জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট তীব্র তাপপ্রবাহ এবং জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা থেকে উপকূলীয় অঞ্চলের প্রান্তিক নারীদের সুরক্ষায় নোয়াখালীর সুবর্ণচরে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘মর্যাদার সাথে সহনশীলতা’ শীর্ষক দক্ষতা উন্নয়ন কর্মশালা।
রবিবার (১৪ জুন) দিনব্যাপী সুবর্ণচর উপজেলায় জনসচেতনতামূলক এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
আয়োজকেরা জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সারা দেশের মতো উপকূলীয় অঞ্চলেও দুর্যোগের ঝুঁকি প্রতিনিয়ত বাড়ছে। বিশেষ করে তীব্র তাপপ্রবাহের সময় নারীদের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব তুলনামূলকভাবে বেশি পড়ে। গৃহস্থালি কাজ ও রান্নার কারণে তারা অতিরিক্ত তাপের মুখোমুখি হন, যা তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকির পাশাপাশি জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতার (জিবিভি) শিকার হওয়ার আশঙ্কাও বাড়িয়ে দেয়। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই এই কর্মশালার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের (ইউএনএফপিএ) সহায়তায় পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড অ্যাকশন নেটওয়ার্ক (প্রান) এবং অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ যৌথভাবে এ কর্মসূচির আয়োজন করে। এতে সমাজসেবা অধিদপ্তর পরিচালিত পল্লী মাতৃকেন্দ্রের (আরএমসি) ১০০ জন নারী সদস্য এবং উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের কর্মকর্তারা অংশ নেন।
কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন সুবর্ণচর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ছেনমং রাখাইন।
এতে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন নোয়াখালী জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক জেড. এম. মিজানুর রহমান খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন একই কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক (কার্যক্রম ও সামাজিক নিরাপত্তা শাখা) মোহাম্মদ আবদুর রহমান, সুবর্ণচর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোহাম্মদ নুরুন নবী এবং প্রাণ-এর প্রোগ্রাম কো–অর্ডিনেটর উম্মে সালমা পপি। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রাণের জিবিভি প্রকল্পের ডব্লিউএলসিসি ম্যানেজার শামীমা আক্তার অর্না।
কর্মশালায় বক্তারা তাপদাহ ও সহিংসতা থেকে বাঁচার উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তাপপ্রবাহ মোকাবিলায় নারীদের পর্যাপ্ত পরিমাণে বিশুদ্ধ পানি পান করা, কাজের ফাঁকে নিয়মিত বিশ্রাম নেওয়া, হালকা ও আরামদায়ক সুতির পোশাক পরা এবং কাজের সময়সূচি সামঞ্জস্য করার পরামর্শ দেওয়া হয়। পাশাপাশি জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতার শিকার হলে কোথায় এবং কীভাবে দ্রুত সহায়তা পাওয়া যায়, সে লক্ষ্যে ‘জিবিভি রেফারেল পাথওয়ে’ সম্পর্কেও তাদের ধারণা দেওয়া হয়।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, উপকূলীয় এলাকা সুবর্ণচরে তাপপ্রবাহের তীব্রতা বাড়ার কারণে নারীরা দ্বিগুণ ঝুঁকিতে পড়ছেন। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় নারীদের সচেতন করার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে কার্যকর চিকিৎসাসেবা ও আইনি সহায়তা কাঠামো গড়ে তোলার বিকল্প নেই।
এ ছাড়া জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে নারীর শিক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে বক্তারা বলেন, পরিবারের ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েদেরও অন্তত দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করানো একান্ত প্রয়োজন। কারণ, একজন শিক্ষিত নারীই পারেন তার পরিবারকে সুন্দরভাবে পরিচালনা করতে এবং নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন থাকতে।
কর্মশালার শুরুতে অংশগ্রহণকারী নারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রাথমিক উপকরণ হিসেবে হাতপাখা, গামছা ও সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়। এ ছাড়া সুবর্ণচরে পল্লী মাতৃকেন্দ্রগুলোকে (আরএমসি) আরও কার্যকর ও স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে ১০টি কেন্দ্রের সভানেত্রীদের হাতে হোয়াইটবোর্ড, বিছানা, রেজিস্টার খাতাসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় স্টেশনারি উপকরণ তুলে দেওয়া হয়।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, এসব উপকরণ মাতৃকেন্দ্রগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রমকে আরও বেগবান করার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে নারীর ক্ষমতায়ন ও সহিংসতা প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









