ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে নীলফামারীর সৈয়দপুরে কোরবানির পশুর মাংস কাটার কাজে ব্যবহৃত তেঁতুল কাঠের খাটিয়া বা খাইটা’র চাহিদা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। ঈদ সামনে রেখে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় জমে উঠেছে খাটিয়া বিক্রির মৌসুমি বাজার।
সোমবার (২৫ মে) শহরের রেললাইনের পাড়, কলিম মোড়, জিকরুল হক সড়কসহ বিভিন্ন হাট-বাজার ঘুরে দেখা যায়, ছোট-বড় নানা আকারের খাটিয়া কিনতে ভিড় করছেন ক্রেতারা। বিশেষ করে তেঁতুল কাঠের তৈরি খাটিয়ার প্রতি আগ্রহ বেশি।
বিক্রেতাদের ভাষ্য, এ কাঠ শক্ত ও টেকসই হওয়ায় কোরবানির মাংস কাটাকাটির কাজে এটি সবচেয়ে বেশি উপযোগী।
কলিম মোড় এলাকার খাটিয়া বিক্রেতা আশরাফ উদ্দিন জানান, কোরবানির ঈদ এলেই খাটিয়ার বিক্রি বেড়ে যায়। এই মৌসুমেই বছরের অধিকাংশ খাটিয়া বিক্রি হয়। আকারভেদে প্রতিটি খাটিয়া ২০০ থেকে ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চাহিদা বাড়ায় কিছু ক্ষেত্রে দামও কিছুটা বেড়েছে বলে জানান তিনি।
ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঈদের দিন নামাজ শেষে কোরবানি ও মাংস প্রস্তুতের ব্যস্ততার কারণে আগে থেকেই প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনে রাখছেন তারা। অন্যের কাছ থেকে খাটিয়া ধার নেওয়া বা শেষ মুহূর্তে খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে বলেও জানান অনেকে।
রেললাইন পাড় এলাকার আরেক বিক্রেতা কাউসার হোসেন জানান, তার দোকানে ১৫০ থেকে ৬০০ টাকা দামের খাটিয়া রয়েছে। কাঠের দাম বেড়ে যাওয়ায় খাটিয়ার দামও বেড়েছে বলে জানান তিনি।
গত ৫ বছর ধরে ঈদের আগে খাটিয়ার ব্যবসা করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘‘গত বছর প্রায় ২০০টি খাটিয়া বিক্রি করেছিলেন। এবারও ভালো বিক্রির আশা করছেন।’’
পৌর শহরের নতুন বাবুপাড়া এলাকার বাসিন্দা আব্দুল মান্নান জানান, এ বছর কোরবানির জন্য একটি মাঝারি আকারের গরু কিনেছেন তিনি। মাংস কাটার সুবিধার জন্য একটি মাঝারি আকৃতির খাটিয়া কিনতে এসেছেন। আগের বছরের খাটিয়াগুলো অযত্নে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এবার নতুন করে ২৫০ টাকায় একটি খাটিয়া কিনেছেন বলে জানান তিনি।
স্থানীয়দের মতে, কোরবানির ঈদ ঘিরে খাটিয়ার এই মৌসুমি ব্যবসা অনেকের জন্য বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি করেছে। তেঁতুল কাঠের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে এ ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের ভালো লাভ হবে বলেও আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









