সিলেটের জকিগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশের পর গত তিন দিন ধরে ডিপজল আহমদ (২৫) নামে এক বাংলাদেশি যুবক নিখোঁজ রয়েছেন।
সোমবার (১৫ জুন) রাতে উপজেলার উত্তরকুল সীমান্ত দিয়ে ডিপজল আহমদ ভারতে প্রবেশ করেন।
স্থানীয়দের দাবি, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে তিনি নিহত হয়েছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সীমান্ত এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসন একযোগে কাজ করছে। নিখোঁজ ডিপজল আহমদ জকিগঞ্জের বারঠাকুরী ইউনিয়নের দিগালিগ্রামের বাসিন্দা।
স্থানীয় ও নিখোঁজের সঙ্গীদের সূত্রে জানা যায়, সোমবার (১৫ জুন) রাতে ডিপজল আহমদসহ কয়েকজন যুবক সীমান্তের ওপারে ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেন। ফেরার পথে বিএসএফ সদস্যরা তাদের ধাওয়া করে। এ সময় বাকিরা বাংলাদেশে ফিরে আসতে সক্ষম হলেও ডিপজল নিখোঁজ হন। তার সঙ্গীদের দাবি, বিএসএফের গুলিতে ডিপজল নিহত হয়েছেন। তবে বিএসএফ এই দাবি অস্বীকার করছে।
এদিকে ডিপজলের নিখোঁজের ঘটনায় স্থানীয় জনতা মঙ্গলবার (১৬ জুন) এক ভারতীয় নাগরিককে সীমান্ত এলাকা থেকে তুলে নিয়ে আসে। বুধবার (১৭ জুন) বিজিবির মধ্যস্থতায় ওই ভারতীয় নাগরিককে বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
বারঠাকুরী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মহসিন মর্তুজা চৌধুরী টিপু অভিযোগ করেন, বিএসএফ প্রথমে স্বীকার করেছিল যে তারা মরদেহ হস্তান্তর করবে। কিন্তু তাদের নাগরিককে ফেরত পাওয়ার পর এখন তারা ডিপজলের নিখোঁজ বা মৃত্যুর বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতি নিরসনে বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে আড়াই ঘণ্টাব্যাপী পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে দীর্ঘ এই বৈঠকেও নিখোঁজ যুবকের কোনো সন্ধান মেলেনি।
এ প্রসঙ্গে জকিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (১৯ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জুবায়ের আনোয়ার সংবাদমাধ্যমকে জানান, ডিপজলের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় বিএসএফের সঙ্গে কয়েক দফা যোগাযোগ ও পতাকা বৈঠক হয়েছে। তবে বৃহস্পতিবার আড়াই ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে বিএসএফ দাবি করেছে— সীমান্তের ওপারে কোনো গুলির ঘটনা কিংবা ডিপজলের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে তাদের কাছে কোনো তথ্য নেই।
এ দিকে যুবকের সন্ধান না মেলায় বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সন্ধ্যায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ফের উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের আশ্বাসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
বারঠাকুরী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মহসিন মর্তুজা চৌধুরী টিপু জানান, পরিস্থিতি শান্ত রাখতে শুক্রবার (১৯ জুন) স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করবে।
এ বিষয়ে জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক জানান, স্থানীয়দের মুখে একজন বাংলাদেশি যুবককে গুলি করে হত্যার দাবির কথা শোনা গেলেও, এখন পর্যন্ত থানায় আনুষ্ঠানিক কোনো অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। নিখোঁজ যুবকের সন্ধানে সীমান্ত এলাকায় বিজিবির নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









