ভোলার একটি ফ্ল্যাট বাসা থেকে মিতু আক্তার (২৫) নামে এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনার পর থেকে নিহতের স্বামী সোহাগসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন পলাতক রয়েছে। পরিবারের দাবি করছে, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকালে সদর উপজেলার উকিলপাড়া থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত মিতু আক্তার জেলার দৌলতখান উপজেলার দক্ষিণ জয়নগর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা বশির আহমেদের মেয়ে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় পাঁচ বছর আগে দৌলতখান উপজেলার চরপাতা ইউনিয়নের মাস্টার বাড়ির বাসিন্দা শামসুদ্দিন মিয়ার ছেলে সোহাগের সঙ্গে মিতুর বিয়ে হয়। তাদের দুই বছরের একটি কন্যাসন্তানও রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে মিতুর ওপর প্রায়ই পাশবিক নির্যাতন চালাত স্বামী সোহাগ। মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে মিতুর পরিবার বিভিন্ন সময় নগদ অর্থ, টিভি, ফ্রিজসহ ঘরের যাবতীয় আসবাবপত্র দিয়ে ঘর সাজিয়ে দিলেও সোহাগের নির্যাতন বন্ধ হয়নি।
মিতুর ওপর চলমান নির্যাতন নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে একাধিকবার সালিশ-বৈঠক হয়। একপর্যায়ে বিষয়টি থানা পুলিশ পর্যন্ত গড়ায়। পুলিশ একাধিকবার বিষয়টি মীমাংসা করে দিলেও মিতুর ওপর স্বামীর নির্যাতন থামেনি।
বৃহস্পতিবার সকালে ঘাতক স্বামী সোহাগ তার শাশুড়িকে ফোন করে জানায়, মিতু গুরুতর অসুস্থ, দ্রুত আসতে হবে। ফোন পেয়ে মিতুর বাবা-মা ও আত্মীয়-স্বজন তড়িঘড়ি করে শহরের উকিলপাড়া এলাকার ওই বাসায় এসে মিতুর নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। ততক্ষণে স্বামী সোহাগ ও তার পরিবারের অন্য সদস্যরা বাসা থেকে পালিয়ে যায়।
নিহত মিতুর পরিবারের দাবি, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত স্বামী সোহাগ ও তার পরিবারের সদস্যদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ভোলা সদর মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জিয়াউদ্দিন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ভোলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলে নিশ্চিত হওয়া যাবে- এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা। এই ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রক্রিয়া চলছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









