রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতি ও আপগ্রেডেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় আবারও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন পদোন্নতি বঞ্চিত কর্মকর্তারা। তাদের অভিযোগ, একাধিকবার সাক্ষাৎকার বোর্ডের তারিখ ঘোষণা, বারবার আশ্বাস এবং প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত কোনো বোর্ড অনুষ্ঠিত হয়নি। এতে তারা চরম হতাশা ও বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন বলে দাবি করেছেন।
সোমবার (২৯ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের দ্বিতীয় তলায় অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন আন্দোলনরত কর্মকর্তারা। একই সঙ্গে তারা রেজিস্ট্রারের কাছে লিখিত আবেদন জমা দেন।
আবেদনে কর্মকর্তারা উল্লেখ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী পদোন্নতি ও আপগ্রেডেশনের জন্য তারা আবেদন করেন এবং ২০২৫ সালের ১৯ জানুয়ারি প্রথম সাক্ষাৎকার বোর্ড অনুষ্ঠিত হলেও কাউকে পদোন্নতির জন্য সুপারিশ করা হয়নি। এরপর উপাচার্য বর্তমান পদে চার বছর পূর্ণ হলে পদোন্নতির ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। সেই অনুযায়ী আবেদন করলেও পরবর্তীতে ২৬ নভেম্বর ২০২৫, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ এবং সর্বশেষ ৯ মে ২০২৬ তারিখে বোর্ডের তারিখ নির্ধারণ করে বারবার তা স্থগিত করা হয়।
তাদের অভিযোগ, সর্বশেষ উপাচার্য বিদেশ সফর শেষে ২৮ জুন বোর্ড আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দিলেও নির্ধারিত দিনেও বোর্ড অনুষ্ঠিত হয়নি।
আন্দোলনরত কর্মকর্তাদের দাবি, একই নীতিমালায় অতীতে কয়েকজন কর্মকর্তা পদোন্নতি পেলেও তারা দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চিত রয়েছেন। ফলে পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের মাসিক বেতনে প্রায় ১৫ হাজার টাকার ব্যবধান সৃষ্টি হয়েছে। নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হলে এ ব্যবধান আরও বাড়বে বলেও তারা উল্লেখ করেন।
তাদের ভাষ্য, গত প্রায় এক বছর ধরে বিভিন্ন সময়ে প্রশাসনের সঙ্গে বহুবার আলোচনা করেও কেবল আশ্বাস মিলেছে, বাস্তব কোনো অগ্রগতি হয়নি। সর্বশেষ কর্মবিরতি কর্মসূচিও উপাচার্য ও রেজিস্ট্রারের আশ্বাসে স্থগিত করা হয়েছিল।
আন্দোলনরত কর্মকর্তারা বলেন, "আমরা নিয়ম অনুযায়ী আবেদন করেছি। বারবার বোর্ডের তারিখ দিয়ে তা বাতিল করা হয়েছে। একজন উপাচার্যের ধারাবাহিক প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ আমাদের গভীরভাবে হতাশ করেছে। এখন আর মৌখিক আশ্বাসে আমাদের আস্থা নেই।
একাডেমিক শাখার সহকারী কম্পিউটার প্রোগ্রামার মনজুরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা এ পর্যন্ত প্রায় ৫০ বার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছি। যথাযথ নিয়মে আবেদন করেছি। কিন্তু দীর্ঘদিনেও আমাদের পদোন্নতির বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বারবার বোর্ড বসানোর ক্ষেত্রে গড়িমসি করছে। এর আগে আমরা কর্মবিরতি পালন করেছিলাম। তখন উপাচার্য ও রেজিস্ট্রারের আশ্বাসে কর্মসূচি প্রত্যাহার করি। ২৮ জুন বোর্ড অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও সেটি হয়নি।’
লিখিত আবেদনে আরও বলা হয়, পদোন্নতি বোর্ড দ্রুত অনুষ্ঠিত না হলে তারা কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবেন। উদ্ভূত যেকোনো পরিস্থিতির দায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে নিতে হবে বলেও তারা উল্লেখ করেন।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। শুধু নিয়োগ নয়, পদোন্নতির ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









