা দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। তবে এসব কঠোর নির্দেশনার বাস্তব প্রয়োগ এখনো দৃশ্যমান নয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ক্যাম্পাসে দলীয় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধের দাবি করলেও বিভিন্ন সময়ে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগ সামনে এসেছে। বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের কমিটি ঘোষণা, রাজনৈতিক আলোচনা সভা, ইফতার মাহফিল, অনানুষ্ঠানিক বৈঠক ও বিভিন্ন কর্মসূচি আয়োজনকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

বিশেষ করে জাতীয়তাবাদী ফোরামের উদ্যোগে আয়োজিত একটি আলোচনা সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের উপস্থিতি নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমালোচনা দেখা দেয়। একইভাবে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে প্রশাসনের সংশ্লিষ্টতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।

সম্প্রতি জাতীয়তাবাদী কর্মকর্তা ফোরাম কণ্ঠভোটের মাধ্যমে দুই বছরের জন্য নতুন কমিটি ঘোষণা করেছে। এতে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন পদে দায়িত্ব বণ্টন করা হয়। অন্যদিকে শিবির ও ছাত্রদলের মতো সংগঠনগুলোর আংশিক কমিটি ঘোষণার ঘটনাও ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।

লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধের পর শিক্ষার্থীরা একটি প্রতিনিধিত্বশীল ছাত্র সংসদ নির্বাচনের প্রত্যাশা করেছিলেন। তবে সেই প্রত্যাশা এখনো পূরণ হয়নি। কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (ব্রাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন একাধিকবার পিছিয়ে যাওয়ার পর ২৫ ফেব্রুয়ারি তারিখ নির্ধারণ করা হলেও জাতীয় নির্বাচনের কারণে তা স্থগিত করা হয়।

জাতীয় নির্বাচন শেষ হওয়ার পরও দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো নতুন তফসিল ঘোষণা হয়নি। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশা ও অনিশ্চয়তা বাড়ছে। দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের দাবিতে তারা প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করেছেন বলেও জানা গেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী শামসুর রহমান সুমন বলেন, “বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে লেজুড়বৃত্তিক ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের ইতিহাস অন্যরকম। ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের পর শহীদ আবু সাঈদের মৃত্যুসহ বিভিন্ন ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা চেয়েছিল ভবিষ্যতে যেন আর কোনো ক্ষমতাসীন ছাত্রসংগঠন শিক্ষার্থীদের ওপর সহিংস হয়ে উঠতে না পারে। সিট বাণিজ্য, টেন্ডারবাজি ও রাজনৈতিক মিছিল-মিটিং যেন শিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশ নষ্ট না করে, সে কারণেই শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসভিত্তিক ইতিবাচক ছাত্ররাজনীতির দাবি তুলেছিল।”

তিনি আরও বলেন, “গণস্বাক্ষর সংবলিত স্মারকলিপির মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি জানালে প্রশাসন ১০৮তম সিন্ডিকেটে সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু বারবার সেই সিদ্ধান্ত লঙ্ঘিত হলেও প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করছে। এতে প্রশাসনিক দুর্বলতাই প্রকাশ পাচ্ছে।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষার্থী এসএম আশিকুর রহমান বলেন, “লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ এখন শুধু কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ। আইন অনুযায়ী শাস্তির বিধান থাকলেও প্রশাসন এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। বরং বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে প্রশাসনের সম্পৃক্ততা দেখা যাচ্ছে।”

শিক্ষার্থী নয়ন বলেন, “দলীয় ছাত্ররাজনীতি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিভাজন ও সহিংসতা তৈরি করে। রাজনৈতিক স্বার্থে শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করা হয়। ১০৮তম সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দলীয় রাজনীতি নিষিদ্ধ হলেও বাস্তবে তার প্রয়োগ দেখা যাচ্ছে না।”

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো: ফেরদৌস রহমান বলেন, “সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ে সব ধরনের লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ রয়েছে। তবে শিবির বা ছাত্রদলের কমিটি বিশ্ববিদ্যালয় দেয় না, এগুলো কেন্দ্র থেকে ঘোষণা করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে আপাতত কোনো ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ নেই। তবে জাতীয়তাবাদী ফোরামের মতো কিছু পেশাজীবী সংগঠন রয়েছে, যেগুলো সরাসরি রাজনৈতিক সংগঠন নয়।”

ল/বে/কাও

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো. সাইদুল ইসলাম সাজু
নির্বাহী সম্পাদক: খন্দকার মোজাম্মেল হক

শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস ২৮/বি, টয়েনলি সার্কুলার রোড, মতিঝিল-১০০০, ঢাকা থেকে মুদ্রিত

যোগাযোগ করুন

টাওয়ার-এ (২য় তলা), হাউস-১৩, রোড-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩।

০২-২২৬৬০৩৩৫২

০১৮৯৭-৬৬৪৬৫৬

ইমেইল : dailyadinbd@gmail.com

আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া

facebookyoutubetiktok

© স্বত্ব ২০২৬, দৈনিক এদিন

Design & Developed byBongosoft Ltd.