আসন্ন ঈদুল আযহাকে ঘীরে দেশীয় খামারে প্রস্তুতকৃত গবাদী পশুতে জমে ওঠেছে শার্শার পশু হাট গুলো। ঈদের বাকী মাত্র ১সপ্তাহ তাই শেষ মুহুর্তে কোরবানীর পশু ক্রয়ে ব্যাস্ত ক্রেতারা। উপজেলার বৃহত্তর পশুহাট সাতমাইল ও নাভারনে গরুর ব্যাপক সমাগম দেখা গেছে।
ছাগল,ভেড়ার সমাগমও নজর কাড়া। তবে ভারত সীমান্ত ঘেষা উপজেলা শার্শা হলেও এবার পশু হাট গুলোতে নেই ভারতীয় গরু। তুলনামুলক কম দামে ভারতীয় গরু কেনা যায় বলে সীমান্তবর্তী এলাকার মধ্যবিত্ত পরিবার গুলোর টার্গেট থাকে ভারতীয় গরু ক্রয়ে। নিরুপাই হয়ে এবার সামর্থ্য অনুযায়ী কোরবানীর জন্য পছন্দমত পশু ক্রয় করতে উপজেলার এক হাট হতে অপর হাটে ছুটতে হচ্ছে ক্রেতাদের। ব্যাপারীরের হাক ডাক ও ক্রেতাদের পদচারনায় পশু হাটের প্রাঙ্গন জুড়ে কোলাহল পরিবেশ বিরাজমান। আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ হতে পশু হাট গুলোতে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা লক্ষনীয়।
শার্শা প্রানি সম্পদ অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় এ বছর কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে ১৬ হাজার গবাদীপশু। ছোট বড় মিলে ১৩১টি পশু খামারে এসমস্ত পশু কোরবানীর জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। বেশীরভাগ কৃষক পর্যায়ের খামার। কোরবানী ঈদকে সামনে রখে উপজেলার সাতমাইল পশু হাটে গরু,মহিষ,ছাগল ও ভেড়া বোচাকেনা হচ্ছে। শার্শা উপজেলা প্রানী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ তপু কুমার সাহা বলেন সরকার কর্তৃক ভারত হতে পশু আমদানী নিষিদ্ধ হওয়ায় উপজেলার পশুহাট গুলোতে ভারতীয় পশু নেই। ক্রেতাদের সুবির্ধাতে উপজেলা প্রানী সম্পদ কার্যালয়ের পক্ষ হতে সাতমাইল ও নাভারন পশু হাটে পশু স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য হাটের দিন গুলোতে সকাল-সন্ধ্যা দুটি বিশেষ টিম কাজ করছে।
খামারীরা জানান,এ বছর দেশীয় খামারে লালিত পশুর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে বিদেশী পশুর ওপর নির্ভরতা কমেছে। অধিকাংশ খামারী আশা করছেন ন্যায্যমূল্যে পশু বিক্রি করতে পারলে তারা লাভবান হবেন। অপরদিকে ক্রেতারা পশুর দাম তুলনামূলক বেশী বলে অভিযোগ তুলেছেন। জামতলা বাজারের মহিউদ্দীন বলেন গত বছরের তুলনায় গুরুর মূল্য বেশী। ওজন ওনুযায়ী মন প্রতি ৪ হতে ৫হাজার টাকা বেশী পড়ছে। উৎসবমুখর পরিবেশে পশু বেচাকেনা হচ্ছে বলে তিনি আরো জানান।
স্থানীয় বাঁগআচড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এস আই খান শরীফুল ইসলাম জানান,সাত মাইল পশুহাটের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও যানজট নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জাল টাকা শনাক্তে পুলিশের পক্ষ হতে বুথ খোলা না হলেও জোরালো নজরদারী রয়েছে। সাতমাইল পশু হাটের পরিচালক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন,আমাদের হাটে কোন ভারতীয় গরু বিক্রি করা হচ্ছেনা। গত বছরের তুলনায় এ বছর পশু বিক্রি অনেক কম। ঈদের দুই দিন আগে পশু হাটে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের ভিড় বাড়বে বলে তিনি আশা করছেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









