গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকার ‘পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কৃষি পুনর্বাসন সহায়তা খাতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় গাছের চারা বিতরণ কার্যক্রম ও ক্লাইমেট স্মার্ট কৃষি প্রযুক্তি মেলার উদ্বোধন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৬) জুন বেলা সাড়ে ১১ টায় উপজেলা পরিষদ চত্তরে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাগুফতা হক।
এ সময় ৪০০ জন কৃষক-প্রতিষ্ঠানের মাঝে নারিকেল চারা, ৩২৪ জন কৃষক-প্রতিষ্ঠানে ফলের চারা এবং ২৫০ জন কৃষক-প্রতিষ্ঠানে ঔষধি গাছের চারা বিতরণ করা হয়। এছাড়াও প্রত্যেক কৃষক ৫টি করে চারা, ২০ কেজি জৈবসার ও ৫টি বাঁশের খুঁটি এবং প্রতিটি প্রতিষ্ঠান ১০টি করে চারা, ৪০ কেজি জৈবসার ও ১০টি করে বাঁশের খুঁটি পাবেন।
উপজেলা কৃষি অফিসার দোলন চন্দ্র রায়, সিনিয়র উপজেলা মৎস্যা অফিসার এস এম শাহজাহান সিরাজ, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার দেবাশীষ দাস, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল বসার হাওলাদার, বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষকগণ ও গণ্যমান্য ব্যাক্তিবর্গসহ উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
৯৭৪ জন কৃষক-প্রতিষ্ঠানের মাঝে মোট ৪ হাজার ৮৭০টি বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা বিতরণ করা হবে। এছাড়াও খরিফ-২ মৌসুমে উফশী রোপা আমন ধানের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ৬০০ জন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে প্রণোদনা ও পূর্নবাসন কর্মসূচির আওতায় বিনামূল্যে বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ করা হবে। প্রত্যেক কৃষক ৫ কেজি আমন ধানের বীজ, ১০ কেজি ডিএপি সার ও ১০ কেজি এমওপি সার পাবেন।
পরে উপজেলার ধারাবাশাইল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে কৃষিকে আরও আধুনিক, টেকসই ও লাভজনক করার লক্ষ্যে কোটালীপাড়া উপজেলায় ‘ক্লাইমেট স্মার্ট কৃষি প্রযুক্তি-২০২৬’র উদ্বোধন করা হয়।
মেলায় ক্লাইমেট এগ্রিকালচার অ্যান্ড ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট প্রকল্পের কৃষি প্রযুক্তি মেলায় মোট ১২টি স্টল ছিল। উক্ত মেলায় কৃষি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আধুনিক প্রযুক্তি স্টল আকারে প্রদর্শন করা হয়।
মেলা উদ্বোধন শেষে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সাগুফতা হক বলেন, ‘‘জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় কৃষিকে টেকসই ও লাভজনক করতে ক্লাইমেট স্মার্ট কৃষি প্রযুক্তির বিকল্প নেই। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, উন্নত চাষাবাদ পদ্ধতি এবং কার্যকর পানি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও কৃষকদের জীবনমান উন্নয়নে এ ধরনের মেলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’’
উপজেলা কৃষি অফিসার দোলন চন্দ্র রায় বলেন, ‘‘কৃষি স্মার্ট হলে বাংলাদেশও স্মার্ট হবে। আমাদের অর্থনীতির সফলতাকে সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে চাই। কৃষিতে উন্নত প্রযুক্তি সংযুক্ত করতে হবে। কৃষক ও দেশ উভয়কে সমৃদ্ধ করতে হবে। বর্তমান বিশ্বের জলবায়ু যেভাবে পরিবর্তন হচ্ছে সেই জায়গাতে আমাদের প্রতিনিয়ত খাপ খাইয়ে চলতে হচ্ছে। যদি আমরা খাপ খাওয়াতে না পারি তাহলে কৃষিকে এগিয়ে নিতে পারবো না এবং দেশও পিছিয়ে পড়বে। আমরা কৃষককে স্মার্ট করতে চাই। কৃষক যাতে অল্প খরচে অধিক লাভবান হয়, অধিক মুনাফা র্অর্জন করতে পারে সেজন্য কাজ করা প্রয়োজন।’’


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









