ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামের উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে প্রায় তিন মাসে হাসপাতালটিতে হাম-উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্য দাঁড়িয়েছে ৫০ জনে।
রবিবার (১৪ জুন) দুপুরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘন্টায় মারা যাওয়া শিশুটি ১০ মাস বয়সী ছেলে। তার বাড়ি কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলায়। গত ২ জুন সন্ধ্যা ৭টা ৩৫ মিনিটে তাকে মমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। টানা ১০ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গত শুক্রবার ১২ জুন তার মৃত্যু হয়।
গত ২৪ ঘন্টায় হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ১৯ শিশু ভর্তি হয়েছেন। তবে এই সময়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরেনি কেউ। বর্তমানে হাসপাতালটিতে সর্বমোট ১০০ জন হাম রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
গত ১৭ মার্চ থেকে আজ রবিবার পর্যন্ত হাসপাতালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সর্বমোট ২ হাজার ৬২ জন হাম আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ১ হাজার ৯১২ জন। তবে এর বিপরীতে মৃত্যুর হার অর্ধশত স্পর্শ করায় উদ্বিগ্ন চিকিৎসক ও অভিভাবকেরা।
সম্প্রতি গাজীপুর শ্রীপুরের গড়গড়িয়া মাস্টার বাড়ির বাসিন্দা চা দোকানি পারভেজ মোশাররফের সন্তান রাফসান জ্বর ও নিউমোনিয়া দেখা দিলে দেয়। ২৬ এপ্রিল হামের টিকা দেওয়ার পর ফের তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। মাওনা বেসরকারি আল হেরা হাসপাতাল থেকে ময়মনসিংহ মেডিকেলে তাকে রেফার্ড করা হয়। এরপর থেকে হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে ছিল শিশুটি। কিন্তু শেষ রক্ষা আর হলো না।
সন্তান হারানো বাবা পারভেজ মোশাররফের বুকফাটা আর্তনাদে ভারি হয়ে উঠে হাসপাতাল। বিলাপ করে তিনি বলছিলেন, ছেলেকে বাঁচাতে চেষ্টার কমতি রাখিনি। আক্ষেপ শুধু একটাই, যদি একটা আইসিইউ থাকত, তাহলে হয়তো আমার কোল খালি হতো না। বিভাগীয় শহরের হাসপাতালে আইসিইউ থাকবে না, এটা মেনে নেওয়া যায় না।
শিশুদের আইসিইউ না থাকায় হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন শিশুদের যখন অতিরিক্ত শ্বাসকষ্ট শুরু হয় এবং আইসিইউয়ে নিয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা সৃষ্টি হয়, তখন বিকল্প হিসেবে বাবল সিপ্যাপ ব্যবহার করার কথা জানান ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ও হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডের দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক মাজহারুল আমিন।
তিনি বলেন, ‘‘বাবল সিপ্যাপ তৈরিতে সরকার প্রশিক্ষণ দিয়েছে এবং বাবল সিপ্যাপ সরবরাহ করেছে। নির্দেশনা অনুযায়ী যে বাচ্চাদের অতিরিক্ত শ্বাসকষ্ট হচ্ছে, স্বাভাবিক অক্সিজেনে যাদের অক্সিজেন স্যাচুরেশনের মাত্রা কমে যায়, সেই বাচ্চাদের সাধারণত বাবল সিপ্যাপ দিয়ে থাকেন।’’
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান বলেন, ‘‘হাম আক্রান্ত শিশুদের জীবন বাঁচাতে আমাদের চিকিৎসকেরা দিনরাত সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। দুর্ভাগ্যবশত, হাসপাতালে আসা রোগীদের একটি বড় অংশই একদম শেষ মুহূর্তে, যখন পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল হয়ে পড়ে, তখন ভর্তি হচ্ছে। সর্বশেষ মারা যাওয়া শিশুটির ক্ষেত্রেও হামের পাশাপাশি নিউমোনিয়া এবং সেপটিক শকের মতো মারাত্মক জটিলতা ছিল।’’
শিশুদের তীব্র জ্বর এবং শরীরে র্যাশ বা গুটি দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত কাছের স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা হাসপাতালে নিয়ে আসার জন্য অভিভাবকদের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. মো. জাকিউল ইসলাম বলেন, ‘‘আমরা আইসিইউ'র জন্য আবেদন করেছি। সরকার থেকে বরাদ্ধ পেলেই আইসিইউ স্থাপন করা হবে। তবে, এতে জনবল সঙ্কটসহ বিভিন্ন সমস্যা রয়েছে। তা নিয়ে আমরা কাজ করছি।’’


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









