ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে শ্রমজীবী মানুষের ন্যায্য অধিকার ও প্রত্যাশা রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যে ‘জাতীয় অংশীজন কনভেনশন’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন ও শ্রমিক অধিকার সংগঠনসমূহের সমন্বয়ে গঠিত ‘শ্রমিক অধিকার জাতীয় এডভোকেসি এলায়েন্স’ এই কনভেনশনের আয়োজন করে।
এলায়েন্স সচিবালয় ও বিলস -এর ব্যবস্থাপনায় এবং আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার সহযোগিতায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে দেশের শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, বিদেশি কূটনীতিক এবং শ্রমিক সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে এলায়েন্সের সদস্য সচিব ও বিলস নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহম্মদ ‘শ্রমিক ইশতেহার’-এর মূল বিষয়বস্তু উপস্থাপন করেন। ইশতেহারে শ্রম সংস্কার কমিশনের সুপারিশ এবং শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ)-এর ৯ দফা দাবির প্রতিফলন ঘটানো হয়েছে।
এলায়েন্সের আহ্বায়ক ও বিলস মহাসচিব নজরুল ইসলাম খান স্বাগত বক্তব্যে বলেন, ‘যারা ক্ষমতায় আসবেন বা যারা বিরোধী দলে থাকবেন—উভয় পক্ষকেই এই ইশতেহারের সুপারিশমালা বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখতে হবে।’
বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষায় তাদের অবস্থান তুলে ধরেন:
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান বলেন, শ্রমিকদের দাবি শত বছর ধরে একই রয়ে গেছে, কিন্তু বাস্তবায়ন হয়নি। সম্পদের কার্যকর ব্যবস্থাপনা ও নৈতিকতা ছাড়া শ্রমিক অধিকার প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এডভোকেট আহসানুল মাহমুদ জোবায়ের জানান, তাদের দল সর্বসাধারণের পরামর্শ নিয়ে যে ইশতেহার তৈরি করছে, সেখানে শ্রমিক অধিকার বিশেষ গুরুত্ব পাবে।
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, শ্রমিকদের দাবি মানা কোনো দয়া নয়, এটি তাদের ন্যায্য অধিকার।
জেএসডির শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন সংসদের উচ্চকক্ষে শ্রমিক প্রতিনিধিত্বের দাবি জানান।
এনসিপির আরিফুল ইসলাম নূন্যতম মজুরি কমিশন ও শ্রম সংস্কারে স্থায়ী কমিশন গঠনের অঙ্গীকার করেন।
গণসংহতি আন্দোলনের তাসলিমা আক্তার এবং বাসদের বজলুর রশীদ ফিরোজ সামাজিক ন্যায়বিচার ও পেনশন স্কিমের ওপর গুরুত্ব দেন।
সিপিবি’র সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহিল ক্বাফি রতন ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানান।
আইএলও বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স টুনন আশা প্রকাশ করেন যে, পরবর্তী নির্বাচিত সরকার আইএলও’র কাছে দেওয়া শ্রম সংস্কার রোডম্যাপ বাস্তবায়নে সচেষ্ট হবে।
কানাডিয়ান হাই কমিশনের প্রতিনিধি ফিলিপ বার্নিয়ার আর্কান্ড জানান, তার দেশ এই ইশতেহার বাস্তবায়নের বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করবে।
এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি আবু সাঈদ বেলাল যুগের সাথে তাল মিলিয়ে শ্রম সংস্কারের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পরামর্শ দেন।
শ্রমিক অধিকার পরিষদের সভাপতি আব্দুর রহমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা পরিষদে কোনো শ্রমিক প্রতিনিধি না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং শ্রমিক এলাকায় নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধির দাবি জানান। স্কপ-এর যুগ্ম-আহবায়ক আবদুল কাদের হাওলাদার মর্যাদাপূর্ণ কাজ ও পর্যাপ্ত মজুরি নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন।
অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন মেসবাহউদ্দীন আহমেদ। কনভেনশনে উপস্থিত অংশীজনরা একমত হন যে, আগামী নির্বাচনে যে দলই ক্ষমতায় আসুক না কেন, ‘শ্রমিক ইশতেহার’-এর বাস্তবায়নই হবে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









