কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং কৃষকদের জীবনমান উন্নয়নে বর্তমান সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এমপি। তিনি বলেন, ‘‘কৃষকবান্ধব নানা কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে কৃষকদের স্বাবলম্বী করে তোলার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে।’’
শনিবার (২০ জুন) দুপুরে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলা পরিষদ হলরুমে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় খরিপ-২/২০২৬-২৭ মৌসুমে রোপা আমন ধানের আবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধি লক্ষ্যে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিধান কান্তি হালদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম ইলিয়াস। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, কৃষক প্রতিনিধি, সুধীজন এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় নবাবগঞ্জ উপজেলার ৪ হাজার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের প্রত্যেককে বিনামূল্যে ৫ কেজি রোপা আমন ধানের বীজ, ১০ কেজি ডিএপি সার এবং ১০ কেজি এমওপি সার প্রদান করা হচ্ছে। সরকারের এ সহায়তা কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় কমানোর পাশাপাশি আমন ধানের আবাদ সম্প্রসারণ ও উৎপাদন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, ‘‘সরকার শুধু কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড বা কৃষিঋণ সুবিধার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং কৃষকের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে বহুমুখী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।’’
তিনি বলেন, ‘‘সরকারের গৃহীত বিভিন্ন সুবিধা ও প্রণোদনা যেন প্রকৃত কৃষকের কাছে পৌঁছে এবং জনগণ তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হয়, সে বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘চলতি বছরে সারাদেশে প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনা হবে। কৃষকরা যদি সরকারের দেওয়া প্রণোদনা ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার করতে পারেন, তাহলে উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং তাদের আর্থিক অবস্থারও উন্নয়ন ঘটবে। এর ফলে পরিবার, গ্রাম ও ইউনিয়ন পর্যায়ে অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা গড়ে উঠবে এবং খাদ্য আমদানির ওপর নির্ভরশীলতা কমে আসবে।’’
মন্ত্রী বলেন, ‘‘কৃষকরা দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। কৃষির উন্নয়ন ছাড়া টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই কৃষকদের কল্যাণে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির সম্প্রসারণ, উন্নত জাতের বীজ সরবরাহ এবং বিভিন্ন প্রণোদনা কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।’’
অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথি আনুষ্ঠানিকভাবে কৃষকদের মাঝে বীজ ও সার বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









