রাজধানীর পল্লবীতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘটিত আলোচিত গোলাগুলির ঘটনায় কুখ্যাত সন্ত্রাসী ও হত্যা মামলাসহ ১৩টি মামলার আসামি মো. আকাশ ওরফে ‘টান আকাশ’কে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-৪)।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাতে সাভারের হেমায়েতপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি বিভিন্ন চাঞ্চল্যকর অপরাধের সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে কাজ করে যাচ্ছে বাহিনীটি। এরই ধারাবাহিকতায় পল্লবীর সাম্প্রতিক গোলাগুলির ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
র্যাব-৪ সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার (১০ জুন) রাতে রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীর এভিনিউ-৫ এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মাদক সম্রাট ‘ল্যাংড়া রুবেল’ গ্রুপের সদস্যদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে দ্বন্দ্বটি সংঘর্ষে রূপ নেয়। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় টান আকাশ, গালকাটা রাব্বি, আল-আমিন, র্যাপার পারভেজসহ কয়েকজন সহযোগী বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে এবং প্রকাশ্যে গোলাগুলিতে অংশ নেয়। সংঘর্ষ চলাকালে হৃদয় ওরফে গন্ডার নামে এক যুবক গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন। একই ঘটনায় আব্দুল্লাহ নামে অপর এক ব্যক্তিকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং এলাকায় চরম উদ্বেগের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে ঘটনাটি বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে র্যাব-৪ এর একটি বিশেষ আভিযানিক দল তাৎক্ষণিকভাবে ছায়াতদন্ত শুরু করে। তদন্তের অংশ হিসেবে ঘটনাস্থলের বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় জড়িতদের অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা চালানো হয়।
একপর্যায়ে গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তিগত নজরদারির মাধ্যমে টান আকাশের অবস্থান নিশ্চিত হয়। এরপর মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাতে সাভারের হেমায়েতপুরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় র্যাব সদস্যরা। গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তার বিরুদ্ধে একাধিক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে বাহিনীটি।
র্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, টান আকাশ দীর্ঘদিন ধরে পল্লবী ও আশপাশের এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, ডাকাতি এবং সহিংস অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল। স্থানীয় পর্যায়ে একটি সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের সক্রিয় সদস্য হিসেবে সে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতো বলেও অভিযোগ রয়েছে।
র্যাব আরও জানায়, গ্রেপ্তারকৃত আকাশের বিরুদ্ধে ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন থানায় হত্যা, চাঁদাবাজি, ডাকাতি, মাদক ব্যবসা ও অন্যান্য অপরাধসংক্রান্ত প্রায় ১৩টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এসব মামলার মধ্যে একাধিক গুরুতর অভিযোগও রয়েছে বলে জানা গেছে।
র্যাব-৪ এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। একই সঙ্গে গোলাগুলি ও অপহরণের ঘটনায় জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এ বিষয়ে পল্লবী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হাসান বাসির এদিনকে বলেন, ‘‘আসামিকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মাধ্যমে ছয় মাসের সাজা দেওয়া হয়েছে। আগামীকাল তাকে আদালতে পাঠানো হবে।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘পল্লবী এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রগুলোর তৎপরতা রোধে নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।’’
পল্লবীর সাম্প্রতিক এ ঘটনায় জড়িত অন্যদেরও দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









