রংপুরের গংগাচড়ায় তিস্তা নদীর পানির চাপ বাড়তেই দ্বিতীয় তিস্তা সেতু রক্ষা বাঁধে আবারও ভাঙন শুরু হয়েছে। গত বছর নদীগর্ভে বিলীন হওয়া বাঁধের অংশ রক্ষায় এলজিইডির (স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর) ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত বাঁশের পাইলিং এবারও প্রথম বন্যার পানিতেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে নতুন করে প্রায় ২০ মিটার অংশ ভেঙে গেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
শনিবার (২০ জুন) ডালিয়া পানি নিয়ন্ত্রণ ব্যারাজ কর্তৃপক্ষ তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি গেট খুলে দেয়। এরপর নদীর পানি বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলে মহিপুর সেতু রক্ষা বাঁধে ভাঙন দেখা দেয়। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে দ্বিতীয় তিস্তা সেতু ও রংপুর–লালমনিরহাট আঞ্চলিক সড়ক মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে।
স্থানীয়রা জানান, গত বছর দ্বিতীয় তিস্তা সেতু রক্ষা বাঁধের প্রায় ১০০ মিটার অংশ নদীতে বিলীন হয়ে যায়। পরে বাঁধ রক্ষায় এলজিইডির উদ্যোগে বাঁশের পাইলিং নির্মাণ করা হয়। তবে এবারের প্রথম পানির চাপেই সেই পাইলিং ভেঙে গেছে। বর্তমানে সেখানে প্রায় ৩৫ ফুট গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।
এতে রংপুর–লালমনিরহাট আঞ্চলিক সড়কের পাশাপাশি লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের তিন গ্রামের প্রায় ১ হাজার ২০০ পরিবার হুমকির মুখে পড়েছে। এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার মানুষ চলাচল করেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
বাঁধসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা রিপন ও কাইয়ুম বলেন, ‘বছরের প্রথম নদীতে পানি বাড়ল, আর তাতেই ভাঙন শুরু হয়েছে। আমরা সব সময় ভাঙনের আতঙ্কে থাকি।’
স্থানীয় ব্যবসায়ী শাহনাজ বেগম বলেন, ‘এই সড়ক দিয়েই প্রতিদিন শহরে যাতায়াত করি। সেতুটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে আমাদের যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যাবে।’
শিক্ষার্থী বাদশা মিয়া বলেন, ‘আজ কোচিংয়ে যাওয়ার সময় দেখি বাঁধ ভেঙে নদীতে চলে যাচ্ছে।’
স্থানীয় কৃষক খোরশেদ আলী বলেন, ‘বাঁধ ভেঙে গেলে শুধু সেতু নয়, আমাদের আবাদি জমিও নদীতে চলে যাবে। এলজিইডি শুধু আশ্বাস দিয়েছে, কার্যকর কাজ করেনি।’
লক্ষ্মীটারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদী বলেন, ‘বাঁশের পাইলিংয়ের কাজ শুরু হওয়ার সময়ই আমরা বলেছিলাম এটি টিকবে না। সরকারের ১৪ লাখ টাকা অকারণে খরচ হয়েছে। প্রথম পানির চাপেই পাইলিং ভেঙে গেছে, এখন বাঁধও ভাঙছে।’
এ বিষয়ে গঙ্গাচড়া উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী শাহ মো. ওবায়দুল রহমান বলেন, ‘গত বছর ঢাকা থেকে বিশেষজ্ঞ দল এসে পরিদর্শনের পর তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী বাঁশের পাইলিং করা হয়েছিল। এখন যেহেতু ভাঙন দেখা দিয়েছে, আমরা সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাব।’
গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেসমিন আক্তার বলেন, ‘বিষয়টি আমি সরেজমিনে দেখেছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অনুরোধ করব।’
স্থানীয়দের দাবি, দ্বিতীয় তিস্তা সেতু ও আঞ্চলিক সড়ক রক্ষায় এখনই জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









