বরগুনায় অর্থনৈতিক শুমারি-২০২৪ এর ন্যাশনাল রিপোর্ট বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস), পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ এবং পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অধীন অর্থনৈতিক শুমারি-২০২৪ প্রকল্পের উদ্যোগে আয়োজিত সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বরগুনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) অনিমেষ বিশ্বাস।
সেমিনারে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. নজরুল ইসলাম মোল্লা, জেলা পরিসংখ্যান কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান, বরগুনা প্রেসক্লাবের সভাপতি হাফিজুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এফ.এম. ফয়সাল, জেলা চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি, বাস মালিক সমিতির সভাপতি, ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতিসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধান, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা।
এছাড়া আমতলী উপজেলা পরিসংখ্যান কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলাম অর্থনৈতিক শুমারির বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বক্তব্য দেন। বরগুনা জেলার ছয় উপজেলার কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও সেমিনারে অংশ নেন।
সেমিনারে জানানো হয়, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) নিয়মিতভাবে জনশুমারি, কৃষিশুমারি ও অর্থনৈতিক শুমারি পরিচালনা করে থাকে। ১৯৮৩ সালে দেশে প্রথম অর্থনৈতিক শুমারি পরিচালিত হয়। সর্বশেষ চতুর্থ অর্থনৈতিক শুমারি অনুষ্ঠিত হয় ২০২৪ সালের ১৩ থেকে ২৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত।
বক্তারা জানান, অর্থনৈতিক শুমারির মূল উদ্দেশ্য হলো দেশের কৃষি বহির্ভূত অর্থনীতির কাঠামোগত পরিবর্তন সম্পর্কিত নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান প্রস্তুত করা। পাশাপাশি জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক নির্দেশিকা অনুযায়ী তথ্য সংগ্রহ ও প্রকাশ, জাতীয় শিল্পনীতি-২০২২ অনুসারে অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বৃহৎ, মাঝারি, ক্ষুদ্র, মাইক্রো ও কুটির শিল্পে শ্রেণিবিন্যাস এবং পরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্যভান্ডার তৈরি করা।
সেমিনারে আরও জানানো হয়, ২০২৪ সালের অর্থনৈতিক শুমারিতে ট্যাবলেট ও জিপিএস প্রযুক্তির মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করায় তথ্যগত ভুলের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ২০১৩ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সময়ে বিভাগভিত্তিক অন্তর্বর্তীকালীন প্রবৃদ্ধির হার সবচেয়ে বেশি ছিল বরিশাল বিভাগে, যা ৭৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ। অন্যদিকে সবচেয়ে কম প্রবৃদ্ধি হয়েছে ময়মনসিংহ বিভাগে, যার হার ২৩ দশমিক ০৪ শতাংশ।
বক্তারা বলেন, দেশের অর্থনীতিতে সেবা খাতের অবদান ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং টেকসই অর্থনৈতিক পরিকল্পনা প্রণয়নে অর্থনৈতিক শুমারির তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
সভাপতির বক্তব্যে অনিমেষ বিশ্বাস জানান, এই শুমারির মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্য বরগুনার অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও সম্ভাবনার একটি স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরেছে। গ্রামীণ ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে ঋণপ্রাপ্তি এবং অবকাঠামোগত সুবিধা বৃদ্ধি করা গেলে জেলার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে। এই তথ্যভিত্তিক ডেটা ব্যবহার করে পরিকল্পিত উদ্যোগ ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে বরগুনার অর্থনৈতিক উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত করা সম্ভব বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









