আবাসিক হলের সিট স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় বণ্টন, শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচন আয়োজন এবং উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতসহ পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) শাখা ছাত্রশিবির।
বুধবার (৭ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্জুনতলায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়। লিখিত বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল মুজাহিদুল ইসলাম।
ছাত্রশিবিরের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, হলের ফাঁকা আসনে দলীয় সুপারিশের পরিবর্তে স্বচ্ছ ও নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সিট বরাদ্দ, দ্রুত শাকসু নির্বাচন, উন্নয়ন প্রকল্পে নির্মাণকাজের মান ও ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত। এ ছাড়া নিরবচ্ছিন্ন ওয়াই-ফাই ও ইন্টারনেট সেবা, মানসম্মত খাবার, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং পরিবহন সমস্যার সমাধানের দাবিও জানানো হয়।
মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য ২০ শতাংশ আসন বরাদ্দ রাখা হলেও নতুন প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার পর তাদের ফাইনাল পরীক্ষা চলে এলেও হলে সিট দেওয়া হয়নি। পাশাপাশি ফাঁকা সিটে দলীয় রেফারেন্সে শিক্ষার্থী তোলার অভিযোগও রয়েছে।’’ এসব সিট হল প্রশাসনের মাধ্যমে বিভাগভিত্তিক স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় বরাদ্দের দাবি জানান তিনি।
শাহপরাণ হলে ছাত্রদলের নেতাদের সিট বরাদ্দের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘ছাত্রদল নিয়মবহির্ভূতভাবে সিট নিয়ে সেই দায় ছাত্রশিবিরের ওপর চাপানোর চেষ্টা করছে।’’ ছাত্রশিবির কখনো হলের সিটের জন্য প্রশাসনের কাছে তদবির করেনি বলেও দাবি করেন তিনি।
শাকসু নির্বাচন প্রসঙ্গে মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘‘প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার পরও বিএনপি ও ছাত্রদলের বাধার কারণে শিক্ষার্থীরা তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। জাতীয় নির্বাচনের পরও শাকসু নির্বাচনের দাবি জানানো হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না।’’ রাজনৈতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত শাকসু বাস্তবায়নের রোডম্যাপ ঘোষণার দাবি জানান তিনি।
উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘‘চলমান প্রকল্পগুলোর নির্মাণসামগ্রীর মান যাচাইয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে। অনিয়ম বা দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।’’
এ ছাড়া ক্যাম্পাস ও হলের ইন্টারনেট সেবার মান উন্নয়ন, মানসম্মত ও পর্যাপ্ত খাবার নিশ্চিত, চুরি ও অপরাধ প্রতিরোধে নিরাপত্তা জোরদার এবং পরিবহনে শিক্ষার্থীদের হেনস্তার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মাসুদ রানা তুহিন, অফিস সম্পাদক শাকিল মাহমুদ ও প্রচার সম্পাদক রেজা-ই-রাব্বি সাফওয়ান উপস্থিত ছিলেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









