চীনের শিক্ষা ব্যবস্থা, বাংলাদেশে চীনা ভাষা শিক্ষার প্রসার এবং বাংলাদেশ-চীনের মধ্যে শিক্ষা ও একাডেমিক সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী বিষয়ক সেল (আইএসএসি)-এর উদ্যোগে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
সেমিনারে চীনের শিক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন স্তর, বাংলাদেশে চীনা ভাষা শিক্ষার ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব এবং দুই দেশের মধ্যে একাডেমিক, কারিগরি, প্রযুক্তিগত ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. এমজাদ হোসেন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. ইদ্রিস আলী এবং ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. আতিকুর রহমান।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের চীনা পরিচালক ড. ইয়াং হুই। আলোচক হিসেবে অংশ নেন কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের প্রভাষক আকিব ইরফান। অনুষ্ঠানটি সমন্বয় করেন আইএসএসি’র আহ্বায়ক ও পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে চীনা ভাষা শিক্ষা পুনরায় চালুর সম্ভাবনার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়। করোনা মহামারির সময় স্থগিত হওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের চীনা ভাষা কার্যক্রম কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের সঙ্গে নতুন করে সহযোগিতার মাধ্যমে পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানানো হয়।
মূল প্রবন্ধে ড. ইয়াং হুই চীনের শিক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি জানান, চীনের শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রাক-প্রাথমিক, বাধ্যতামূলক, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি বিশেষ ও অব্যাহত শিক্ষার ব্যবস্থাও রয়েছে। বিশেষভাবে তিনি দেশটির নয় বছর মেয়াদি অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা ব্যবস্থার কথা তুলে ধরেন।
ড. ইয়াং হুই বলেন, বাংলাদেশে চীনা ভাষা শিক্ষার পরিধি সম্প্রসারণে ইতোমধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় পর্যায়ে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে সহযোগিতার পাশাপাশি নির্বাচিত স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ে চীনা ভাষা শিক্ষা চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে এ শিক্ষা কার্যক্রম টেকসই করতে স্থানীয় পর্যায়ে দক্ষ চীনা ভাষার শিক্ষক তৈরির ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ-চীন শিক্ষা সহযোগিতা শুধু ভাষা শিক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে কারিগরি শিক্ষা, উচ্চশিক্ষা, ডিজিটাল শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের মতো ক্ষেত্রেও সম্প্রসারণ করা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে ‘চাইনিজ প্লাস’ কর্মসূচি চালুর প্রস্তাব দেন তিনি। এর মাধ্যমে চীনা ভাষা শিক্ষার পাশাপাশি বাংলাদেশের শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী ব্যবসায়িক ও কারিগরি দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
এ ছাড়া দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক সাংস্কৃতিক বিনিময় আরও বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন ড. ইয়াং। তিনি জানান, চীনেও দিন দিন বাংলাদেশি ভাষা বাংলার প্রতি আগ্রহ বাড়ছে এবং দেশটির অনেক শিক্ষার্থী বাংলা ভাষা শিখছেন।
সেমিনারে উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান বলেন, এ সেমিনার এবং চীনা ভাষা চালুর উদ্যোগ বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক অগ্রযাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হতে পারে। ভাষা শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়; এটি সংস্কৃতির উত্তরাধিকারও বহন করে। বৈশ্বিক যোগাযোগের যুগে বিদেশি ভাষা শেখার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ব্যবসা, শিক্ষা, প্রযুক্তি ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের কারণে চীনা ভাষার গুরুত্বও দিন দিন বাড়ছে।
উপাচার্য জানান, কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের সহযোগিতায় প্রাথমিকভাবে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য তিন মাস মেয়াদি একটি বেসিক চীনা ভাষা কোর্স চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। পরবর্তী সময়ে প্রয়োজন ও কার্যক্রমের পরিধি বিবেচনায় এ কোর্স ১০ মাস বা এক বছর মেয়াদি করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
তিনি জানান, দীর্ঘমেয়াদে প্রস্তাবিত আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের অধীনে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি চাইনিজ স্টাডিজ বিভাগ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য রয়েছে। প্রস্তাবিত সহযোগিতার আওতায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শ্রেণিকক্ষ, অফিস কক্ষসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত ও লজিস্টিক সুবিধা দেবে। অন্যদিকে, কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট শিক্ষাদান উপকরণ ও শিক্ষকসহ প্রয়োজনীয় একাডেমিক সহযোগিতা প্রদান করবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









