গত বছরের মতো এবারও ৫ আগস্ট ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) শিক্ষার্থীদের উন্নতমানের খাবারের টোকেন বিতরণে আবাসিক ও অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে মূল্য বৈষম্যের অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (২৫ জুলাই) ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভোস্ট কাউন্সিলের সভাপতি ও খালেদা জিয়া হলের প্রভোস্ট প্রফেসর ড. মো. জালাল উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। হল প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্তে শিক্ষার্থীদের মাঝে চলছে সমালোচনার ঝড়।
বিজ্ঞপ্তিতে দেখা যায়, ৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে উন্নতমানের খাবারের টোকেন আগামী ২৮ জুলাই থেকে ২ আগস্ট প্রতিদিন বেলা ৩টার মধ্যে স্ব স্ব হলে নির্দিষ্ট ফি জমা দিয়ে সংগ্রহ করতে বলা হয়।
এতে দেখা যায়, আবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য টোকেন মূল্য ৭০ টাকা এবং অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য ১০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর এই মূল্য পার্থক্য কেন্দ্র করেই সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে।
আবাসিক ও অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে ফি-এর এই পার্থক্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীরা বলেন, “গণঅভ্যুত্থান ছিল বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ফসল। সেই দিবসের খাবারের টোকেনেই যদি আবাসিক ও অনাবাসিক বৈষম্য তৈরি করা হয়, তবে তা অত্যন্ত দুঃখজনক ও হাস্যকর।”
ইবি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাসুদ রুমি মিথুন ফেকবকে লেখেন, “আগামী ৫ই আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে উন্নতমানের খাবারের টোকেন মূল্যে আবাসিক ও অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রভোস্ট কাউন্সিল কর্তৃক বৈষম্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে ইবি ছাত্রদল। বৈষম্যহীন বাংলাদেশের স্বপ্নে রক্ত দেওয়া গণঅভ্যুত্থানের স্মারক দিবসে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে এমন দ্বিমুখী নীতি অত্যন্ত দুঃখজনক ও গণঅভ্যুত্থানের চেতনা পরিপন্থী। আমাদের দাবি সকল শিক্ষার্থীর জন্য অভিন্ন ও সুলভ মূল্যে খাবারের টোকেন নিশ্চিত করতে হবে।”
ইবি শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মো. রাশেদুল ইসলাম রাফি লেখেন, “জুলাই বিপ্লব ও গণঅভ্যুত্থানের মূল চেতনাই ছিল 'বৈষম্যহীন সমাজ ও ক্যাম্পাস গঠন', সেখানে এই দিবস উদযাপনেই আবাসিক ও অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে এমন আর্থিক বৈষম্য সকলকে ব্যথিত করে। ক্যাম্পাসের প্রতিটি শিক্ষার্থীই বিশ্ববিদ্যালয়ের সমান অংশীদার। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে অনুরোধ আবাসিক ও অনাবাসিক বৈষম্য দূর করে, সকল শিক্ষার্থীর কথা বিবেচনা করে খাবারের মূল্য ৭০ টাকা নির্ধারণ করা।”
এ বিষয়ে প্রভোস্ট কাউন্সিলের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. জালাল উদ্দিন জানান, এটা প্রভোস্ট কাউন্সিলের সম্মিলিত সিদ্ধান্ত। যেহেতু ৫ আগস্টের আগে অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য কোনো ব্যবস্থা ছিল না, আগস্ট পরবর্তী আমরা শিক্ষার্থীদের প্রতি যথেষ্ট আন্তরিক। আবাসিক শিক্ষার্থীরা সারা বছর হলের বিভিন্ন খাতে নিয়মিত ফি প্রদান করে থাকে। সেই বিষয়টি বিবেচনায় রেখে প্রভোস্ট কাউন্সিল টোকেনের মূল্য নির্ধারণ করেছে। এখানে কাউকে বৈষম্যের শিকার করার উদ্দেশ্য নেই।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









