জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রতি সেমিস্টারে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জকসু) বাবদ আদায় করা অর্থ এখনও জকসুর কাছে হস্তান্তর করেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন—এমন অভিযোগ করেছেন জকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি) রিয়াজুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘‘অর্থ হস্তান্তরে দীর্ঘসূত্রতার কারণে শিক্ষার্থীদের কল্যাণে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন ব্যাহত হচ্ছে।’’
সোমবার (৬ জুলাই) জকসুর উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের ক্রীড়া দলের মাঝে ফুটবল বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রিয়াজুল ইসলাম বলেন, “শিক্ষার্থীরা প্রতি সেমিস্টারে জকসুর জন্য ২০০ টাকা করে দিচ্ছেন। কিন্তু আজ পর্যন্ত সেই অর্থ আমাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি। আমরা প্রশাসনের কাছে অর্থ চাইতে গেলে কখনো কমিটি গঠন, কখনো নীতিমালা প্রণয়নের কথা বলা হয়। এভাবে নীতিমালা করতেই যদি সময় চলে যায়, তাহলে আমাদের মেয়াদই শেষ হয়ে যাবে।”
তিনি জানান, জকসু শিক্ষার্থীদের কল্যাণে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে শিক্ষার্থীদের জন্য একটি জিমনেশিয়াম স্থাপনের উদ্যোগও রয়েছে। সাবেক উপাচার্যের আমলে জিমনেশিয়ামের জন্য স্থান বরাদ্দের বিষয়টি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছিল এবং প্রকল্পটির জন্য স্পন্সরও নিশ্চিত করা হয়। তবে বর্তমান প্রশাসনের কাছ থেকে স্থান বরাদ্দ না পাওয়ায় উদ্যোগটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।
ভিপি আরও বলেন, ‘‘বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্যারেজের নিচে পর্যাপ্ত জায়গা রয়েছে, যেখানে অল্প পরিসরেই একটি জিমনেশিয়াম স্থাপন করা সম্ভব। স্থান বরাদ্দ পেলে জকসুর ক্রীড়া সম্পাদকের নেতৃত্বে শিক্ষার্থীদের জন্য জিম স্থাপন করা হবে।’’
ফুটবল বিতরণ কর্মসূচি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘একটি ফুটবল কোনো বিভাগের ক্রীড়া দলের চাহিদা পূরণ করতে পারে না। একটি দল পরিচালনার জন্য একাধিক ফুটবল, জার্সি, জুতা, প্রশিক্ষণ সামগ্রী, পুষ্টিকর খাদ্য ও চিকিৎসা সহায়তাসহ নানা ধরনের সুবিধা প্রয়োজন। ফুটবল বিতরণের উদ্দেশ্য মূলত শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা ও শরীরচর্চায় উৎসাহিত করা।’’
রিয়াজুল ইসলাম আরও বলেন, ‘‘জকসুর প্রতিনিধিরা শিক্ষার্থীদেরই প্রতিনিধি। জকসুর কার্যক্রমে কোনো ঘাটতি বা ভুল থাকলে শিক্ষার্থীরা তা তুলে ধরলে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে সেসব সংশোধনের চেষ্টা করা হবে।’’ একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সহযোগিতায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে জকসুর ক্রীড়া সম্পাদক জর্জিস আনোয়ার নাঈম বলেন, ধূপখোলা মাঠের বৈধ মালিকানাসংক্রান্ত কাগজপত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের হাতে না থাকায় সেখানে কোনো ধরনের উন্নয়নমূলক কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে মাঠের অবকাঠামো উন্নয়নসহ বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বাধার সৃষ্টি হচ্ছে।
এ সময় জকসুর সমাজসেবা সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক সুখীমন খাতুন, কার্যনির্বাহী সদস্য ফাতেমা আওরীনসহ জকসুর অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









