সারাদেশে ঈদের আবহ তৈরি হলেও সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে বরিশালে প্রায় ১০ হাজার মানুষ আগাম পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করছেন।
বুধবার (২৭ মে) বরিশালের বেশ কয়েকটি উপজেলায় ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।
প্রতি বছরের মতো এবারও চট্টগ্রামের চন্দনাইশ শাহসুফি দরবার শরিফ, সাতকানিয়া মির্জাখালী দরবার শরিফ এবং আহমাদিয়া জামাতের অনুসারীরা এই আগাম ঈদ উদযাপন করছেন। দীর্ঘকাল ধরে এই তিন দরবার ও জামাতের অনুসারীরা মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে রোজা, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা পালন করে আসছেন।
বরিশাল সিটি করপোরেশনসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে ঈদের জামাত শুরু হয়। নগরীর তাজকাঠি, জিয়া সড়ক, টিয়াখালী, হরিনাফুলিয়া ও বন্দর থানা এলাকার সাহেবের হাটে দুটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া বাবুগঞ্জ উপজেলায় চারটি, হিজলা উপজেলায় দুটি, মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলায় দুটি এবং বাকেরগঞ্জ উপজেলায় একটি ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ধর্মীয় অনুসারীদের দাবি, বরিশাল বিভাগজুড়ে তাদের প্রায় ৭৫টি মসজিদ রয়েছে, যেখানে প্রতি বছর সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করা হয়।
এর মধ্যে নগরীর ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব হরিনাফুলিয়া চৌধুরী বাড়ি শাহ্ সূফী মমতাজিয়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত ঈদের জামাতে বিপুলসংখ্যক মুসল্লির উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। সকাল ৮টায় শুরু হওয়া জামাত শেষে দেশ, জাতি ও সমগ্র মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
নামাজ শেষে মুসল্লিরা একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি করে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করেন। পরে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী পশু কোরবানি দেন তারা। অনেক এলাকায় সকাল থেকেই কোরবানির পশু জবাই ও মাংস বিতরণের দৃশ্য দেখা যায়।
স্থানীয়রা জানান, ভিন্ন দিনে ঈদ উদযাপন করলেও পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের মধ্য দিয়েই তারা দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের ধর্মীয় রীতি অনুসরণ করে আসছেন। আগাম ঈদ উদযাপন ঘিরে এসব এলাকায় ছিল আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশ।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









