ঝিনাইদহের মহেশপুরে রাস্তা নির্মাণে নিম্নমানের ইট ও ইটের খোয়া ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের (এলজিইডি) লোকজনকে ‘ম্যানেজ’ করে ঠিকাদার দায়সারাভাবে রাস্তার কাজ করছেন। নিম্নমানের ইট ও ইটের খোয়া না দেওয়ার বিষয়ে একাধিক বার বললেও কেউই তাদের কথা শোনেনি।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তর (এলজিইডি) থেকে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গ্রামীণ সড়ক মেরামত ও সংরক্ষণ এর আওতায় উপজেলার নাটিমা ইউনিয়নের তালপট্রির মোড় থেকে মান্দারতলা অভিমুখ পর্যন্ত ১১৭০ মিটার রাস্তা প্রায় ৪৪ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণের কাজ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স শেখ ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল নামে একটি প্রতিষ্ঠান।
শুরু থেকেই নিম্নমানের কাজ হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেন মুখে কুলুপ এঁটে আছেন। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হলেও ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছে না।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নিম্নমানের ইট ও ইটের খোয়া ব্যবহার করা হচ্ছে রাস্তা নির্মাণে। যার মধ্যে বেশির ভাগ ইট ২ নম্বর ও ৩ নম্বর। আর এসব নিম্নমানের ইট প্রকাশ্যেই ব্যবহার করছেন রাস্তা নির্মাণে। তবে স্থানীয়রা একাধিকবার বাধা দিলেও তাদের কোনো কথাই শোনেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
স্থানীয় ইউপি সদস্য রিপন হোসেন জানান, একেবারেই নিম্নমানের ইটের খোয়া দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়রা নিম্নমানের কাজে বাধা ও কাজ বন্ধরে দাবি জানালেও তাদের কোনো কথাই শোনেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
স্থানীয় বাসিন্দা হযরত আলী, হোসেন আলীসহ একাধিক ব্যক্তি জানান, আমরা একাধিকবার বাধা দিয়েছি নিন্মমানের ইট রাস্তায় না দিতে। কিন্তু তারা আমাদের কোনো কাথাই শোনেননি।
তারা আরও বলেন, ‘‘এ পথে ট্রাক বা অন্য যানবাহন যাতায়াত করলে অল্প কয়েক দিনের মধ্যে রাস্তাটির অস্তিত্ব থাকবে না।’’
কাজের দেখভালের দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারী প্রকৌশলী আলমগীর হোসেন বলেন, ‘‘রাস্তায় নিম্নমানের ইটের আদলা ও খোয়া ব্যবহারের কারণে কাজ বন্ধ করে দিয়েছি। এবং নিন্মমানের নির্মাণ সামগ্রী অপসারণের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে চিঠি করা হয়েছে।’’
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স শেখ ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী রাব্বি বলেন, ‘‘রাস্তায় কাজে কোন ২ নম্বর ইট ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে না। রাস্তা নির্মাণ কাজ এক নম্বর ইট দিয়ে করা হচ্ছে এর মধ্যে হয়তো ২ এক পিচ দুই নম্বর ও তিন নম্বর ইট থাকতে পারে।’’
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) মো. আবুল ফয়েজ বলেন, ‘‘রাস্তায় দেওয়া নিম্নমানের ইট ও ইটের খোয়া অপসারণের জন্য ঠিকাদারকে বলা হয়েছে। এবং স্থানীয়দের বলে এসেছি যাতে কোন ভাবে ঐ রাস্তা রুলার না করে সেদিকে লক্ষ রাখতে।’’


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









