ঈদুল আহাকে সামনে রেখে বাউফলের বগা ফেরিঘাটে পশুবাহী ট্রাকে প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি চলছে।
অভিযোগ রয়েছে, ঘাটের নির্ধারিত টোলের অতিরিক্ত হিসেবে প্রতিটি গরু ও মহিষবাহী ট্রাক থেকে ১,৫০০ থেকে ২,০০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে চালক ও ব্যবসায়ীদের মারধর ও নাজেহাল করার হচ্ছে।
জানা গেছে, বাউফলের বাণিজ্যিক বন্দর কালাইয়া হাট থেকে ফড়িয়ারা কোরবানির পশু কিনে সড়কপথে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নিয়ে যান। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই বগা ফেরিঘাটে সরকার দলের পরিচয় দিয়ে এই চাঁদাবাজি চালাচ্ছে। এতে ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন এবং কোরবানির পশুর পরিবহন খরচও বেড়ে যাচ্ছে।
ক্ষতিগ্রস্ত একাধিক ট্রাকচালক জানান, ফেরির নির্ধারিত টোলের টাকা পরিশোধ করার পরেও বাড়তি টাকা না দিলে ফেরিতে উঠতে দেওয়া হয় না। কোনো রকম তর্কে জড়ালেই শারীরিক হেনস্তার শিকার হতে হয়।
কালাইয়া হাট থেকে গরু কিনে ট্রাকে কুষ্টিয়া নিয়ে যাচ্ছন সুলতান মৃধা নামের এক ফড়িয়া। তার কাছে ২০০০ হাজার টাকা চাঁদা চাওয়া হয়। তিনি ৫০০ টাকা দিতে চাইলে চাঁদাবাজ তা নিতে অস্বীকৃতি জানায়। পরে তিনি ১৫০০ টাকা চাঁদা দিতে বাধ্য হন।
পশুবাহী ট্রাকচালক রাশেল মীর বলেন, ‘‘আমার কাছে ২০০০ টাকা দাবি করে। আমি ১০০০ টাকা দিতে চাইলে নেয়নি। পরে ১৫০০ টাকা দিয়ে ফেরি পার হয়েছি।’’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ফড়িয়া বলেন, “হাটে পশুর দাম বেশি, তার ওপর পথে পথে এমন চাঁদাবাজিতে ব্যবসার পুঁজি তোলাই কষ্টকর হয়ে পড়েছে।”
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দাবি, আসন্ন ঈদকে কেন্দ্র করে পশুর নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে প্রশাসনের অবিলম্বে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা দরকার। ঘাটে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি বাড়ানো এবং চাঁদাবাজদের চিহ্নিত করে দ্রুত শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে বাউফল থানার ইনচার্জ সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘‘চাঁদাবাজি বন্ধে পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। ফেরিঘাটে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’’


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









