লালমনিরহাটের পাটগ্রামে কৃষকদের উন্নয়নে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, উৎপাদন বৃদ্ধি ও আর্থিক উন্নয়নে বিভিন্ন স্টলে উন্নত জাতের ফসল ও কৃষিপণ্য প্রদর্শনীর মাধ্যমে পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার (২৪ মে) বেলা ১২টার দিকে প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল এন্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনরশিপ এন্ড রেসিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (পার্টনার) প্রোগ্রামের আওতায় উপজেলা পরিষদ হলরুমে এই পার্টনার ফিল্ড ফিল্ড স্কুল কংগ্রেসের আয়োজন করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার তানভীর হোসেনের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লালমনিরহাট-১ (পাটগ্রাম-হাতীবান্ধা) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার হাসান রাজীব প্রধান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, খামারবাড়ি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ ড. সাইখূল আরিফিন। পার্টনার প্রকল্পের সিনিয়র মনিটরিং অফিসার অশোক কুমার রায়।
স্বাগত বক্তব্যে উপজেলা কৃষি অফিসার মোস্তফা হাসান ইমাম বলেন, “পার্টনার কংগ্রেসের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো- ফসলের উচ্চফলনশীল জাতের আবাদযোগ্য জমির পরিমাণকে নতুনভাবে ২ লক্ষ হেক্টর বৃদ্ধিকরণ। ধান জাতীয় অন্য দানাদার ফসল ডাল, তেল ও উদ্যান ফসলের আবাদি জমির পরিমাণ ২ লক্ষ হেক্টর বৃদ্ধিকরণ। “কৃষক স্মার্ট কার্ড” পদ্ধতির মাধ্যমে সম্পসারণ সেবা, উপকরণ ভর্তুকি সহায়তা ও ঋণ সহায়তা সহজলভ্যকরণের মাধ্যমে কৃষি সেবা, কৃষি উৎদ্ভাবন ও কৃষি বাণিজ্যিকীকরণের লক্ষ্যে কৃষি উদ্যেক্তা ২০ হাজার যুবক ও মহিলাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া।”
প্রধান অতিথি ব্যারিস্টার হাসান রাজীব প্রধান বলেন, “আজকের এই প্রোগ্রামের মূল উদ্দেশ্য হলো যে আমাদের দেশের কৃষি ফলন আরও বাড়ানো। আমরা জানি যে, বাংলাদেশ কৃষি নির্ভর দেশ এবং আমাদের দেশের মানুষের তুলনায় জমির পরিমাণ অনেক কম। তাই অধিক ফলন না হলে আমাদের খাদ্যে অসম্পূর্ণতা রয়ে যাবে। আগে একসময় আমাদের দেশের ফলন জমিতে ফলন যে পরিমাণ হত তখন মানুষ কম ছিল, জমি বেশি ছিল। তারপরে ফলন কম হওয়ার কারণে সব সময় আমাদের কৃষকদের অভাব লেগে থাকত।
তিনি আরও বলেন, “আমাদের দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যখন দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেলেন, তখন ওই সময়ে সময়কার স্লোগান ছিল কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে এবং সেটার কারণে ১৯৭৪ সালের একটা বড় দুর্ভিক্ষের পর রাষ্ট্র পরিচালনা করার দায়িত্ব পেয়েই দেশ বিদেশে উনি ছুটে বেরিয়েছেন।”
সংসদ সদস্য বলেন, “আজকের যে ইরি ধানের আবাদ হচ্ছে, যেখানে এক ইরি ধান হয় পনেরো বিশ মণ। আগে যেখানে এক দোন জমিতে আমাদের এখানে ধান হত পাঁচ ছয় মণ। সেই ইরি ধান কিন্তু বাংলাদেশে উনি নিয়ে আসলেন। আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ ব্যবস্থা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় শুরু হলো। আজকে যে বিএডিসির কথা এখানে শুনছেন, বাংলাদেশ এগ্রিকালচার রিসার্চ ইনস্টিটিউট এই বিএডিসি থেকে ডিপ টিউবওয়েল, ডিপ টিউবওয়েল দিয়ে সেচের কাজ করার জন্য। এইগুলো কিন্তু জিয়াউর রহমানের সময়ে, ওই সময়ে ব্যাপকভাবে ডিপ টিউবওয়েল হয়েছে। পাওয়ার টিলার, ট্রাক্টর আধুনিক ব্যবস্থাটা কৃষি কাজে ব্যবহৃত হতো।”
খামারবাড়ি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ ড. সাইখূল আরিফিন বলেন, “পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেসের মাধ্যমে কীভাবে আধুনিক কৃষি উন্নয়নে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়া যায় তা তিনি তুলে ধরেন।”
জমির উর্বরতা অনুযায়ী সার ব্যবহারের মাত্রা সঠিকভাবে প্রয়োগের উপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, “সঠিক প্রয়োগে সার সংকট নিরসন ও ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি সম্ভব। প্রকল্পের মাধ্যমে সঠিক প্রশিক্ষণ নিয়ে বালাইনাশক ব্যবহার করতে হবে।”
উপজেলা নির্বাহী অফিসার তানভীর হোসেন বলেন, “পরিবেশগত দিক বিবেচনা করলে আমাদের জমিজমা কমে যাচ্ছে, ভার্টিক্যাল ফার্মিং মাধ্যমে আমরা কিভাবে স্বপ্ল পরিসরে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করা যায় সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কৃষকদের উন্নয়নে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর উদ্যোগ গ্রহণ করবেন।”
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ওয়ালিউর রহমান সোহেল বলেন, “কৃষক ভাইদের রক্তে ভেজা ঘামে আমরা যে ফসল পাই সে ভাইদের প্রশিক্ষিত ও দক্ষ করে গড়ে তুলতে সেচ পদ্ধতিসহ বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে পাটগ্রামে আধুনিক কৃষি উন্নয়নে কাজ করতে হবে। ”
কৃষক প্রতিনিধি আতাউর রহমান বলেন, “পার্টনার স্কুল কংগ্রেসের প্রকল্পের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আমরা আধুনিক কৃষি ও উন্নত জাতের ফসল উৎপাদনে সক্ষম হয়েছি।”
এ সময় পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দপ্তর ও অধিদপ্তেরর কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, উপজেলার গণ্যমান্য ব্যক্তি, বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধি, পিএফএস ও নন-পিএফএস কৃষক-কৃষাণী, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা এবং স্টেকহোল্ডাররা অংশগ্রহণ করেন। এতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত কৃষক-কৃষাণীরাও অংশগ্রহণ করেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









