বিভিন্ন সময়ে রেলওয়ে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের উপর বিনা টিকিটে ভ্রমণকারী সংঘবদ্ধ চক্রের দ্বারা সন্ত্রাসী হামলায় জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে রেলওয়ের লালমনিরহাট বিভাগীয় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে রেলওয়ের বিভাগীয় ব্যবস্থাপকের কার্যালয় প্রাঙ্গণে ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে অংশ নেয়া বক্তারা জানান, রাজশাহী রুটে চলাচলকারী বিভিন্ন আন্তঃনগর ও লোকাল ট্রেনে বিনা টিকিটের কিছু যাত্রী (সিন্ডিকেট) যারা এসি শ্রেণীর কোচের করিডোরে ভ্রমণ করে এবং বৈধ টিকিটধারী যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্য ভ্রমণে বিঘ্ন সৃষ্টি করে। এরা কখনোই টিকিট কেটে ট্রেনে ভ্রমণ করে না। টিকিট দেখতে চাইলে তারা একত্রে ৮/১০ দশ জন মিলিত হয়ে বিভিন্নভাবে হট্টগোল শুরু করে এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। তারা সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারী যারা টিকিট চেকিং করে তাদের সাথে বাগবিতণ্ডায় জড়ায় এবং বিভিন্ন ধরনের হুমকি ধামকি দিয়ে থাকে। এরা একটি সংঘবদ্ধ চক্র।
বক্তারা জানান, গত ৪ জুলাই বনলতা এক্সপ্রেস এবং ২৫ জুলাই সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেনে বিনা টিকিটের যাত্রীরা রেলকর্মীদের ওপর সন্ত্রাসী হামলা করে। এদিকে গত ৭ আগস্ট ‘সিল্কসিটি’ ট্রেনটি আব্দুলপুর স্টেশন থেকে ছেড়ে আসার পরে ‘ঙ’ কোচে কিছু বিনা টিকিটের যাত্রী ওঠে। যাদেরকে ন্যূনতম ভাড়া ও জরিমানা আদায় করে নন এসি কোচ চলে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়। এতে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং প্রাণনাশের হুমকি দিতে থাকে। পরবর্তীতে ট্রেনটি রাজশাহী স্টেশনে আসার পরে সংঘবদ্ধ চক্রটি রেলওয়ে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের উপর অতর্কিতভাবে সন্ত্রাসী কায়দায় হামলা করে।
বক্তারা আরও বলেন, এসব ঘটনায় টিকিট চেকিং কার্যক্রমের সাথে সম্পৃক্ত কর্মকর্তা কর্মচারীগণ কর্মস্পৃহা হারাচ্ছে। যার কারণে সরকারি রাজস্ব আয়ের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। সরকারি কর্মকর্তাদের উপর অতর্কিত সন্ত্রাসী হামলা ও সরকারী কাজে বাধাদান একটি ফৌজদারি অপরাধ। রেলওয়ে কর্মচারীদের উপর সন্ত্রাসী হামলার সাথে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও বিচারের জোর দাবি জানান তারা।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









