পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় পৃথক স্থানে দুই যুবককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
রবিবার (২৪ মে) দুপুরে মাত্র তিন ঘন্টার ব্যবধানে উপজেলার টিকিকাটা ইউনিয়ন এবং সাফা ফুলঝুরি গ্রামে পৃথক দুটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- টিকিকাটা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের জালাল হাওলাদারের ছেলে আব্দুল কাইয়ুম (৩০) এবং ধানীসাফা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড ফুলজুরি গ্রামের ফজলুল হক শরীফের ছেলে ইউসুফ শরীফ।
পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পিরোজপুর জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে এবং পৃথক এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে দুপুর ১২টার দিকে একই এলাকার আলমগীর শরীফের ছেলে মো. আরাফাত শরীফ (৩০), তার স্ত্রী ফাতেমা আক্তার (২৪) এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২ থেকে ৩ জন মিলে ধারালো দা দিয়ে ইউসুফের গলা, ডান হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
অপর দিকে, টিকিকাটা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মাজু হাওলাদার বাড়িতে নিজ শোবার ঘর থেকে তৈরি পোষাক বিক্রেতা আব্দুল কাইয়ুম নামে এক যুবকের ক্ষত বিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, কাইয়ুমের স্ত্রী বাপের বাড়িতে থাকায় আজ দুপুরে তিনি ঘরে একাই ছিলেন। এই সুযোগে দুর্বৃত্তরা ঘরে ঢুকে শোবার ঘরে তাকে কুঠাল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে ফেলে রেখে যায়। তবে এই হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও জানা যায়নি। নিহত কাইয়ুমের একটি সন্তান রয়েছে।
পৃথক দুটি নৃশংস হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে মঠবাড়িয়া থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পিরোজপুর জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।
মঠবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম জানান, ফুলজুরি গ্রামের হত্যাকাণ্ডটি জমিজমা বিরোধের জেরে ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে। অন্যদিকে টিকিকাটা ইউনিয়নে কুঠার দিয়ে কুপিয়ে হত্যার রহস্য উদঘাটনে কাজ করছে পুলিশ। দুটি ঘটনার প্রেক্ষিতেই পৃথক মামলার প্রস্তুতি চলছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









