হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জে অতিবৃষ্টি ও ভয়াবহ জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি অনুদান বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠেছে। প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বাদ দিয়ে স্থানীয় প্রভাবশালীদের স্বজন এবং অ-কৃষকদের অনুদানের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অনুদানপ্রাপ্তদের তালিকায় এমন অনেকের নাম রয়েছে, যাদের জমির কোনো ক্ষতি হয়নি। এমনকি কৃষিকাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন, এমন ব্যক্তিরাও সরকারি সহায়তা পেয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে যাদের ফসল সম্পূর্ণভাবে পানিতে তলিয়ে গেছে, তাদের অনেকেই কোনো সহায়তা পাননি। পরিস্থিতির কারণে অনেক ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক প্রকাশ্যে কথা বলতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন।
উপজেলার পাটুলিপাড়া গ্রামের কৃষক কাইয়ুম মিয়া বলেন, “আমি হতদরিদ্র মানুষ। আমার দেড় একর জমির ফসল পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে। কিন্তু কোনো অনুদান পাইনি। অথচ যারা চাষাবাদই করেনি কিংবা যাদের জমি ডুবেনি, তারা অনুদান পেয়েছে। রাজনৈতিক ও প্রভাবশালী মহলের কারণে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা বঞ্চিত হয়েছেন।”
একই গ্রামের কৃষক নজরুল মিয়া অভিযোগ করে বলেন, “কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ও সংশ্লিষ্টদের ম্যানেজ করে নিজেদের পছন্দমতো তালিকা তৈরি করেছেন।’’
তিনি আরো অভিযোগ করেন, ‘‘কৃষি বিভাগের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা সরেজমিনে দেখেও আমার নাম তালিকায় রাখেননি। অথচ যাদের কোনো ক্ষতি হয়নি, তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।’’
জলসুখা ইউনিয়নের মাধবপাশা গ্রামের কৃষক ফজলু মিয়া বলেন, ‘‘জমিতে আবাদ করেছিলাম। সবই পানিতে তলিয়ে গেছে। কিন্তু অনুদানের তালিকায় আমার নাম নেই। যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি, তারা সহায়তা পেয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত কৃষকদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।”
উপজেলার বদলপুর ইউনিয়নের নিজাম্মল সূত্রধর জানান, তিন একর জমির ধান নষ্ট হলেও অনুদানের জন্য কোনো জনপ্রতিনিধি বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি তাদের তথ্য সংগ্রহ করেননি। অথচ অন্য অনেকের জাতীয় পরিচয়পত্র ও তথ্য নেওয়া হয়েছে।
একই ইউনিয়নের দিগলবাগ গ্রামের বর্গাচাষি সন্তোষ চন্দ্র দাস বলেন, ‘‘আমার দুই একর জমির বোরো ধান তলিয়ে গেছে এবং নাম ও জাতীয় পরিচয়পত্র নেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কোনো অনুদান পাইনি।’’
ভুক্তভোগী কৃষকরা অভিযোগ করেন, সঠিক জরিপ ও যাচাই-বাছাই ছাড়াই তালিকা প্রস্তুত করায় সরকারের সহায়তা কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়েছে। তারা তালিকা পুনঃতদন্ত করে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের অনুদানের আওতায় আনার দাবি জানান।
অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন বলেন, “উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে যথাযথ যাচাই-বাছাই করে তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে।’’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম রেজাউল করিম বলেন, ‘‘এ বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









