জরুরি মুহূর্তে রক্তদাতা ও গ্রহীতার মধ্যে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করে জীবন বাঁচানোর লক্ষ্যে চালু হয়েছে নতুন ওয়েব অ্যাপ ‘ব্লাডরিচ’ (BloodReach.com)। অভিনব এই প্ল্যাটফর্মটি তৈরি করেছেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাককানইবি) মার্কেটিং বিভাগের তিন শিক্ষার্থী।
গত ৩ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে এই ওয়েব অ্যাপটির যাত্রা শুরু হয়। ব্লাডরিচ-এর প্রতিষ্ঠাতা মো. ইয়াসিন ইসলাম এবং তার দুই সহপাঠী ফারহানা আক্তার ইশা ও মো. তৌফিক হোসেন শিমুল। তিনজনই বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগে অধ্যয়নরত। তাদের সঙ্গে বর্তমানে কাজ করছেন ৩৭ সদস্যের একটি নিবেদিতপ্রাণ স্বেচ্ছাসেবী দল।
জানা যায়, কলেজ জীবন থেকেই নিয়মিত রক্তদান ও স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন ইয়াসিন। বিভিন্ন ব্লাড ডোনেশন গ্রুপে পর্যাপ্ত ডোনার থাকা সত্ত্বেও জরুরি মুহূর্তে রক্তদাতাদের সাড়া না পাওয়ার তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি এমন একটি নিরবচ্ছিন্ন প্ল্যাটফর্ম তৈরির তাগিদ অনুভব করেন। এরপর গুগল শিটে তথ্য সংরক্ষণের মাধ্যমে শুরু হয় ব্লাডরিচের প্রাথমিক কার্যক্রম। পরবর্তীতে গত বছরের ২১ অক্টোবর ব্লাডরিচের ফেসবুক পেইজ চালু হয় এবং সম্প্রতি অ্যাপটি সবার জন্য উন্মুক্ত করা হয়।
ব্লাডরিচের অন্যতম আকর্ষণীয় দিক হলো এর আধুনিক ও ফিচারসমূহ। প্ল্যাটফর্মটিতে ব্লাড গ্রুপ ও লোকেশন অনুযায়ী খুব সহজেই উপযুক্ত রক্তদাতা খোঁজার সুযোগ রয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে ডোনারের সঙ্গে সরাসরি কল বা হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে যোগাযোগ করা যায়। এর পাশাপাশি গুগল অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সহজ লগইন, জরুরি ব্লাড রিকোয়েস্ট পোস্ট করা এবং রক্তদানের পর চার মাস পর্যন্ত ডোনারের তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে লুকিয়ে রাখার মতো স্মার্ট প্রাইভেসি ফিচার যুক্ত করা হয়েছে এখানে। ফলে নির্ধারিত সময় পার হওয়ার আগে ডোনারকে অনাকাঙ্ক্ষিত কলের সম্মুখীন হতে হবে না।
উদ্যোক্তারা জানান, কোনো প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ ছাড়াই এখন পর্যন্ত সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়ন, সময় ও ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায় ব্লাডরিচ পরিচালিত হচ্ছে। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের দুজন সম্মানিত শিক্ষকের উৎসাহ, পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা এই উদ্যোগকে বাস্তবে রূপ দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে ব্লাডরিচ টিম জানায়, অচিরেই এই প্ল্যাটফর্মটিকে বাংলাদেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় সম্প্রসারণ করার লক্ষ্য রয়েছে তাদের। একটি ডেডিকেটেড মোবাইল অ্যাপ তৈরি, উন্নত ডোনার ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম চালু এবং হাসপাতাল ও ব্লাড ব্যাংকগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে এটিকে একটি জাতীয় পর্যায়ের নির্ভরযোগ্য রক্তসেবা প্ল্যাটফর্মে পরিণত করতে কাজ করে যাচ্ছেন তারা।
প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে মুমূর্ষু রোগীর সাহায্যে এবং রক্ত সংগ্রহের প্রক্রিয়াকে দ্রুততর করতে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এই উদ্যোগ এরই মধ্যে সর্বমহলে প্রশংসিত হচ্ছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









