পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় প্রতি ঘণ্টায় লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবনে স্থবিরতা নেমে এসেছে। ফলে ব্যহত হচ্ছে ব্যবসা-বাণিজ্য, অফিস আদালতের কাজ। বিপাকে পড়েছেন শিক্ষার্থীরাও। দিনে কিছুটা বিদ্যুতের দেখো মিললেও রাত ৯টার পরে দেখা যায় তার আসল রূপ। বিদ্যুৎবিহীন সারারাত গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়ে উপজেলাবাসী।
এছাড়া ঘনঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে পৌর শহরের পানি উত্তোলন ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে। এতে খাবার পানির সংকট এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে অচলাবস্থার শঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে কবে নাগাদ বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য দিতে পারেননি মঠবাড়িয়া পল্লী বিদ্যুৎ অফিস।
মঠবাড়িয়া পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডিজিএম আমিনুল ইসলাম সুমন জানান, জাতীয় গ্রিড থেকে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে, সে অনুযায়ীই বিতরণ করা হচ্ছে। মঠবাড়িয়া জোনাল অফিসের আওতায় ১৮ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা থাকলেও বর্তমানে মাত্র ৫ থেকে ৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। কয়েক দিন ধরেই এমন পরিস্থিতি চলছে।
তিনি জানান, দিনের প্রায় ১২ ঘণ্টার মধ্যে গড়ে ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। সন্ধ্যার পরও একই অবস্থা বিরাজ করছে। এমনকি রাত ২টা পেরিয়েও লোডশেডিং অব্যাহত থাকছে। উপজেলার সাবস্টেশনের আওতাধীন সাতটি ফিডারের মধ্যে ৩ নম্বর ফিডারের আওতায় রয়েছে উপজেলার ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রাণকেন্দ্র পৌরসভা এলাকা। এছাড়া অধিকাংশ ব্যাংক ও সরকারি দপ্তরও এই ফিডারের অন্তর্ভুক্ত।
ব্যবসায়ী গাজী মাসুদ বলেন, ‘‘সকাল ৯টায় দোকান খোলার পর থেকে বিকেল ৫টার মধ্যে সাত থেকে আটবার বিদ্যুৎ গেছে। প্রতিবার প্রায় এক ঘণ্টা করে বিদ্যুৎ ছিল না। এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকলে পরের ঘণ্টায় নেই। এভাবে চললে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন।’’
৫৬ নম্বর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আদনান আহনাফ জানান, ঘনঘন লোডশেডিংয়ের কারণে পড়াশোনায় সমস্যা হচ্ছে। দিনে-রাতে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় ঠিকমতো পড়তে পারছি না। গরমে বসে থাকাও কষ্টকর হয়ে যায়।
মঠবাড়িয়া পৌর সভার পৌর প্রশাসক আকলিমা আক্তার বলেন, ‘‘খাবার পানি সরবরাহের জন্য ভূগর্ভ থেকে পানি উত্তোলন করতে হয়। পানি উত্তোলন ও সরবরাহে ব্যবহৃত পাম্প বিদ্যুৎচালিত। বেশ কয়েক দিন ধরে নিরবচ্ছিন্নভাবে পাম্প চালানো যাচ্ছে না, ফলে পানি সরবরাহেও সমস্যা হচ্ছে।’’
মঠবাড়িয়া পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডিজিএম আমিনুল ইসলাম সুমন বলেন, ‘‘প্রতি ঘণ্টায় বিদ্যুতের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে ওঠানামা করছে। চাহিদার তুলনায় কম বিদ্যুৎ পাওয়ায় বাধ্য হয়ে লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষ যেমন ভোগান্তিতে পড়ছেন, তেমনি আমরাও সমস্যার মধ্যে রয়েছি।’’


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









