কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিয়ে মন্তব্য করার অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক নেতাকে আটক করেছে পুলিশ। বুধবার (২০ মে) দিবাগত রাতে উপজেলার ছোট মহেশখালীর সিপাহীর পাড়া এলাকার নিজ বাসা থেকে রফিকুল ইসলাম নামে ওই নেতাকে আটক করা হয়। তিনি এনসিপি’র মহেশখালী উপজেলা কমিটির একজন সক্রিয় সদস্য।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রফিকুল ইসলাম তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিয়ে একটি মন্তব্য ও পোস্টে প্রতিক্রিয়া জানান। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে।
মহেশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুস সুলতান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, "সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করার অভিযোগে রফিকুল ইসলামকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।"
এদিকে এই আটকের তীব্র নিন্দা জানিয়ে এনসিপি’র উপজেলা প্রধান সমন্বয়কারী মির্জা তারেক বলেন, "রফিকুল ইসলাম ফেসবুকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিয়ে একটি কমেন্ট বা স্ট্যাটাসে প্রতিক্রিয়া দেওয়ায় তাকে রাতে বাসা থেকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গত বছরের আগে পর্যন্ত গুম ছিলেন, এখন দেবতা হয়ে গেছেন—এমন মন্তব্য করলেই যদি গ্রেফতার করা হয়, তবে বুঝতে হবে ফ্যাসিজম দ্রুত ফিরে আসছে।" তিনি রফিকুল ইসলামের দ্রুত ও সসম্মান মুক্তির দাবি জানান।
অপরদিকে, রফিকুল ইসলাম আটকের ঘটনায় মহেশখালী থানাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় বিএনপির বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী। কাইছার হামিদ মনির নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি ফেসবুকে লেখেন, "এই ছেলে নিয়মিত সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ ও ব্যক্তিগত আক্রমণ করে আসছিল। এতদিন পর প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ হওয়ায় মহেশখালী থানার ওসিকে ধন্যবাদ।"
আটক রফিকুল ইসলামের ফেসবুক প্রোফাইল সূত্রে জানা গেছে, তিনি সম্প্রতি ‘জুলাই যোদ্ধা’ নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারীর একটি বক্তব্য শেয়ার করে ক্যাপশনে লিখেছিলেন, "স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংবিধানের ধারা-উপধারা বুঝেন, কিন্তু সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত হত্যা বুঝেন না! সশ্রদ্ধ স্যালুট।"
এই আটকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে মহেশখালীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুই পক্ষের নেতাকর্মীরা সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। একপক্ষ একে বাকস্বাধীনতার ওপর আঘাত বলে দাবি করলেও, অপরপক্ষ প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। বর্তমানে পুরো উপজেলাজুড়ে ঘটনাটি টক অব দ্য টাউনে পরিণত হয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









