পাবনার আতাইকুলায় এক স্কুল শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ ও শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগে যুবদল নেতা আবুল কাশেমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে অসামাজিক কাজে লিপ্ত থাকার অভিযোগে তাকে দল থেকেও বহিষ্কার করা হয়েছে।
সোমবার (১৫ জুন) ভোরে সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে আতাইকুলা থানা পুলিশের একটি টিম।
গ্রেপ্তারকৃত আবুল কাশেম পাবনার আতাইকুলা থানার আড়িয়াডাঙ্গী গ্রামের মৃত নিজামুদ্দিন শেখের ছেলে। তিনি আর-আতাইকুলা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
অভিযান ও গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আতাইকুলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মজিবর রহমান।
তিনি জানান, তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ রবিবার (১৪ জুন) সারারাত অভিযান পরিচালনা করে। এরপর সোমবার ভোরে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর থেকে আসামিকে গ্রেপ্তার করে আনা হয়। এই বিষয়ে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ জুন স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে ৭ম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ ওঠে আবুল কাশেমের বিরুদ্ধে। এই ঘটনার পরদিন ১২ জুন শিক্ষার্থীর মা বাদী হয়ে কাশেম শেখকে অভিযুক্ত করে আতাইকুলা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।
এদিকে এই ঘটনার প্রতিবাদে ও অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের দাবিতে গতকাল রবিবার (১৪ জুন) সকালে স্থানীয়রা মানববন্ধন করেন। একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতা অভিযুক্তের বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে।
অন্যদিকে দলীয় শৃঙ্খলা ও অসামাজিক কাজে লিপ্ত থাকার অভিযোগে আবুল কাশেমকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। রবিবার রাতে ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি এহতাশামুল হক রাজিব এবং সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল সরদারের স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তাকে দলীয় সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। একই সাথে তার সঙ্গে কোনো ধরনের সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার জন্য দলীয় নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









