রাজধানীতে তীব্র গ্যাস সংকটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসী। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) ভোর থেকে পুরান ঢাকা, যাত্রাবাড়ী, রায়েরবাগ, রামপুরা, নয়াপল্টন, মোহাম্মদপুর, হাজারীবাগ, জিগাতলা, রায়েরবাজার, মালিবাগ, বাড্ডা, খিলগাঁও ও মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় চুলায় গ্যাসের চাপ ছিল অত্যন্ত কম। কোথাও চুলা মিটমিট করে জ্বলেছে, আবার কোথাও একেবারেই গ্যাস না থাকায় রান্না বন্ধ হয়ে যায়।
সরেজমিনে দেখা যায়, অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে বৈদ্যুতিক চুলা, এলপিজি কিংবা হোটেলের খাবারের ওপর নির্ভর করছে। এতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের দুর্ভোগ বেড়েছে।
মোহাম্মদপুর, হাজারীবাগ, জিগাতলা ও রায়েরবাজারের বাসিন্দারা জানান, গত তিন-চার দিন ধরেই গ্যাসের চাপ কম থাকলেও বৃহস্পতিবার পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। অনেক বাসায় সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চুলায় আগুন জ্বলেনি।
মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা মো. আলিমুল ইসলাম বলেন, “গত কয়েকদিন ধরেই গ্যাসের চাপ কম। আজ তো একেবারেই চুলা জ্বলছে না। বাইরে থেকে খাবার কিনে খেতে হচ্ছে।”
রায়েরবাগের গৃহিণী সায়লা আক্তার বলেন, “নাশতা বানাতে পারিনি। ছোট বাচ্চাদের খাবার রান্না নিয়েও সমস্যায় পড়েছি।”
যাত্রাবাড়ীর বাসিন্দা আবদুল ওহাব বলেন, “অফিসে যাওয়ার আগে বাসায় রান্না হয়নি। আজ পরিস্থিতি সবচেয়ে খারাপ।”
গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে রাজধানীর হোটেল-রেস্তোরাঁ ও সিএনজি ফিলিং স্টেশনেও। অনেক স্টেশনে পর্যাপ্ত চাপ না থাকায় দীর্ঘ সারির সৃষ্টি হয়েছে।
জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের মুখপাত্র এবং যুগ্ম সচিব (অপারেশন) মনির হোসেন চৌধুরী জানান, দেশের দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের (এফএসআরইউ) একটিতে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে। এ কারণে রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের চাপ হ্রাস পেয়েছে।
তিনি বলেন, মেরামতের কাজ চলছে এবং আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, কারিগরি ত্রুটি দ্রুত সমাধানে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও বিশেষজ্ঞরা কাজ করছেন। পাশাপাশি সীমিত গ্যাসের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে বিদ্যুৎকেন্দ্র, শিল্পকারখানা ও অন্যান্য অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতে সরবরাহ সচল রাখার চেষ্টা চলছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









