নবীন শিক্ষার্থীদের র্যাগিং, বিভাগীয় সভাপতির স্বাক্ষর জালিয়াতি এবং শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ১৯ জন শিক্ষার্থীকে এক বছরের জন্য বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এছাড়া র্যাগিংয়ের অভিযোগে বিভিন্ন বিভাগের আরও ৮০ জন শিক্ষার্থীকে কঠোর সতর্কতামূলক চিঠি প্রদান এবং বিষয়টি তাদের পরিবারকে জানানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটের ৫৪৯তম সভায় ডিসিপ্লিনারি বোর্ডের সুপারিশের ভিত্তিতে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বুধবার সিন্ডিকেট ও শৃঙ্খলা কমিটির একাধিক সদস্য বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ডিসিপ্লিনারি বোর্ড সূত্রে জানা যায়, গত ১০ মে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ক্লাস শুরুর পর প্রক্টর দপ্তরসহ বিভিন্ন দপ্তরে ১৭-১৮টি বিভাগ থেকে জুনিয়র শিক্ষার্থীদের র্যাগিংয়ের অভিযোগ আসে। এর মধ্যে ১০টি অভিযোগের নিবিড় তদন্ত সম্পন্ন করে ডিসিপ্লিনারি বোর্ড।
তদন্ত শেষে র্যাগিংয়ের ঘটনায় ১৫ জন শিক্ষার্থীকে দুই সেমিস্টার (এক বছর) বহিষ্কারের সুপারিশ করা হয়। এছাড়া গ্রাফিক ডিজাইন ডিসিপ্লিনের এক জুনিয়র শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগে ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের আরও এক শিক্ষার্থীকে একই মেয়াদের শাস্তির সুপারিশ করা হয়।
অন্যদিকে, লোকপ্রশাসন বিভাগের সভাপতির স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগে ৩ জন শিক্ষার্থীকে এক বছরের জন্য বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়। একই সঙ্গে এই ১৯ জন শিক্ষার্থীর হলের আবাসিকতা বাতিল করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে তাঁরা হলে থাকার অযোগ্য বলে ঘোষিত হবেন।
এছাড়া র্যাগিংয়ে সংশ্লিষ্টতার অপরাধে আরও ৮০ জন শিক্ষার্থীকে কঠোর সতর্কতামূলক চিঠি পাঠানো এবং তাদের পরিবারকে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে সিন্ডিকেটের এক সদস্য বলেন, ‘ডিসিপ্লিনারি বোর্ডের নিরপেক্ষ তদন্তে যাদের বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে, কেবল তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’
ডিসিপ্লিনারি বোর্ডের সদস্যসচিব ও প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন বিভাগ থেকে র্যাগিংয়ের প্রায় ১৭-১৮টি অভিযোগ পেয়েছিলাম। যাদের বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট প্রমাণ ও গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে, তাদের এক বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। বাকিদের অপরাধের মাত্রা বিবেচনা করে ৮০ জনের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়েছে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘অভিযোগ ও প্রমাণের ভিত্তিতে আমরা অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী ব্যবস্থা নিয়েছি। দীর্ঘদিন ধরে চলা র্যাগিং বন্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শূন্য সহনশীলতা নীতিতে রয়েছে। অন্য যেসব অভিযোগ রয়েছে, সেগুলোর তদন্ত কার্যক্রমও চলমান।’


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









