জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীদের জন্য আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন কর্তৃক পরিচালিত ‘মেধাবী প্রকল্পের’ উদ্যোগে ‘আউটডোর ইভেন্ট ২.০’, ‘স্টুডেন্ট অব দ্য ইয়ার’ ও ‘ফটো কনটেস্ট’-এর পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের মেধাবী মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার ও সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন। অনুষ্ঠানে মেধাবী প্রকল্পের আওতায় আবাসিক শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন কার্যক্রম, প্রতিযোগিতা ও অর্জনের বিষয় তুলে ধরা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসনসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা প্রদানের উদ্যোগ নেওয়ায় আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের কল্যাণে এ ধরনের উদ্যোগ আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদের জন্য রহমতস্বরূপ। একটি বিশেষ পরিবেশে শিক্ষার্থীদের গড়ে তোলার যে উদ্যোগ আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন গ্রহণ করেছে, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। ভবিষ্যতে এ কার্যক্রমের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লেষ ও তত্ত্বাবধান আরও বৃদ্ধি পাবে।
উপাচার্য বলেন, মেধাবী প্রকল্পের আওতায় আবাসিক শিক্ষার্থীরা যে সুযোগ-সুবিধা ও শিক্ষার পরিবেশ পাচ্ছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য অনেক শিক্ষার্থী এখনো সেই সুযোগ পাচ্ছে না। ফলে এ শিক্ষার্থীদের দায়িত্বও অনেক বেশি। তাদের প্রত্যেককে দেশের সম্পদ হিসেবে গড়ে উঠতে হবে এবং সমাজে অনুকরণীয় আদর্শ ও গর্বের ধন হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; নৈতিকতা, মানবিকতা ও আদর্শিক মূল্যবোধে নিজেদের সমৃদ্ধ করতে হবে। সুন্নাহর প্রকৃত অনুসারী হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলে জ্ঞান, বিজ্ঞান ও মানবকল্যাণে অবদান রাখার প্রত্যয় ধারণ করতে হবে।
অতীতে সুন্নাহর অনুসরণে মুসলিম বিশ্বে জ্ঞান-বিজ্ঞানসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যে পথিকৃৎদের আবির্ভাব ঘটেছিল, শিক্ষার্থীদেরও তাঁদের আদর্শ ও কর্মপ্রেরণা থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে বলে মন্তব্য করেন উপাচার্য।
তিনি বলেন, “তোমাদের ইসলামের মডেল এবং জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রতীক হিসেবে গড়ে উঠতে হবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে উপাচার্য আরও বলেন, ইসলামকে সর্বজনীন মূল্যবোধ হিসেবে ধারণ করতে হবে এবং সমাজে কোনো ধরনের ভেদাভেদ না রেখে মানবিকতা, সম্প্রীতি ও কল্যাণের চর্চা করতে হবে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের মেধাবী প্রকল্পের ইনচার্জ মামুনুর রশীদ। তিনি মেধাবী প্রকল্পের কার্যক্রম, আবাসিক শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা এবং শিক্ষার্থীদের মেধা ও প্রতিভা বিকাশে আয়োজিত বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে সংক্ষিপ্তভাবে তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. মোস্তফা হাসান, ছাত্র হল-১-এর প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. ওমর ফারুক, প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আজম খান, আইসিটি সেলের পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, লোকপ্রশাসন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. নঈম আকতার সিদ্দিক, পরিবহন প্রশাসক ড. তারেক বিন আতিক, প্রধান প্রকৌশলী মো. হেলাল উদ্দিন পাটোয়ারী, সহকারী প্রক্টরবৃন্দ, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, মেধাবী প্রকল্পের আবাসিক শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
পরে মেধাবী প্রকল্পের আওতাধীন আবাসিক শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার ও সম্মাননা প্রদান করা হয়। এর মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









