আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে মসলা ও কোরবানির পশুর চামড়ায় ব্যবহৃত লবণের বাজার স্থিতিশীল রাখতে কুষ্টিয়া জেলায় কঠোর অবস্থানে নেমেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার (১৮মে) কুষ্টিয়া শহরের বড়বাজার, এসবি রোড আড়ুয়াপাড়া এবং এন.এস রোড বাজার এলাকায় এক বিশেষ তদারকিমূলক অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ভেজাল মসলা তৈরি ও মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করার অপরাধে দুটি প্রতিষ্ঠানকে ১১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই সাথে ফুটপাত দখল করে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার বিক্রির বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়। কুষ্টিয়া জেলা জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর
সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন কোরবানির ঈদে পশুর চামড়া সংরক্ষণে লবণের চাহিদা ব্যাপক বৃদ্ধি পায়। এই সুযোগে কোনো অসাধু চক্র যেন কৃত্রিম সংকট তৈরি বা অতিরিক্ত মূল্য আদায় করতে না পারে, সেজন্য বড়বাজার ও এসবি রোড আড়ুয়াপাড়ায় লবণের মূল্য ও সরবরাহ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়। এ সময় ব্যবসায়ীদের ক্রয়-বিক্রয় ভাউচার পরীক্ষা করা হয়। পাশাপাশি গরম মসলার পাইকারি ও খুচরা বাজারে সুনির্দিষ্ট মূল্য তালিকা এবং স্টক রেজিস্টার রয়েছে কি না, তা যাচাই করেন কর্মকর্তারা।
এছাড়া এন.এস রোডের বিভিন্ন হোটেল ও কনফেকশনারি দোকানে আকস্মিক পরিদর্শন চালিয়ে সার্বিক খাদ্যমান পরীক্ষা করা হয়। অভিযান চলাকালীন বাজারে নানা অনিয়ম ও প্রতারণার চিত্র উঠে আসে। এর মধ্যে মসলার ক্রয়-বিক্রয় ভাউচার সংরক্ষণ না করা এবং মূল্য তালিকায় মসলার দাম প্রদর্শন না করে ক্রেতাদের ঠকানোর অপরাধে বড়বাজারের ‘মেসার্স তৃপ্তি বাণিজ্যালয়’-কে ৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অন্যদিকে, এসবি রোড আড়ুয়াপাড়া এলাকার ‘প্রভাতী মসলার মিল’-এ তল্লাশি চালিয়ে ভয়াবহ অনিয়ম দেখা যায়। প্রতিষ্ঠানটি জনস্বাস্থ্যের তোয়াক্কা না করে অত্যন্ত মানহীন মরিচ দিয়ে গুঁড়া তৈরি করছিল এবং ওজন ও মুনাফা বাড়াতে ধনিয়ার গুঁড়ার সাথে তেজপাতার গুঁড়া মেশাচ্ছিল। এই অপরাধে মিলটিকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। আইন লঙ্ঘনকারী এই দুটি প্রতিষ্ঠান থেকে মোট ১১ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। সেই সাথে ভবিষ্যতে আর কখনো এ ধরনের জনস্বার্থবিরোধী ও দণ্ডনীয় অপরাধ করবেন না মর্মে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে লিখিত অঙ্গীকারনামা গ্রহণ করা হয়।
বাজার মনিটরিংয়ের পাশাপাশি শহরের এন.এস রোড এলাকায় ফুটপাত দখল করে অস্বাস্থ্যকর ও অনিরাপদ উপায়ে মুখরোচক খাবার তৈরি ও বিক্রি বন্ধে কঠোর অবস্থান নেয় অধিদপ্তর। সাধারণ মানুষের চলাচলের বিঘ্ন না ঘটিয়ে এবং শতভাগ স্বাস্থ্যবিধি মেনে ব্যবসা পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের চূড়ান্ত নির্দেশনা প্রদান করা হয়। ভোক্তা-অধিকারের এই গুরুত্বপূর্ণ অভিযানে নেতৃত্ব দেন কুষ্টিয়া জেলা জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোঃ মাসুম আলী। বাজার তদারকির এই কার্যক্রমে টেকনিক্যাল ও প্রশাসনিক সহায়তা প্রদান করেন কুষ্টিয়া সদর উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর ও দায়িত্বপ্রাপ্ত নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক। অভিযানে যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের একটি চৌকস টিম এবং র্যাব ক্যাম্পের একটি টহল দল সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।
অভিযান শেষে কুষ্টিয়া জেলা জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোঃ মাসুম আলী জানান, "আসন্ন ঈদকে কেন্দ্র করে কোনো সিন্ডিকেট বা অসাধু চক্রকে বাজার অস্থিতিশীল করতে দেওয়া হবে না। চামড়ার লবণ থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ও মান ঠিক রাখতে কুষ্টিয়ায় এই ধরনের কঠোর ও ঝটিকা অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।"


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









