গোপালগঞ্জে দুই যাত্রীবাহী বাস ও একটি ট্রাকের ত্রিমুখী সংঘর্ষে একজন নিহত এবং অর্ধশতাধিক যাত্রী আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে অন্তত ৩৫ জনকে গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেল সোয়া ৪টার দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার চেচানিয়াকান্দি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
গোপালগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের ডিএডি শিপলু আহমেদ জানান, ঢাকাগামী সুন্দরবন পরিবহনের একটি বাস অপর একটি জিএমএস পরিবহনকে ওভারটেক করার চেষ্টা করে। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় দুটি বাসই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায় এবং ট্রাকটির পেছনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়।
দুর্ঘটনার পরপরই পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় লোকজন উদ্ধার কাজে অংশ নেয়। আহতদের উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।
নিহত নূর হোসেন (৪৫) কুষ্টিয়া জেলার ভেড়ামারা উপজেলার শোদাগ গ্রামের আজাহার উদ্দিনের ছেলে।
আহত যাত্রীদের অভিযোগ, অতিরিক্ত গতি এবং ওভারটেকের প্রতিযোগিতার কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। দুর্ঘটনার পর ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে প্রায় এক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ ছিল। পরে দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন সরিয়ে নিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
সুন্দরবন পরিবহনের যাত্রী ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার দুলাল মিয়া বলেন, “দুটি বাস দীর্ঘ সময় ধরে পাল্লা দিয়ে চলছিল। দ্রুতগতির কারণে জিএমএস পরিবহনের বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পরে আমাদের বাসটিও পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। এতে দুই বাসের অধিকাংশ যাত্রী আহত হন।
এদিকে, দুর্ঘটনার পর ওই পথ দিয়ে যাওয়ার সময় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহাবুব আনাম।
পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী বলেন, “সড়ক দুর্ঘটনা রোধে শুধু চালক নয়, যাত্রীদেরও সচেতন হতে হবে। চালক অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালাচ্ছেন কি না, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেক করছেন কি না—সেগুলো যাত্রীদেরও খেয়াল রাখতে হবে। প্রয়োজন হলে চালককে সতর্ক করতে হবে। সবাই সচেতন না হলে সড়ক দুর্ঘটনা কমানো সম্ভব নয়।’’


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









