দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার পাল্টাপুর ইউনিয়নের ভোগডোমা গ্রামের কৃষক মো. রশিদুল ইসলাম পটল চাষ করে উল্লেখযোগ্য সাফল্যের নজির স্থাপন করেছেন।
মাত্র ৫০ শতাংশ জমিতে পটল আবাদ করে তিনি ইতোমধ্যে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা লাভ করেছেন। তার এই সাফল্য এলাকার অন্যান্য কৃষকদেরও লাভজনক সবজি চাষে আগ্রহী করে তুলেছে।
কৃষক রশিদুল ইসলাম জানান, চলতি মৌসুমে তিনি ৫০ শতাংশ জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে পটল চাষ করেন। জমি প্রস্তুত, বীজ সংগ্রহ, সার প্রয়োগ, সেচ এবং পরিচর্যাসহ পুরো চাষাবাদে তার প্রায় ৬০ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। নিয়মিত পরিচর্যা ও আধুনিক কৃষি ব্যবস্থাপনা অনুসরণের ফলে তিনি আশানুরূপ ফলন পেয়েছেন।
পটল ক্ষেতের পরিচর্যায় শ্রমিক নজরুল ইসলাম ও সামসুল হক নিয়মিত কাজ করেছেন। তাদের শ্রম ও কৃষকের আন্তরিক প্রচেষ্টার ফলেই ক্ষেতে ভালো উৎপাদন নিশ্চিত হয়েছে। স্থানীয় বাজারে পটলের চাহিদা এবং সন্তোষজনক দাম পাওয়ায় উৎপাদিত ফসল বিক্রি করে তিনি প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা লাভ করতে সক্ষম হয়েছেন।
স্থানীয় কৃষক হরমুজ আলী বলেন, ‘‘ধানসহ অন্যান্য প্রচলিত ফসলের তুলনায় পটল চাষে খরচ তুলনামূলক কম হলেও লাভের সম্ভাবনা অনেক বেশি। এ কারণে বর্তমানে অনেক কৃষক লাভজনক সবজি চাষের দিকে ঝুঁকছেন। রশিদুল ইসলামের সফলতা এ অঞ্চলে পটল চাষের নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।’’
বীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘‘বীরগঞ্জ উপজেলায় বিভিন্ন ধরনের নিরাপদ শাকসবজি চাষ হয়ে থাকে, যা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এর মধ্যে রশিদুল ইসলামের পটল চাষে সাফল্য এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।’’
তিনি আরও জানান, বর্তমানে বীরগঞ্জ উপজেলায় প্রায় ১৭ হেক্টর জমিতে পটলের আবাদ হয়েছে। কৃষিপণ্যের সুষ্ঠু বাজার ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে কৃষকরা আরও বেশি লাভবান হবেন এবং সবজি চাষে উৎসাহিত হবেন।
রশিদুল ইসলামের এই সফলতা শুধু তার ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং বীরগঞ্জ অঞ্চলের কৃষকদের জন্য একটি অনুপ্রেরণাদায়ক উদাহরণ। তার দেখানো পথ অনুসরণ করে অনেক কৃষক এখন লাভজনক সবজি চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন, যা স্থানীয় কৃষি অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে সংশ্লিষ্টদের আশা।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









