চালুর প্রায় এক বছর পেরিয়ে গেলেও পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) নতুন একাডেমিক ভবন-২ (আই-আকৃতির) ও একাডেমিক ভবন-৩ (ইউ-আকৃতির) এখনো অধিকাংশ শ্রেণিকক্ষ ও গবেষণাগারে ইন্টারনেট সংযোগ পৌঁছায়নি। এতে নিয়মিত পাঠদান, ব্যবহারিক শিক্ষা, অনলাইন রিসোর্স ব্যবহার ও গবেষণামূলক কার্যক্রমে ভোগান্তিতে পড়ছেন শিক্ষার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন ভবন দুটির বিভাগীয় কার্যালয়, কনফারেন্স রুমসহ কিছু নির্দিষ্ট স্থানে সীমিত পরিসরে ইন্টারনেট সংযোগ রয়েছে। তবে অধিকাংশ শ্রেণিকক্ষ ও গবেষণাগার এখনো এ সুবিধার বাইরে। ফলে ডিজিটাল শিক্ষাকার্যক্রম, অনলাইনভিত্তিক ব্যবহারিক শিক্ষা এবং গবেষণার প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহে শিক্ষার্থীদের নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) শিক্ষার্থীদের অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিনে দেখা যায়, একাডেমিক ভবন-২-এ বিজ্ঞান অনুষদের ফার্মেসি ও রসায়ন বিভাগের পাশাপাশি মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের অর্থনীতি, লোকপ্রশাসন, বাংলা, ইংরেজি ও সমাজকর্ম বিভাগের একাডেমিক ও গবেষণামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
অন্যদিকে, একাডেমিক ভবন-৩-এ প্রকৌশল অনুষদের বিভিন্ন বিভাগের পাশাপাশি বিজ্ঞান অনুষদের গণিত, পরিসংখ্যান ও উপাত্ত বিজ্ঞান বিভাগ এবং বাণিজ্য অনুষদের বিভিন্ন একাডেমিক ও গবেষণামূলক কার্যক্রম চলছে।
প্রতিদিন এসব ভবনে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর পাঠদান ও ব্যবহারিক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হলেও শ্রেণিকক্ষ ও গবেষণাগারে নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সুবিধা না থাকায় একাডেমিক কাজ ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। বিশেষ করে অনলাইন জার্নাল ও রিসোর্স ব্যবহার, অ্যাসাইনমেন্ট, ভাইভা, থিসিস এবং ব্যবহারিক কাজের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহে তাদের ক্যাম্পাসের অন্য স্থান কিংবা ব্যক্তিগত মোবাইল ডেটার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থী মারুফ আকন্দ বলেন, “বর্তমান সময় তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর। একটি প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ একাডেমিক ভবনগুলোতে ইন্টারনেট সংযোগ থাকা অত্যন্ত জরুরি। পড়াশোনা, ভাইভা, থিসিস ও প্র্যাকটিক্যালের বিভিন্ন তথ্য দ্রুত খুঁজে পেতে ইন্টারনেটের বিকল্প নেই। আমরা আশা করি, প্রশাসন দ্রুত একাডেমিক ভবনগুলোতে উচ্চগতির ও নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সংযোগের ব্যবস্থা করবে।”
ইলেকট্রিক্যাল, ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী মো. আল মামুন তাকবির বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনে দ্রুতগতির ইন্টারনেট থাকা এখন আর বিলাসিতা নয়, এটি শিক্ষার অপরিহার্য অংশ। পড়াশোনা, গবেষণা, অনলাইন রিসোর্স ব্যবহার, অ্যাসাইনমেন্ট এবং বিভিন্ন একাডেমিক তথ্য সংগ্রহের জন্য ইন্টারনেট প্রয়োজন। নিরবচ্ছিন্ন ওয়াই-ফাই থাকলে শিক্ষার্থীরা আরও দক্ষতার সঙ্গে পড়াশোনা করতে পারবে এবং আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারবে।”
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) সেলের পরিচালক অধ্যাপক ড. আব্দুর রহিম বলেন, “আমরা বিভাগীয় অফিস ও কনফারেন্স রুমগুলোতে ইতোমধ্যে ইন্টারনেট সংযোগ দিয়েছি। ক্লাসরুমগুলোতে সংযোগ দেওয়ার জন্য বাজেট দেওয়া আছে। বাজেট অনুমোদন হলে দ্রুত সময়ের মধ্যে শ্রেণিকক্ষগুলোতেও ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়া সম্ভব হবে বলে আমরা আশাবাদী।”
শিক্ষার্থীরা বলছেন, একটি প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন একাডেমিক ভবন চালুর প্রায় এক বছর পরও শ্রেণিকক্ষ ও গবেষণাগারে ইন্টারনেট সুবিধা না থাকা আধুনিক ও ডিজিটাল শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাদের দাবি, শিক্ষার্থীদের পাঠদান, ব্যবহারিক শিক্ষা ও গবেষণামূলক কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে দ্রুত সব শ্রেণিকক্ষ ও গবেষণাগারে উচ্চগতির, নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিত করা হোক।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









