ভারতের গজলডোবা ব্যারেজের ২০টি গেট খুলে দেওয়ার পর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং ভারি বৃষ্টিপাতে কুড়িগ্রামের প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এর ফলে জেলার বিভিন্ন চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলে পানি ঢুকতে শুরু করেছে। নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ায় চার শতাধিক চরাঞ্চলের পাট, চীনাবাদাম, ভুট্টা ও মরিচের ক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে গেছে।
আজ সোমবার (২২ জুন) সকাল ৯টার তথ্য অনুযায়ী, কুড়িগ্রাম পয়েন্টে ধরলা নদীর পানি ২৪ দশমিক ৩৪ মিটার রেকর্ড করা হয়েছে, যা সকাল ৬টার তুলনায় ৪ সেন্টিমিটার বেশি। তবে এটি এখনও বিপৎসীমার ১ দশমিক ৭১ মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
নুনখাওয়া পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি ২৪ দশমিক ২৭ মিটারে পৌঁছেছে, যা তিন ঘণ্টায় ২ সেন্টিমিটার বেড়েছে। চিলমারী পয়েন্টেও ব্রহ্মপুত্রের পানি ৩ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে ২১ দশমিক ৬৫ মিটার রেকর্ড করা হয়েছে। দুটি পয়েন্টেই পানি বাড়লেও তা এখনও বিপৎসীমার নিচে রয়েছে।
অন্যদিকে, পাটেশ্বরী পয়েন্টে দুধকুমার নদের পানি ২৯ দশমিক ০৩ মিটারে স্থির রয়েছে। তবে তিস্তার কাউনিয়া পয়েন্টে পানি কিছুটা কমে ২৮ দশমিক ৮৬ মিটারে নেমেছে, যা তিন ঘণ্টায় ৩ সেন্টিমিটার হ্রাস পেয়েছে। এছাড়া তালুক শিমুলবাড়ী পয়েন্টে ধরলার পানি ৫ সেন্টিমিটার কমে ২৯ দশমিক ৪৫ মিটারে নেমেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধির কারণে চরাঞ্চলের নিচু জমিগুলো তলিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে এই সময়ে আবাদ করা পাট, ভুট্টা, চীনাবাদাম ও মরিচক্ষেত ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। অনেক এলাকার ঘরবাড়ির আঙিনাতেও পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, "জেলার অধিকাংশ নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেলেও এখনও কোনো পয়েন্টে বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি। তবে উজানের ঢল ও বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে আগামী কয়েকদিন পানি আরও বাড়তে পারে এবং একটি স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কা রয়েছে।"
এদিকে পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে নদীভাঙনপ্রবণ এলাকাগুলোতেও তীব্র উদ্বেগ বাড়ছে। সম্ভাব্য বন্যা ও ভাঙনের আশঙ্কায় চরাঞ্চলের বাসিন্দারা চরম আতঙ্কে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









