কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের ব্রহ্মপুত্র নদ-বিচ্ছিন্ন গোয়ালপুরী চরে নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। গত সাত দিনে অন্তত ৩০টি পরিবার তাদের বসতভিটা হারিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে আরও প্রায় ১০০টি পরিবার চরম হুমকির মধ্যে রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বাসিন্দারা।
ভারতের আসাম সীমান্তঘেঁষা গোয়ালপুরী চরে একসময় প্রায় ৪০০ পরিবারের বসবাস ছিল। তবে দীর্ঘদিনের অব্যাহত নদীভাঙনের কারণে ইতোমধ্যে প্রায় ১৫০টি পরিবার এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে।
স্থানীয় ওয়ার্ড সদস্য আনোয়ার হোসেন জানান, গত সাত দিনে নতুন করে ৩০টি পরিবার বসতভিটা হারিয়েছে। যেভাবে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে, তাতে গোয়ালপুরী এলাকার আরও প্রায় ১০০টি পরিবার যেকোনো সময় গৃহহীন হয়ে পড়তে পারে। তিনি বলেন, “ভাঙনের কারণে এলাকার একটি মসজিদ ভেঙে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া গ্রামের কবরস্থানটি ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।”
বসতভিটা হারানো জসীমউদ্দীন ও নূর হোসেন তাদের ক্ষয়ক্ষতির কথা উল্লেখ করে বলেন, জীবনের সব সঞ্চয় দিয়ে ঘর নির্মাণ করেছিলেন, যা কয়েক দিনের ব্যবধানে নদীগর্ভে চলে গেছে। ঘরবাড়ি হারানোর পাশাপাশি তারা এখন তীব্র খাদ্য ও আশ্রয় সংকটে ভুগছেন এবং পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। একই ধরনের দুর্ভোগের কথা জানিয়েছেন পাষাণ মিয়া, মর্তুজ আলী ও খালেক মোল্লাসহ ক্ষতিগ্রস্ত অন্য বাসিন্দারাও।
চর উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদ, কুড়িগ্রাম জেলার সভাপতি অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু বলেন, “ব্রহ্মপুত্র নদে চলমান ভাঙন অব্যাহত থাকলে গোয়ালপুরী চরটি সম্পূর্ণ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে তাৎক্ষণিক ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়। কিন্তু বাংলাদেশে ক্ষতিগ্রস্তরা অনেক ক্ষেত্রেই পর্যাপ্ত সহায়তা পায় না।” তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য জরুরি ভিত্তিতে সরকারি ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানান।
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, “জেলার ৩৬টি পয়েন্টে নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে ২০টি পয়েন্টে ভাঙনরোধে কাজ চলমান রয়েছে। বাকি এলাকাগুলো পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে, ভাঙনকবলিত গোয়ালপুরী চরের বাসিন্দাদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। শেষ আশ্রয়টুকু রক্ষায় অনেকে আগেভাগেই ঘরবাড়ি খুলে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। স্থানীয়রা এই চরের মানুষদের রক্ষার্থে প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









