পুরান ঢাকার মুরগিটোলা মোড় এলাকায় পুলিশের সাথে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে সাংবাদিক ও পুলিশসহ অন্তত ১৩ জন আহত হয়েছেন। আহতদের ঢাকা ন্যাশনাল মেডিক্যাল ইনস্টিটিউট হাসপাতাল ও রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে (সিপিএইচ) চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাত ১টার দিকে এই ঘটনা ঘটে।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন আমার দেশ পত্রিকার রিপোর্টার ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক লিমন ইসলাম এবং দৈনিক সময়ের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি অপূর্ব রয়সহ অন্তত ১০ জন শিক্ষার্থী। ঘটনার পর রাত আড়াইটা থেকে সাড়ে তিনটা পর্যন্ত মুরগিটোলা মোড় সড়ক অবরোধ করে রাখেন ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ল অ্যান্ড ল্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগের ১৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আশরাফুল ইসলামের বাসা থেকে জুতা চুরির অভিযোগ ওঠে মাইকেল নামে এক স্থানীয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে। সিসিটিভি ফুটেজে শনাক্তের পর শিক্ষার্থীরা মাইকেলকে আটকে রাখলে স্থানীয়রা এসে তাকে ছাড়িয়ে নেয় এবং শিক্ষার্থীদের ওপর আক্রমণ করে। এর জেরে কয়েকশত শিক্ষার্থী ক্ষুব্ধ হয়ে হামলাকারীদের খুঁজতে বের হলে তারা একটি বাসায় আশ্রয় নেয়। শিক্ষার্থীরা বাড়িটি ঘেরাও করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত মাইকেলকে উদ্ধার করে নিয়ে আসার চেষ্টা করে। এ সময় শিক্ষার্থীরা তাকে ছিনিয়ে নিতে চাইলে পুলিশের সাথে সংঘর্ষ বাঁধে এবং পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করে।
আহত সাংবাদিক অপূর্ব রয় বলেন, "আমি ঘটনার ছবি তুলছিলাম। এক পর্যায়ে এক পুলিশ সদস্য আমার ওপর লাঠিচার্জ শুরু করেন। এতে আমার পায়ে ও শরীরে আঘাত লাগে।" মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত আইন বিভাগের শিক্ষার্থী আজহারুল ইসলাম বলেন, "আমি শান্তিপূর্ণভাবে দাঁড়িয়েছিলাম, কিন্তু পুলিশ আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা করে। আমার মাথায় তিনটি সেলাই লেগেছে।"
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. নাসির উদ্দিন বলেন, "আমার প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীর গায়ে এভাবে অন্যায়ভাবে পুলিশ লাঠিচার্জ করতে পারে না। আমরা এ বিষয় নিয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলবো।"
এ বিষয়ে ডেমরা জোনের এডিসি মীর মুহসীন মাসুদ বলেন, "ঘটনার সূত্রপাত জুতা চুরিকে কেন্দ্র করে। আমরা মূল আসামিকে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের মাঝ থেকে বের করে নিয়ে আসার সময় শিক্ষার্থীরা তাকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ করতে বাধ্য হয়। এতে পুলিশের ৫ জন সদস্য আহত হয়েছেন।" তবে ঘটনার পর মূল আসামি মাইকেল ও আশিকুর রহমান আশিককে আটক করেছে পুলিশ।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









