খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলায় মো. হাসান (৩৫) নামে এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া একটি হাতে লেখা চিরকুটে তিনি উল্লেখ করেছেন, “আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়।” এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার (২ জুন) সকালে উপজেলার বাবুপাড়া এলাকায় নিজ ঘর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি বোয়ালখালী ইউনিয়নের বাসিন্দা ও মো. সাইদুল ইসলামের ছেলে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বেশ কিছুদিন ধরে হাসানের পারিবারিক ও ব্যক্তিগত জীবনে অস্থিরতা চলছিল। তার আচরণ নিয়ে পরিবারে নানা ধরনের সমস্যা তৈরি হয়েছিল বলে স্বজনরা জানিয়েছেন। ঘটনার আগের দিনও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তার মনোমালিন্যের ঘটনা ঘটে।
নিহতের স্বজনদের ভাষ্য, সোমবার বিকেলের পর থেকে হাসানকে কিছুটা অস্বাভাবিক মনে হচ্ছিল। পরে তিনি বাড়িতে একাই অবস্থান করছিলেন। মঙ্গলবার সকালে পরিবারের সদস্যরা ঘরের দরজা বন্ধ দেখতে পান। অনেক ডাকাডাকির পরও কোনো সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান।
খবর পেয়ে দীঘিনালা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। এ সময় একটি চিরকুট ও একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। চিরকুটে নিজের মৃত্যুর জন্য কাউকে দায়ী না করার কথা লেখা ছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, নিহত ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্তির সমস্যায় ভুগছিলেন এবং এ কারণে তার পারিবারিক জীবনেও অশান্তি তৈরি হয়েছিল। তবে মৃত্যুর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
দীঘিনালা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) প্রাণতোষ বণিক বলেন, “খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে মনে হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।”
তিনি আরও জানান, মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে এবং পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে। ময়নাতদন্ত ও তদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।
এ ঘটনায় এলাকায় শোকের পাশাপাশি মাদকাসক্তির সামাজিক প্রভাব নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয়রা যুব সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষায় পরিবার, সমাজ ও প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









