কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে এক নারী শিক্ষার্থীকে কু-প্রস্তাব ও শ্লীলতাহানি চেষ্টার ন্যাক্কারজনক ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডার্ন্স সোসাইটি, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সংগঠনটির সভাপতি আলী আহসান মুহাম্মদ জুবাইর ও সাধারণ সম্পাদক খাদেমুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক যৌথ বিবৃতিতে এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
মানবাধিকারকর্মীদ্বয় জানান, গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, বুধবার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তি কর্তৃক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী; কু-প্রস্তাব ও শ্লীলতাহানির শিকার হন। এ ঘটনা কেবল একজন শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও সম্ভ্রমকেই ক্ষুণ্ন করেনি, বরং সামগ্রিকভাবে শিক্ষাঙ্গনে নারীদের নিরাপত্তা ও স্বাধীন চলাচলের অধিকারকে মারাত্মক হুমকির মুখে ফেলেছে।
তারা আরো বলেন, দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নারী শিক্ষার্থীদের ওপর নানাবিধ নির্যাতন ও হয়রানির ঘটনা অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়ায় শিক্ষাঙ্গনগুলো আজ অপরাধীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায়, রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে অপরাধীরা পার পেয়ে যায়, যা ভবিষ্যৎ অপরাধীদের আরও বেশি উৎসাহিত করে।
অবিলম্বে এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার এবং দেশের সকল শিক্ষাঙ্গনে নারীদের জন্য একটি নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানায় হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডার্ন্স সোসাইটি।
উল্লেখ, এর আগে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী প্রক্টর বরাবর অভিযোগ করেন। অভিযোগ পত্রে ভুক্তভোগী লিখেন, ১ জুলাই বেলা ১১ ঘটিকা হতে ১১ টা ১৫ মিনিটের মধ্যে কলা অনুষদের ৫ম তলায় ফোকলোর স্টাডিজ বিভাগের বাড়িডোরে তার সাথে আপত্তিকর ও যৌন হয়রানির মতো একটি ঘটনা ঘটে। উক্ত লোকটিকে সে ইতোপূর্বে দেখেননি এবং ঘটনাটি তাকে মানসিকভাবে অত্যন্ত বিব্রত ও আতঙ্কিত করেছে।
ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আলীনূর রহমানকে আহ্বায়ক এবং সদস্য সচিব সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহা. খাইরুল ইসলাম ও ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. ওবায়দুল ইসলামকে সদস্য করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









